গুলশান কার্যালয়ে এখনো অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া

image_171959.11

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৬ জানুয়ারি: গুলশান কার্যালয়ে মঙ্গলবারও অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া৷তবে এখনো কার্যালয়ের সামনে আছে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি৷৫ জানুয়ারিকে ঘিরে যে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়ে ছিল তার অনেকটাই শিথিল হয়ে এসেছে৷ কার্যালয়ের সামনের রাস্তা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বালু ও ইট ভর্তি ট্রাক৷

গতকাল গুলশান কার্যালয়ের গেটে যে তালা লাগিয়ে ছিল পুলিশ তা এখনো খোলেনি৷ কার্যালয়ের ভেতরের কার্যক্রম সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি, তবে গতকাল সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর পাওয়া গেলেও এখন তিনি সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে৷ এখনো কার্যালয়ের মূল গেটের বাইরে পুলিশের দেওয়া তালা ঝুলছে৷

সোমবার বিকেলে গুলশানের নিজ কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন বিএনপি চেয়ারপারসন৷ ওই সময় পিপারস্প্রে ছিটিয়ে দেয় পুলিশ৷এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন খালেদা৷ তবে বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন বলে কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে৷ এর আগে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিএনপি চেয়ারপাসনের ব্যক্তিগত চিকিত্‍সক ডা. শামীমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন৷

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ খান কামাল সোহেল বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) বেশ কিছুদিন ধরে সুস্থ ছিলেন৷ কিন্তু বিকেলে গুলশান কার্যালয়ের সামনে পুলিশের পেপার স্প্রেতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন৷৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বর্ষপূতির দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ ঘোষণা করে রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশের পাশাপাশি সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি নেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট৷ ঢাকার সমাবেশে যোগ দিয়ে নিজে সরকার পতনের এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেন জোট নেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া৷

ঘোষিত কর্মসূচির একদিন আগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত ১১টা ৪০ মিনিট থেকে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবস্থান নেন খালেদা জিয়া৷ সেখান থেকে রাতেই বের হয়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিলে তাকে যেতে দেয়নি পুলিশ৷ এরপর থেকেই গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন খালেদা জিয়া৷ আর তার কার্যালয় ঘিরে রেখেছে পুলিশ৷

খালেদা জিয়াকে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি৷অন্যদিকে ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ রাজধানীর ১৬টি স্পটসহ সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজয় র্যালি ও সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়৷ এ অনুযায়ী সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীজুড়ে অবস্থান নেন সরকারি দলের নেতাকর্মীরা৷

পাল্টাপাল্টি এ কর্মসূচির কারণে রাজধানীতে রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা থেকে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশ (ডিএমপি)৷এদিকে, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে প্রাণনাশের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন৷

তিনি বলেন,বেগম খালেদা জিয়াকে প্রাণনাশের চেষ্টা চালানো হচ্ছে৷ যে কারণে গতকাল বিএনপির গুলশান কার্যালয় থেকে বেগম জিয়া বাইরে বের হতে চাইলেও সরাকারের পুলিশবাহিনী পিপার সপ্রে করে৷

মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলানায়তনে (নিচতলা) দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট বার আ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন৷খন্দকার মাহবুব বলেন, পিপার স্পেৃর কারণে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) শরীর দিন দিন আরো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে৷ তার চিকিত্‍সার জন্য ২ জন ডাক্তার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ এসময় তিনি অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে বের হওয়ার সুযোগ করে দিতে সরাকরের প্রতি আহ্বান জানান৷

সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, সকল ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সত্য ঘটনা প্রকাশ করুন৷একুশে টিভির চেয়ারম্যান আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে এ আইনজীবী বলেন, আব্দুস সালামকে রাতের অন্ধকারে সাদা পোষাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুম করার চেষ্টা করেছিল৷ হয়তো বা সফল হয়নি৷সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি, সম্পাদকসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন৷

অন্য্যদিকে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রবেশ করলেও খালেদার দেখা পেলেন না তাবলিগ জামাতের একটি প্রতিনিধি দল৷ খালেদা জিয়া অসুস্থ বলে এ সময় প্রতিনিধি দলকে জানায় খালেদা জিয়ার অফিসের কর্মকর্তারা৷

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে উপস্থিত হন মাওলানা আব্দুর রহিমের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটি৷এ সময় তাবলীগ জামাতের প্রতিনিধি পরিচয় দিলে ফটকে কর্তব্যরত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের শরীর তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন৷ এর আগেও দুপুর দুইটার দিকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন ওই প্রতিনিধি দলটি৷

জানা গেছে, আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার দাওয়াত দিতে এবং এ ব্যাপারে পরামর্শ নিতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ওই প্রতিনিধি দলটি৷এদিকে দুপুরে ইফতেখার আহমেদ নামের নেতৃত্বে আরও একটি দল তাবলিগ জামাতের পরিচয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে তার কার্যালয়ের মূল ফটকে আসেন৷

এ সময় ইফতেখার আহমেদ জানান, বিশ্ব ইজতেমার দাওয়াত দিতে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতেই খালেদার সঙ্গে সাক্ষাত্‍ করতে আসেন তারা৷ কিন্তু অনুমতি না থাকায় তিনি এবং তার দলের কেউ ভেতরে ঢুকতে পারেননি বলে জানান ইফতেখার৷

তবে তিনি তাবলিগ জামায়াতের কোন পদে আছেন বা তাকে কারা পাঠিয়েছেন এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি ইফতেখার৷