২৮দিনেও সন্ধান মেলেনি সাগরে নিখাজ ট্রলারসহ ১৬ জেলের

২৮দিনেও সন্ধান মেলেনি সাগরে নিখাজ ট্রলারসহ ১৬ জেলের

দৈনিকবার্তা-মংলা,৬জানুয়ারি : দীর্ঘ ২৮ দিন পার হয়ে গেলেও বঙ্গোপসাগের মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ এফ,বি মুক্তি-১ নামের ট্রলারসহ ১৬ জেলের কোনো সন্ধান এখনও মেলেনি৷ যতোই দিন যাচ্ছে, ততোই উত্‍কন্ঠা বাড়ছে স্বজনদের৷ কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে শরণখোলার আকাশ-বাতাস৷ ট্রলার মালিক ও স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় তলস্নাশি করে করে এখন হতাশ হয়ে পড়েছেন৷ জেলে নিখোঁজের খবর ইতোমধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রপত্রিকায় প্রচার-প্রকাশিত হলেও হতভাগ্য ওই সকল জেলেদের উদ্ধারে সরকার এখন পর্যনত্ম কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ পরিবারের৷

জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলাকারী বাহিনীকে লিখিতভাবে অবহিত করা হলেও এ ব্যাপারে কারোর কোনো মাথাব্যাথা নেই৷ দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই প্রশাসনের৷ দেখছি দেখবো বলে যে যার দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন৷ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম সাগর থেকে মাছ শিকার করে প্রতিবছর সরকারের কোষাগারে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব জমা দিলেও বিপদে-আপদে ওই সমসত্ম জেলে ও মহাজনদের কোনো খোঁজ রাখেনা সরকার৷ এ অভিযোগ নিখোঁজ জেলে পরিবার, মালিকপৰ ও স্থানীয় মত্‍স্যজীবীদের৷ তারা কোস্টগাডর্, নৌবাহিনীর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর, সুন্দরবন, ভারত, মায়ানমার ও থাইল্যান্ড সীমানত্মবর্তী এলাকায় তলস্নাশি চালিয়ে জেলেদের খুঁজে বের করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন৷

গত শনিবার রাতে নিখোঁজ হওয়া জেলেদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহম্মদ অতুল মন্ডল৷ এসময় কান্নায় ভেঙে পড়া স্বজনদের শানত্মনা দিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে সহযোগীতা করার আশ্বাস দেন তিনি৷ পরে প্রত্যেক পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পৰ থেকে চাল, ডাল, তেল, বিস্কুট ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন ইউএনও৷  এদিকে, নিখোঁজ জেলেদের পুঁজি করে একটি প্রতারক চক্র অর্থ বাণিজ্যে নেমেছে৷ শনিবার রাতে জাহিদ নামের এক ব্যক্তি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার দৈনিক ভোরের কাগজের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ০১৭৯৭১৬২৭২৯ নম্বর থেকে শরণখোলার সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খোকনের কাছে কল করে জানান, তিনি নিখোজ হওয়া ফারম্নক খান ও মধু খান নামের দুই জেলেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধান করেছেন৷ তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক৷ তাদের দ্রম্নত চিকিত্‍সার ব্যবস্থা না করলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে৷ এই খবর শোনার পর ট্রলার মালিক বিলাশ রায় কালু সাংবাদিক পরিচয়ধারী ওই ব্যক্তির সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন৷ এবং ওই ব্যক্তি দু্ই জেলের চিকিত্‍সা খরচবাবদ বিকাশের মাধ্যমে দুই বারে ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন৷ সেই থেকে ওই প্রতারকের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে৷ গত ১০ ডিসেম্বর এফ,বি মুক্তি-১ (রেজি: নং- ৬৪২২) নামের ওই ট্রলারটি পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের বগী স্টেশন থেকে পাস গ্রহন করে ১১ ডিসেম্বর ভোররাতে ইলিশ আহরণের জন্য বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা হয়৷ ট্রলারে মোট ১৬ জন জেলে (মাঝিমালস্না) ছিলেন৷ নির্ধারিত সময় ও পাসের মেয়াদ অনুযায়ী ট্রলারটি মাছ শিকার করে ১০-১২ দিনে মধ্যে সাগর থেকে ফিরে আসার কথা৷ কিন্তু অতিরিক্ত আরো ১৪-১৫ দিন অতিবাহিত হলেও ট্রলারটি ফিরে না আসায় মহাজন ও জেলে পরিবারে উত্‍কন্ঠা দানা বাঁধতে থাকে৷ এ ঘটনায় শরণখোলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন৷

নিখোঁজ ট্রলারের মালিক বিলাশ রায় কালু জানান, ট্রলার নিখোঁজের বিষয়টি বিভিন্ন জেলে ও মহাজনদের কাছে জানানো হয়েছে৷ তাছাড়া সরকারের কাছে সহযোগীতা চেয়ে ইউএনও ও ডিসি বরাবরে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে৷ তিনি জানান, প্রতিদিন জেলেদের স্ত্রী-সনত্মান ও আত্মীয়স্বজনরা বাসায় এসে কান্নাকাটি করছে৷ তাদেরকে শানত্মনা দেয়ার আর কোনো ভাষা তার জানা নেই৷ সরকারের সহযোগীতা ছাড়া নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধার করা কোনোভাবেই সম্ভব না৷

উপজেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মজিবর তালুকদার জানান, হয়তো ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে ভাসতে ইন্ডিয়া বা মায়ানমার সীমানত্মের দিকে চলে যেতে পারে৷ ডাকাতে নিলে অথবা কাছকাছি কোথাও থাকলে যে কোনোভাবে তার সন্ধান পাওয়া যেত৷ তারাও ট্রলারটি উদ্ধারে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন৷ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহম্মদ অতুল মন্ডল বলেন, নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ স্বজনরা কান্নাকাটি করছে৷ তাদের সন্ধানে প্রশাসনের উচ্চ মহলে যোগাযোগ চলছে৷ একটি প্রতারকচক্র নিখোঁজ ব্যক্তিদের পুঁজি করে অর্থ বাণিজ্যে নেমেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ প্রতারকদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে৷

নিখোঁজ জেলেরা হলো ট্রলার মাঝি মো: শাহআলম ফরাজী (শাহা মাঝি), জেলে ই্উনুচ হাওলাদার, তহিদুল হাওলাদার, শাহজাহান হাওলাদার, বারেক তালুকদার, হেমায়েত হাওলাদার, আলামীন মোলস্না, হালিম হাওলাদার, আব্দুলাহ খান, আব্বাস আকন, হাচান সিকদার, ফারম্নক খান, মধু খান, কামাল হাওলাদার, নাঈম হাওলাদার৷ এদের সকলের বাড়ি শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে৷ এছাড়া ট্রলারের মিস্ত্রি শামছুদ্দিন হাওলাদারের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায়৷