ঠাকুরগাঁওয়ে চা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না

ঠাকুরগাঁওয়ে চা (2)

দৈনিকবার্তা-ঠাকুরগাঁও, ০৭ জানুয়ারি: প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সরকারী পৃষ্ঠপোষতার অভাবে ঠাকুরগাঁও জেলার সীমানত্ম এলাকায় চা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না৷ এখানকার মাটির প্রকৃতি ও জলবায়ুতে সুবাসিত চা উত্‍পাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে৷ অপর দিকে ব্যক্তি উদ্যোগে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সীমানত্মবর্তী গ্রাম নিটোলডোবায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা চাষ করে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন একজন নারী উদ্যোক্তা৷ঠাকুরগাঁও জেলার জমি সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ২৫০ থেকে ২৮০ ফুট উচ্চতায় রয়েছে৷ মাটি, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও অন্যান্য পরিবেশগত অবস্থা চা চাষের জন্য অত্যনত্ম উপযোগী৷ ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকতর্া ডঃ কামরম্নল আহসানের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া এবং আটোয়ারী উপজেলার সীমান্তবর্তর্ী জমির মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করেন৷ ঐ বিশেষজ্ঞ দলের মতে এ দু’জেলার জমিতে যে পরিমাণ জৈব সার আছে তা সিলেটের জমির তুলনায় বেশি এবং তা চা চাষের জন্য অত্যনত্ম উপযোগী৷এছাড়া এখানকার মাটির প্রকৃতি বেলে দো-আশ ও বেলে কাদা দো-আশ হওয়ায় তা চা চাষের খুবই অনুকূলে৷ এখানকার জমির অম্লত্ব সীমার মধ্যে রয়েছে এবং মাটির স্তর রয়েছে সহায়ক৷ ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী, রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা নাগর নদীর তীরে অবস্থিত ১০ হাজার একর উঁচু জমিতে চা চাষের সম্ভাবনা নিশ্চিত করেন বিশেষজ্ঞ দল৷

বিশেষজ্ঞ দলের মতে, পাশ্ববতর্ী পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলায় ২০০০ সাল হতে চা চাষ শুরম্ন হয়েছে৷ ২০০২ – ২০০৬ ভিত্তিক কর্মসূচী সেখানে প্রাথমিক পযর্ায়ে ৩শ হেক্টর জমিতে চা চাষের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও ইতিমধ্যে সেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে৷ সেখানে ১১ টি এস্টেট, ১১টি জোত চাষী ও ১৭৮ টি ক্ষুদ্র চা উত্‍পাদনকারী ৮শ ৬৮ একর জমিতে চা চাষ করেছে৷ শুধু তাই নয়, কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট তাদের উত্‍পাদিত চা পাতা প্রসেসিং করে আগর্ানিক মিনা চা নামে বাজারজাত শুরম্ন করেছে৷ টিটিসিএল চা প্রসেসিং কারখানা স্থাপন করে শীঘ্রই চা বাজারজাত করতে যাচ্ছে৷ এতেই শেষ নয়, সেখানে ৮ জন চাষী ও টিটিসিএল চা চারার নাসর্ারী গড়ে তুলেছে৷ টিটিসিএল এ যাবত ১২ লাখ চারা বিভিন্ন চাষীকে সরবরাহ করেছে৷ঠাকুরগাঁও জেলার রম্নহিয়া এলাকাতেও দুটি চা চারার নাসর্ারী গড়ে উঠেছে৷ সিরাজুল ইসলাম ও ময়নুল হক নামে ২ ব্যক্তি কুজিশহর ও মধুপুর গ্রামে চা চারার নাসর্ারী গড়ে তুলেছেন৷ সেখানে উত্‍পাদিত চারা পঞ্চগড় জেলায় সরবরাহ করে আসছেন৷চা বোর্ডের বিশেষজ্ঞ দলের মতামতের ভিত্তিতে পঞ্চগড়ে চা চাষের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রানত্ম হয়েছে এবং ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় পরীক্ষামূলক চা বাগান গড়ে উঠেছে৷ সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনের পুত্রবধূ কানিজ ফাতেমা ওরফে শ্যামা ম্যাডাম ওই উপজেলার নিটলডোবা গ্রামে ২০ একর জমিতে চায়ের বাগান গড়ে তোলে এলাকাবাসীর সামনে নতুন আশার সঞ্চার করেছেন৷ এ চা বাগানে শতাধিক নারী-পুরম্নষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে৷ অথচ এখানকার ১০ হাজার একর উঁচু জমিতে চা চাষের উপযুক্ততা রয়েছে৷ সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ঠাকুরগাঁওয়েও চা চাষের সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব৷ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, এখানকার জমিতে চা চাষ শুরম্ন হয়েছে৷ ব্যাপক জমিতে চা চাষ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানী করা গেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বৈদেশিক অর্থ আয়ে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে৷