কপোতাক্ষ নদ দিয়ে অবাধে উত্তোলন করা হচ্ছে হাজার হাজার ঘনফুট বালু

news_2256 

দৈনিকবার্তা-পাইকগাছা (খুলনা), ৪ জানুয়ারি: কপোতাৰ নদীর পাইকগাছা-তালা সীমানত্মবর্তী ঘোষনগর এলাকা থেকে প্রতিদিন অবাধে মেশিন দিয়ে বিপুল পরিমান বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী একটি মহল৷ বাগেরহাটের একটি বালু উত্তোলনকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রতি ফুট বালু ৪.২৫ টাকা দরে বিক্রি করে স্থানীয় বিসত্মীর্ণ নিম্ন এলাকা ভরাট করছে৷ এজন্য তারা কপোতাক্ষের বুকে দু’টি পৃথক নৌকায় দু’টি বড় সাইজের স্যালো মেশিন বসিয়ে পাইপ যোগে প্রতিদিন ৪/৫ হাজার ঘনফুট বালু তুলে নিচ্ছে৷ এতে করে নদীর দু’পাড়ের সমতল ভূমিতে ধ্বস, পরিবেশের হুমকি, বাজস্ব ক্ষতি সহ চলমান ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাৰ খনন প্রকল্প ঐ এলাকায় ব্যাপক ভাবে বাঁধা গ্রস্থ হতে পারে৷ সচেতন এলাকাবাসী অবাধ বালু উত্তোলন বন্ধে সংশিস্নষ্ঠ প্রশাসনের জরুরী হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন৷ জানাগেছে, খুলনার দৌলতপুর এলাকার জনৈক শেখর কুমার সাহা খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার একেবারেই সীমানত্মের ঘোষনগর এলাকার প্রধান সড়কের পাশে সেখানকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছ থেকে প্রায় ৮ বিঘা ডোবা প্রকৃতির জমি ক্রয় করেছেন৷ সূত্র জানায় জমির মালিক সেখানে একটি জুট মিল স্থাপন করবেন৷ ইতোমধ্যে সেখানে মেসার্স এস এন্ড এস জুট ট্রেডিং কোং দৌলতপুর, খুলনা নামের একটি সাইনবোর্ডও উঠানো হয়েছে৷ বর্তমানে ঐ ডোবা এলাকা বালু দিয়ে ভরাট করতে তিনি স্থানীয় কতিপয় মহলকে ম্যানেজ করে বাগেরহাটের মঈন ফারাজীর মালিকানাধীন একটি বালু উত্তোলন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন প্রতি বর্গফুট বালু ৪.২৫ টাকা হারে উত্তোলন পূর্বক ক্রয় করতে৷ ইতোমধ্যে ঐ প্রতিষ্ঠান কপোতাৰ নদীর বুকে দু’টি বড় স্যালোমেশিন ও নৌকা স্থাপন করে গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু করেছেন৷এব্যাপারে বালু উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক কাম প্রধান টেকনিশিয়ন মঈন ফারাজী বলেন, তারা প্রতিদিন ৪/৫ হাজার ঘনফুট বালু তুলতে সক্ষম৷ প্রায় ৮ বিঘার ঐ ডোবা ভরাট করতে তাদের এভাবে প্রায় ২ লব ঘনফুট বালু লাগতে পারে৷ তবে এভাবে বালু তুলতে কোনো সরকারি পারমিট বা অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তারা জানান, এটি তাদের বিষয় না৷ এ প্রসঙ্গে শেখর সাহা জানান, তিনি সব কুল ম্যানেজ করেই বালু তুলছেন৷ বিশেষ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ওসব অনুমতি আছে৷ তবে মালিক পৰের তদারক জনৈক সাজ্জাদ হোসেন দম্ভের সাথে বলেন, ওসব অনুমতি কি কাজে লাগবে? ওরকম ১০টা পত্রিকায় লিখেও তাদের কিছু করা যাবেনা৷ এদিকে ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান কপোতৰ খনন প্যাকেজ প্রকল্পের শেষ বছরে বর্তমানে ঠিক ঐ এলাকায় কাজ চলছে৷ মেশিন দিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনে খনন প্রক্রিয়ার উপর একটি বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে৷ বিশেষ করে প্রকল্পের সীমানার বাইরের সমতল ভূমিতে ভবিষ্যতে ধ্বস লাগতে পারে৷ তাছাড়া ঐ এলাকায় অলিখিত বালু মহল তৈরী করে প্রভাবশালী মহলটি সরকারি অনুমতি না নিয়ে মূলত সরকারকে মোটা অংকের রাজস্ব বঞ্চিত করছে৷ সর্বশেষ এলাকাবাসী তদনত্ম পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের জরুরী হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন৷