সোমবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

pm-new-tm_14275_0_109787_0

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৪ জানুয়ারি: দশমজাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ সব সরকারি ও বেসরকারি সমপ্রচার মাধ্যম তার ভাষণ একযোগে সমপ্রচার করবে৷

তার প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী জানান, সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বেতার ও টেলিভিশনে একযোগে সমপ্রচার করা হবে৷বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের মধ্যে গত বছরের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ৷ব্যাপক সহিসংতার মধ্যে ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ৷ক্ষমতাসীন দলটি এ বছর দিনটি ‘সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষা দিবস এবং বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসাবে পালনের জন্য ঢাকায় কর্মসূচি দিলে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা৷

এই পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগরে রোববার বিকাল থেকে সব ধরনের মিছিল, সভা, সমাবেশ ও জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ৷ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়৷ অব্যাহত সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আয়োজিত ওই নির্বাচনের দিনটিকে সরকার ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ দিবস বলেই উল্লেখ করছে৷আগামীকাল ৫জানুয়ারি৷ পঁচাত্তর পরবতর্ী সময়ে বালাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন৷গত বছরের এদিনে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামীলীগ বিজয়ী হয় এবং তৃতীয়বারের মত সরকার গঠন করে৷

বস্তুত একাত্তরে যে চেতনা এবং রাজনৈতিক শপথে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভু্যদয় ঘটেছিল সেই চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের সমগ্র অর্জন বিলীন করার আকাশ সমান ষড়যন্ত্র থেকে জাতি রক্ষা পায় এদিন৷ জাতির কাছে এ দিন তাই গণতন্ত্রের বিজয় দিবস৷এর আগে ২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্ব্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে জাতীয় সংসদে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাশ হয়৷ তখনকার প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার শরিক জোটগুলো এরপর থেকেই নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালুর দাবিতে আন্দেলন শুরু করে৷

৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশব্যাপী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিশেষ করে ভয়াল নাশকতা, ধ্বংসযজ্ঞ, নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা, লাগাতার অবরোধ-হরতালের নামে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়ে পুরো দেশকেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয় ৷ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যাসহ বাসে-ট্রেনে আগুন, ট্রেনের ফিসপ্লেট খুলে ফেলাসহ এক অরাজক পরিস’িতির সৃষ্টি করে বিএনপি-জামায়াত জোট৷

স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে সাথে নিয়ে ভোটের আগের দিন বিএনপির সন্ত্রাসীরা আগুনে পুড়িয়ে দেয় ১১১টি ভোটকেন্দ্র৷ নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিনতাই হয়, কুপিয়ে হত্যা করা হয় নির্বাচনী কর্মকর্তাকে৷ ভোটের দিনও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রানত্ম হয়েছেন অনেক নির্বাচনী কর্মকর্তা৷ মৃতু্যও বরণ করেছেন কেউ কেউ৷একের পর এক হামলা, গাড়িতে অগি্নসংযোগ ও পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, হুমকি-ধামকির পরও জনগণ ২০১৪ সালের এই দিনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রদান করার জন্য ভোটকেন্দ্রে যান৷ আতঙ্ক, ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে শতকরা ৪২ ভাগ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন৷

সে সময় আওয়াম লীগ অভিযোগ করে, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশের নির্বাচন বানচাল করে দেশে সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল৷দেশে আবার ওয়ান-ইলেভেনের’ মতো আরেকটি অগণতান্ত্রিক সরকার তাদের কাম্য ছিল৷দৃঢ়তার সাথে এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে তখন দেশে শানত্মি ফিরিয়ে আনা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও দৃঢ় নেতৃেত্ব সেই চ্যলেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশে সেদিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়৷দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩৪টি আসনে বিজয়ী হয়৷ জাতীয় পার্টি ৩৪টি এবং আওয়ামী লীগের শরিক ওয়াকার্স পার্টি ৬ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ পাঁচটি আসনে বিজয়ী হয়ে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করে৷