ভোলায় ৩১টি ভূয়া মাদ্রাসা: নেই কোন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী

7426043278_4491b00652_z

দৈনিকবার্তা-ভোলা, ৪ জানুয়ারি: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ৩১টি ভূয়া এবতেদায়ি মাদরাসার নামে উপবৃত্তির টাকা নিয়ে কতিপয় কর্মকর্তাদের হরিলুটের ঘটনা ঘটেছে৷এসকল প্রতিষ্ঠানগুলোর কেবল কাগজপত্রে নামে আছে, বাসত্মবে নেই কোন শিক্ষক, নেই কোনো শিক্ষার্থী৷ কয়েকশ ভূয়া ভুতুড়ে নামে বে নামে শিক্ষার্থী দেখিয়ে চলতি বছরের প্রথম তিন কিসত্মিতে এসকল মাদরাসার নামে কয়েক লৰ টাকার উপবৃত্তি বরাদ্দ করে গায়েব করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ এসকল কর্মকা-ের সাথে উপজেলা শিক্ষা অফিস, ব্যাংক কর্মকর্তা ও কথাকথিত এবতেদায়ি মাদরাসা সমিতির নেতারা যোগাযোগের মাধ্যমে এসব টাকা গায়ের করেছেন৷ মন্ত্রণালয় থেকে এসব টাকা বরাদ্দের জন্য সরকারের এমপি মন্ত্রীদের ডিও লেটার জাল-জালিয়াতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে এসকল কর্তদের বিরম্নদ্ধে৷ অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের আগে চরফ্যাশনে স্বতন্ত্র কোনো এবতেদায়ি মাদরাসার অনুকূলে উপবৃত্তির বরাদ্দ ছিলনা৷ কোনো স্বতন্ত্র মাদরাসা চালুও ছিলনা৷ এবতেদায়ি মাদরাসা সমিতির নেতা পরিচয়ে একটি দুর্বৃত্ত চক্র বনও পরিবেশ উপমন্ত্রীর ডিও লেটার জাল-জালিয়াতি করে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নাম সর্বস্ব ৩১টি এবতেদায়ি মাদরাসার অনুকূলে উপবৃত্তির টাকা বরাদ্দপত্র ইস্যু করেন৷এজন্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে চালু আছে কী-না তা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জানাতে চাওয়া হয়েছিল৷ উপজেলা শিক্ষা অফিস মাঠ পর্যায়ে খোঁজ খবর না নিয়ে কথাকথিত এবতেদায়ি মাদরাসা সমিতির নেতাদেও সাথে যোগসাজেসের মাধ্যমে নাম সর্বস্ব ৩১টি প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে চালু আছে বলে প্রতিবেদন প্রদান করেন৷ এতে করে গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যনত্ম প্রথম ৬ মাসের দুই কিসত্মিতে নাম সর্বস্ব ৩১ এবেতেদায়ি মাদরাসায় গড়ে ৪২ হাজার ৫শ টাকা করে উপবৃত্তির বরাদ্দ দেয়া হয়৷ এসব টাকা বরাদ্দ করতে গিয়ে উপজেলার সকল সরকারি ও বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত উপবৃত্তির টাকা কর্তন করা হয়৷ এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরম্ন হলে উপমন্ত্রীর ডিও লেটার জালিয়াতি এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা শুরম্ন হয়৷ সমপ্রতি এ বছরের তৃতীয় কিসত্মির উপবৃত্তির টাকা নিয়ে একইভাবে হরিলুট করা হয়েছে৷ অভিযুক্ত ৩১টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদরাসার অনুকূলে ৩১ হাজার ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪২ হাজার ৫শ টাকা পর্যনত্ম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে৷
গত সপ্তাহে উপজেলাব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি বিরতণকালে এসব মাদরাসার অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া টাকা বিরতণ না করে মাদরাসা সমিতির কর্মকর্তারা ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছেন৷ অগ্রণী ব্যাংক চরফ্যাশন ও শশীভূষণ শাখার ম্যানেজদের ম্যানেজ করে সমিতির সভাপতি রম্নহুল আমিনসহ হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষক নেতা এসকল টাকা আত্মসাত করেছেন৷ কাগুজে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছেন, রসূলপুর সাইয়েদিয়া এবতেদায়ি, মধ্য হাজারীগঞ্জ রহমানিয়া এবতেদায়ি, দক্ষিণ মাদ্রাজ মোহাব্বতিয়া এবতেদায়ি, শশীভূষণ আরব আলী এবতেদায়ি, দক্ষিণ হাজারীগঞ্জ নুরানিয়া এবতেদায়ি, এওয়াজপুর হামিদিয়া এবতেদায়ি, পশ্চিম এওয়াজপুর এবতেদায়ি, ওমরাবাজ হাসিমিয়া এবতেদায়ি, উত্তর চর মানিকা লতিফিয়া এবতেদায়ি, হাজারীগঞ্জ খাসেরহাট এবতেদায়ি, দক্ষিণ চর আইচা টুমচর এবতেদায়ি, এওয়াজপুর হাবিবিয়া এবতেদায়ি, কুকরী মুকরী গাফুরিয়া এবতেদায়ি, কুলসুমবাগ সোবহানিয়া এবতেদায়ি, চর নাজিম উদ্দিন রম্নসত্মম মিয়া এবতেদায়ি, পশ্চিম জিন্নাগড় এবতেদায়ি, মধ্য আবুবকরপুর এবতেদায়ি, উত্তর শিবা দৌলতখান কান্দি এবতেদায়ি, দক্ষিণ আয়েশাবাগ মহব্বত আলী এবতেদায়ি, উত্তর আছলামপুর আব্দুল গণি এবতেদায়ি, আলীগাও ইব্রাহী মিয়া এবতেদায়ি, পশ্চিম ফরিদাবাদ হাসেমিয়া এবতেদায়ি, চর তোফাজ্জল খোরশেদিয়া এবতেদায়ি, ফরিদাবাগ চৌকিদার বাজার এবতেদায়ি, ফরিদাবাদ সিদ্দিকিয়া এবতেদায়ি, চর যমুনা এ রব এবতেদায়ি, চর নুরম্নল আমীন মোহাম্মদিয়া এবতেদায়ি, মধ্য চর নুরম্নল আমীন হোসাইনিয়া এবতেদায়ী, ঘোষেরহাট সুলতানিয়া এবতেদায়ি,পূর্ব চর মাদ্রাজ রাহেলিয়া এবতেদায়ি ও দক্ষিণ চর মঙ্গল লতিফিয়া এবতেদায়ি মাদরাসা৷ এসকল মাদ্রাসার নামে বিপুল পরিমাণ উপবৃত্তির টাকা বরাদ্দ ও আত্মসাত প্রসঙ্গে একাধিক মাদরাসার প্রধান শিক্ষকরা জানান, মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করে উপবৃত্তি বরাদ্দ করতে কয়েক লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে৷

ওই খরব পোষাতে চলতি বছরের (২০১৪) সালের সকল বরাদ্দ সমিতির নেতাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে৷ মাদরাসাগুলোতে নতুন বছরের জানুয়ারি থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরম্ন করা হবে৷ এখন উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনের জন্য ভূয়া ভুতুড়ে শিক্ষার্থীদের নামে বে-নামে উপবৃত্তির সুবিধা ভোগী দেখিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ব্যাংক থেকেই টাকাগুলো সমিতির নেতাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে৷ এব্যাপারে অভিযুক্ত এবতেদায়ি মাদরাসা সমিতির সভাপতি রম্নহুল আমীন কোনো মনত্মব্য করতে অস্বীকার করে বলেছেন, এব্যাপারে ‘উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাই সব ভালো বলতে পারবেন৷ এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জালাল আহমেদ জানান, ‘উপমন্ত্রীর ডিও লেটার জালিয়াতি করলে তার দায় দায়িত্ব জড়িতদেরই নিতে হবে৷মন্ত্রণালয়ের পত্রের আলোকে উপজেলা শিক্ষা অফিস সংশিস্ন্লষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে উপবৃত্তির টাকা বরাদ্দ দিয়েছে৷ কেন্দ্রে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে ওই টাকা তুলে দেয়ার দায়িত্ব ব্যাংক কর্তৃপক্ষের৷ বিতরণে কোনো অনিয়ম হলে তার দায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের৷ এসকল অভিযোগ প্রসংঙ্গে অগ্রণী ব্যাংক চরফ্যাশন শাখার ব্যাস্থাপক গনেশ চন্দ্র দেবনাথ জানান, ‘ব্যাংক থেকে কেন্দ্রভিত্তিক টাকা বিতরণ করা হয়৷ মাঠপর্যায় কী হয় তা আমার জানা নেই৷ প্রতিষ্ঠান এবং ছাত্র-ছাত্রী আছে কী-নাই তা দেখার দায়িত্ব শিক্ষা অফিসের৷ তবে দায়ী ব্যক্তিদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান৷ অপরদিকে জেলার অধিকাংশ উপজেলায় একই রকম আরো অর্ধশত ভূয়া এবতেদায়ি মাদরাসার রয়েছে৷ এসকল প্রতিষ্ঠানগুলোর কাগজপত্রে কেবল নামেই আছে, বাসত্মবে নেই কোন শিক্ষক, নেই কোনো শিক্ষার্থী ও শিৰা প্রতিষ্ঠানের র্কাযক্রম৷ এসকল প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যাচাই বাচাই করে প্রকৃত শিৰা প্রতিষ্ঠানের র্কাযক্রম চলছে এসকল মাদ্রাসা গুলোকে মূল্যায়ন ও ভূয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নত করে সংশিস্নষ্ট কতৃপৰের কাছে যথাযত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী৷