সরকারের সাফল্য ব্যর্থতায় পার হলো ১০ম সংসদের একবছর

a-sheikh-hasina-story_650_011214033817_011314023601

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৬ জানুয়ারি: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তি পার করছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার৷ গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সরকারি হিসেবে ৪০% ভোটার অংশ নিলেও বিএনপি মনে করে ৫% ভোটও পড়েনি৷ দেশ বিদেশে এ নিয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি কোথাও৷ বরং মিলেছে আন্তর্জাতিক সমর্থনও৷

এই এক বছরে সরকারের সাফল্য ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা সমালোচনার বাইরে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি তেমন কোন আন্দোলনও গড়ে তুলতে পারেনি৷ সব মিলিয়ে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার অনেকটা নির্বিঘ্নেই বছরটি পার করেছে৷

২০০৮ এর ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন পেয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করেছিল৷ সেই সংসদে বিরোধীদলের আসনে ছিল বিএনপি৷ আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বয়কট করায় প্রার্থীর অভাবে ১৫৩টি আসনেই ভোট হয়নি৷ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের ভুমিকায় রয়েছে৷ ওই নির্বাচনের পর অনিশ্চিত রাজনৈতিক অবস্থার মধ্য থেকেও ধীরে ধীরে পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে৷ ৷

নির্বাচনের পরপরই নবীন-প্রবীণদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করে প্রশংসিত হন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা৷গত এক বছরে সরকার বড় ধরণের চাপে না পড়লেও নির্বাচন পরবর্তী গণতন্ত্র হত্যার অভিযোগে বিএনপির আন্দোলনের সঙ্গে জামাতে ইসলামীর সহিংসতা মোকাবেলা করতে হয়েছে সরকারকে৷ এর রেশ না কাটতেই এপ্রিলে র্যাবর হাতে নারায়নগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দেয়৷ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে খুন, গুম অপহরণের ঘটনাও সরকারকে বিব্রত করেছে বারবার৷ আর প্রশ্নপত্র ফাঁস, বিমান বন্দরে একের পর এক সোনা চোরাচালান উদ্ধারের ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়৷ সহযোগি সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে টেন্ডার ও চাঁদাবাজী আর অন্তরকলহে ঘটনা আলোচনায় ছিল বছরজুড়েই৷

এ বছরেই বহুল আলোচিত পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজ শুরুসহ অবকাঠামো খাত হাঁটতে শুরু করেছে উন্নয়নের পথে হেটেছে দেশের অর্থনীতি৷ তেমন কোনো বিনিয়োগ না হলেও বেড়েছে আমদানি-রপ্তানি, মূল্যস্ফিতিও ছিল স্থিতিশিল৷ উন্নতি ঘটেছে বিদু্যত্‍ পরিস্থিতিরও৷প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের মধ্যে যথাসময়ে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ ছিল প্রশংসনীয় উদ্যোগ৷ নির্বাচনী অঙ্গিকার অনুযায়ি ক্রসফায়ার বন্ধ করতে না পারলেও, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চুড়ান্ত পর্বে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আইনের শাসনের প্রতি মানুষে আস্থা বেড়েছে৷

একতরফা নির্বাচন নিয়ে বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক মহলে নানা সমালোচনা হলেও ধীরে ধীরে সবাই মেনে নেয় সরকারকে৷ সমর্থন অব্যাহত থাকে৷ এরই মধ্যে কমনওয়েলথ পার্লামেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরি আর ইন্টার পার্লামেন্ট ইউনিয়েনর নির্বাচনে সভাপতি বিপুল ভোটে জয়ী হন সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরি৷ এ দুটি জয়ের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী ১১টি আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্বাচনে বাংলাদেশ জয়ী হয়৷ কি ঘটেছিল ২০১৪ সালে৷ বেশ ঘটন আর অঘটন নিয়ে বহুল আলোচিত ছিল এ বছরটি৷ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বছর জুড়েই নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে৷ নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় যেমন শিউরে উঠেছে গোটা দেশের মানুষ, তেমনি ব্যবসায়ী আবু বকর অপহরণের ঘটনা তোলপাড় ফেলে দেয়৷ ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজনভ্যানে হামলা করে জঙ্গিরা৷ দণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবির সদস্যদের ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাটিও বেশ আলোচিত৷ বছরের শেষ দিকে এসে নলকূপের পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনা ব্যথিত করেছে দেশবাসীকে৷

আর সব বছরের মতো ২০১৪ সালও কম ঘটনা বহুল ছিল না৷ জঙ্গিদের তত্‍পরতা, হত্যা, খুন, গুম, ক্রসফায়ার আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আলোচনায় ছিল সব সময়ই৷ আর এসবের বাইরে জামাত শিবিরের সহিংসতা ছিল প্রায় বছর জুড়েই৷

এ বছরের শুরুতে আলোচনায় ঠাই পায় ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রকাশ্যে প্রিজনভ্যানে হামলা করে দণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবির সদস্যদের ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা৷ পরে ছিনিয়ে নেয়া মৃতু্যদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে টাঙ্গাইলের সখিপুর থেকে আটক করা হলেও পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুক যুদ্ধে মারা যান সে৷ বাকি দুজনকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ৷এরপর ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিকর অপহরণের ঘটনাও নাড়া দেয় রাষ্ট্রযন্ত্রকে৷ নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা ফেরার পথে ভুঁইগড় এলাকায় অস্ত্রের মুখে অপহৃত হন তিনি৷ একটি ব্যবসায়ী গ্রুপ কোনো একটি বাহিনীকে দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠে৷ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে চাপ দিয়ে ৩৬ ঘন্টা পর তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়৷

একই মাসে ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত এলাকা থেকে সিটি করপোরেশন কাউন্সিলার ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের ঘটনায় তোলপাড় হয় সারাদেশ৷ র্যাব-১১ এর সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে হত্যা করে৷ ৩ দিন পর নারায়ণগঞ্জের শীতালক্ষ্যা নদীতে তাদের মৃতদেহ ভেসে ওঠে৷ শুরুতে র্যাব অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তারা সব স্বীকার করে নেয়৷

বেসরকারি টেলিভিশনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকীকে বছরের ২৭ আগস্ট পূর্ব রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় ঢুকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা৷ এঘটনার পেছনে রয়েছে একদল জঙ্গি৷ তবে এখন পর্যন্ত আটক করা যায়নি খুনিদের৷

আর বছরের শেষে হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনীর পরিত্যাক্ত গভীর নলকূপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃতু্য৷ যা দেশবাসী চোখের জ্বলে ভিজিয়ে রেখে চির বিদায় এ শিশুটি৷ প্রায় ২৪ ঘন্টা চেষ্টা করে যখন ফায়ার ব্রিগেড ব্যর্থ হয় তখনই সফল হয় সাধারণ মানুষ৷ তারাই পরে জিহাদকে উদ্ধার করে তবে মৃত অবস্থায়৷

৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন৷ সরকার ও বিরোধী পক্ষ কৌশলের পর নতুন কৌশল করেন৷ নিজ অবস্থান থেকে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনড় উভয় জোট৷ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও আগামী ৫ জানুয়ারির দিকে দৃষ্টি রাখে৷ কোন কোন ছোট দল ইতিমধ্যে ৫ জানুয়ারি কেন্দ্রীক কিছু কর্মসূচি পালন করার ঘোষনা দেয় ৷ আর সরকার ও বিরোধী জোটে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মরিয়া হয়ে মাঠ চষে বেড়ায়৷ একইদিন আওয়ামী লীগ ও ২০ দল রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউন করতে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে৷

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটসহ দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র হত্যাদিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিলেও আওয়ামী লীগ বলছে এ দিনটি ছিল গণতন্ত্রের বিজয় দিবস৷ আর সে হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৫ জানুয়ারিকে অনেকটা ভিন্ন আঙ্গিকে পালন করার প্রস্তুতি নেয়া হয়৷ আর এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী জোটের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে ৷ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রোববার বিকেল ৫টা থেকে রাজধানীতে সব ধরনের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)৷ শেষ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ সমাবেশ থেকে পিছু হটে কিন্তু গুলশান কার্যালয়ে মঙ্গলবারও অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া৷ তবে এখনো কার্যালয়ের সামনে আছে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি৷

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আর তাকে কেন্দ্র করে নেয়া পুলিশি ব্যবস্তায় হঠাত্‍ করেই অনেকটা গণপরিবহন শূন্য হয়ে পড়েছে রাজধানী৷

সোমবার সকাল থেকে রিঙ্ার পাশাপাশি কিছু সিএনজি চালিত অটোরিকসা ও প্রাইভেট কার চললেও পাবলিক বাসের সংখ্যা একেবারেই কম৷ এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে৷ ঘর থেকে বের হয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ৷ আর এ পরস্থির জন্য রাজনৈক দলগুলোকে দায়ী করেছেন তারা৷ হরতাল-অবরোধেও রাস্তাঘাটের এমন চিত্র সবার কাছে অপরিচিত৷ স্বাভাবিক একটি কর্মদিবসে রাস্তায় রিঙ্া আর কিছু সিএনজি চালিত অটোরিকসা ও প্রাইভেট কার থাকলেও পাবলিক বাস নেই৷ দুই একটি যাও চলাচল করেছে, তাও অনেক্ষণ পর পর, কালেভদ্রে৷ কর্মস্থলের উদ্দেশ্য ঘর থেকে বের হয়ে চড়ম দুর্ভোগে পরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে৷ ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের অনড় অবস্থানের জন্য অনিশ্চয়তা ও আতংকই গণপরিবহন বন্ধের কারণ বলে অভিযোগ তাদের৷

৫ জানুয়ারিকে ঘিরে যে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়ে ছিল তার অনেকটাই শিথিল হয়ে এসেছে৷ কার্যালয়ের সামনের রাস্তা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বালু ও ইট ভর্তি ট্রাক৷

গুলশান কার্যালয়ের গেটে যে তালা লাগিয়ে ছিল পুলিশ তা এখনো খোলেনি৷ কার্যালয়ের ভেতরের কার্যক্রম সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি, তবে গতকাল সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর পাওয়া গেলেও এখন তিনি সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে৷শনিবার রাজধানীর গুলশান কার্যালয়ে বন্দি অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্রের হত্যা দিবস’ পালনে বাইরে আসতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাধার মুখে পড়ে৷ এ সময় তিনি দেশব্যাপী সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন৷ এদিকে, যাত্রীদের সমস্যাকে পুজি করে, পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে রিকসা ও সিএনজি চালক৷ এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান সাধারণ মানুষের৷সব মিলিয়ে গেল বছরটি সরকারের জন্য ভালোভাবে গেলেও আগামী দিনে বিএনপির আন্দোলন মোকাবেলায় সরকারকে অনেকটা সময় ব্যয় করতে হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন৷ বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি না দেয়া সরকারের বিরোধী দল দমনের কৌশল বলে মনে করেন দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলের নেতারা৷ এ দমন নীতিকে নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন তারা৷ গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান এসব অভিমত তুলে ধরেন৷তাদের অভিমত, সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান করতে৷

এজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সবদলের অংশগ্রহণে জাতীয় সংলাপ আয়োজনের তাগাদা দিয়েছেন তারা৷ড. কামাল বলেন, জাতীয় সংলাপ্ত দুই দলের সংলাপ নয় এটা সকল রাজনৈতিকদলের সংলাপ এজন্য সবাইকে আজ সোচ্চার হতে হবে৷

খালেকুজ্জামান বলেন, নিবার্চন মানে যেন-তেন নির্বাচন নয়৷ দেখা যাবে পরের বারও একইরকম অবস্থা চলতে থাকবে৷ অতএব এমন একটা নির্বাচন হওয়া উচিত্‍ যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়৷ যে নির্বাচন আমাদের গণতন্ত্রকে শক্ত ভীতের ওপর দাঁড় করাবে৷এরইমধ্যে ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ও ২০ দলীয় জোটের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে রাজধানীতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ৷ মহানগর জুড়ে সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী৷ নাশকতার আশঙ্কায় বন্ধ রয়েছে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ঢাকামুখী বাস ও লঞ্চ চলাচল৷

এমন পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে সরকারের আচরণ অস্বাভাবিক৷তারা বলেন, ক্ষমতাকেন্দ্রিক লড়াই জনগণের কাম্য নয়৷

খালেকুজ্জামান বলেন, ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে যে সংঘাতময় পরিস্থিতি চলছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে যে দমননীতি এটা নিন্দনীয় এবং যে ক্ষমতাকেন্দ্রিক সংঘাতময় রাজনীতি এটা জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য৷ড.কামাল হোসেন বলেন, বিজয়ের আনন্দ উল্লাস তো সকল মানুষকে নিয়ে৷ এটা কোনো দলের ব্যাপার না৷ বিশেষ করে গণতন্ত্রের ব্যাপারে যদি আনন্দ উল্লাস হয় তবে তা ১৬ কোটি মানুষকে নিয়ে আনন্দ করার কথা৷চলমান সঙ্কটের সমাধানে দ্রুত সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় সংলাপের আয়োজন জরুরি বলে মনে করছেন তারা৷ আবারো সংলাপ আয়োজনে সরকারেরই উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে জানান তারা৷