রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের নাটক করছেন খালেদা : আ.লীগ

images-(3)

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৫ জানুয়ারি: গুলশান কার্যালয়ের সামনে নিজেরাই ইট ও বালু ভর্তি ট্রাক রেখে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের নাটক করছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলে অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ নেতারা৷সোমবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বিএনপি-জামাতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে জড়ো হয়ে নেতারা এ কথা বলেন৷

কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেই বিএনপি এ কথা উল্লেখ করে নেতারা বলেন, বিএনপি যদি মনে করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরে দেশে গণতন্ত্র নেই তবে এর দায়ভার তাদেরকেই নিতে হবে৷আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, তারা (বিএনপি) গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন করার উদ্যোগ নিয়েছেন, ঘোষণা দিয়ে ছিলেন তারা৷ এছাড়া যে কোনো মূল্যে ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করবেন কিন্তু ঢাকসহ সারা দেশে তাদের এখন খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না৷

তিনি আরো বলেন, রোববার রাতে সন্ত্রাসী কায়দায় কিছু গাড়ি আগুনে পুড়িয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল বিএনপি-জামাত৷দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘বিএনপি-জামাত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাজধানীসহ সারাদেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে৷

গণতন্ত্রের বিজয় দিবস এ আনন্দময় দিনটিকে পালন করছে না৷ আমি আশা করি খালেদা জিয়া দায়িত্বশীল নেত্রী হিসেবে তার কর্মসূচি প্রত্যাহার করে গণতন্ত্রের পথে হাঁটবেন৷এ সময় জনগণের সামনে নাটক করতেই বিএনপি নেত্রী তার গুলশানের কার্যালয়ের সামনে ইট ও বালুভর্তি ট্রাক ফেলে অবরোধ তৈরি করেছে বলে জানান ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া৷মায়া বলেন, খালেদা জিয়া মনে করেছেন বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে ঘরে বসে থাকবেন আর সাধারণ মানুষকে দেখাবে আমাকে বের হতে দেয় না৷ আসলে তো বাড়ি-ঘর মেরামতের জন্য ইট ও বালুভর্তি ট্রাক নিয়ে তিনি বসে আছেন৷তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার সমর্থকরা তাকে জিন্দাবাদ বলে পাকিস্তানের পতাকা দিয়ে নিয়ে যাবে, এ রকম আছে না-কি ঢাকা শহরে৷

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীরা কোথাও কেনো সভা-সমাবেশ করছে না, মিছিলও করছে না৷ নেতাকর্মীরা যার যার জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছে৷

সাধারণ মানুষকে সর্তক করে নেতারা আরো বলেন, বিএনপি-জামাত যানবাহনে আগুন দেয়ার পাশাপাশি মানুষ হত্যার মতো ভয়ঙ্কর অপকর্মে আবারো লিপ্ত হয়েছে৷উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠে৷

এমন পরিস্থিতিতে রোববার বিকেল ৫টা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ রাজধানীতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন, বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে৷

এর আগে সকালে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলে তাদের দল সমাবেশ করার অনুমতি পেতে পারে বলে জানিয়েছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম৷সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের নেতাকর্মীদের সাথে অবস্থানকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন৷
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, লন্ডনে বসে তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানা কটূক্তি করছেন৷ আর দেশে তার মা খালেদা জিয়ার নির্দেশে জনগণের জান-মালের ক্ষতি সাধনে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে৷তিনি বলেন, জনগণের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছে৷ বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, এর দায় তো জনগণ নিতে পারে না৷ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালন করতে চেয়েছিল৷ ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করায় আমরা আমাদের কর্মসূচি বাতিল করেছি৷ আর বিএনপি নেতাকর্মীরা রোববার থেকেই বাসে আগুন দিয়ে জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন৷

এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী কামরম্নল ইসলাম আজ সোমবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নেতা-কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে৷তিনি বলেন, আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি৷ কোথায় কোনো স্লোগান-মিছিল হচ্ছে না৷ এই অবস্থান ডিএমপির নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন নয়৷এসময়ে আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ঢাকা মাহরগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, দপ্তর সম্পাদক সহিদুল ইসলাম মিলন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন৷