সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন: মাহবুব

khondoka_mahbub_hossain_38422

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৪ জানুয়ারি: এ সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া৷রোববার বেলা তিনটার দিকে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ খালেদা জিয়ার সঙ্গে আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাত্‍ শেষে বেরিয়ে এ কথা জানান সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব৷

আগামীকাল ৫জানুয়ারির কর্মসূচির বিষয়ে আইনি পরামর্শ করতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্‍ করতে গেছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা৷আগামীকাল ৫ জানুয়ারির কর্মসূচির বিষয়ে আইনি পরামর্শ করতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্‍ করতে গুলশান কার্যালয়ে যান সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন৷

এর আগে রোববার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান৷ তবে তার সঙ্গে থাকা প্রতিনিধি দলের বাকি সদস্যদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি৷আইনজীবীদের ওই দলে আরো ছিলেন- সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আ্যাডভোকেট জয়নুল অবেদিন, ঢাকা বারের বর্তমান সভাপতি মহসিন মিয়া, ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ প্রমুখ৷

গুলশানে নিজের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা খালেদা জিয়া সোমবার রাজপথে নামতে অনড় বলে তার সঙ্গে দেখা করে এসে এক সাংবাদিক নেতা জানিয়েছেন৷ তিনি (খালেদা) বলেছেন, আমি এই অবৈধ সরকারেরকোনো আদেশ মানি না৷আমি কাল বেরুব, আমি রাস্তায় নামব, বলেছেন বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী৷শনিবার রাত থেকে গুলশানের কার্যালয়ে পুলিশের বেষ্টনির মধ্যে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে রোববার বিকালে দেখা করে বেরিয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি৷

বিএনপি সমর্থিত সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক রুহুল গাজীর নেতৃত্বে সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, এম এ আজিজ, আবদুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, ইলিয়াস খান, কামার ফরিদ খালেদার সঙ্গে দেখা করে আসেন৷তার আগে বিকল্পধারা সভাপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পুলিশ বাধা দিলেও আইনজীবী নেতাদের একটি দলকে ঢুকতে দেন৷

দশম সংসদ নির্বাচনের বছরপূর্তির দিন ৫ জানুয়ারি বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়ে সেদিন সারাদেশে সমাবেশ ও কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে৷

ঢাকায় বিএনপিকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগও পাল্টা সমাবেশের ঘোষণা দিলে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে পুলিশ সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে৷ সেইসঙ্গে শনিবার রাতে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থানরত রুহুল কবির রিজভীকে বের করে আনার পাশাপাশি গুলশানে খালেদার কার্যালয় ঘিরে ফেলে পুলিশ৷তারপর থেকে সেখানেই অবরুদ্ধ রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন; যদিও পুলিশ দাবি করেছে, তার নিরাপত্তার জন্য এই পদেক্ষপ নেওয়া হয়েছে৷

রুহুল গাজী সাংবাদিকদের বলেন,ম্যাডাম আন্দোলনে সব পেশার মানুষজনকে নামার আহ্বান জানিয়েছেন৷ তিনি বলেছেন, ‘আপনারা গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কর্মসূচির মাধ্যমে এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন৷ সবাই রাজপথে নামুন’৷বিএনপির সমাবেশ কোথায় হবে- জানতে চাইলে রুহুল গাজী সে বিষয়ে কিছু বলেননি৷

এর আগে খালেদার সঙ্গে দেখা করে এসে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গণতন্ত্রের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা চলবে৷ সরকার পতন না হওয়া তা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে৷সাংবাদিক ও আইনজীবী নেতাদের ঢুকতে দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দলকে আটকে দিয়েছে পুলিশ৷

ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক আফম ইউসুফহায়দার,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সৈয়দ কামরুল হাসান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শরীফ উদ্দিন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তারসহ ১০ জন শিক্ষক খালেদার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন৷

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের কার্যালয়ে আসেন খালেদা জিয়া৷নেতা- নেত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেতে চাইলে পুলিশ পথ আটকায়৷রাত পৌনে ১২টার দিকে খালেদা জিয়া গুলশানে নিজের বাসায় যাওয়ার জন্য ব্যারিকেড সরাতে বলেন৷ কিন্তু তা না সরানোয় কিছুক্ষণ গাড়িতে অপেক্ষা করে ফের কার্যালয়ে যান তিনি৷ এরপর সেখানেই তার রাত কাটে৷