পলাতক তারেকের বক্তব্য প্রচারে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৭ জানুয়ারি: বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আইনের দৃষ্টিতে পলাতক থাকা অবস্থায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার নিষিদ্ধ করতে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট৷ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ সব ধরনের মিডিয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে৷

বুধবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলসহ এই আদেশ দেন৷ আইনজীবী নাসরীন সিদ্দিকী লিনাতারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট আবেদনটি করেছেন৷আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাহারা খাতুন, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সানজীদা খানম, শ ম রেজাউল করিম প্রমুখ৷ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজি্ত্‍ রায় বলেন, আদালত পলাতক অবস্থায় থাকা তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার ও প্রকাশ নিষিদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তথ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন৷

বিএনপি নেতা তারেক রহমান যতদিন আইনের দৃষ্টিতে পলাতক থাকবেন, ততদিন তার কোনো বক্তব্য বিবৃতি সংবাদ মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত৷ পাশাপাশি তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করা হয়েছে৷রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে বলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত্‍ রায় জানান৷

দুই সপ্তাহের মধ্যে তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিটিভির মহাপরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, একুশে টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক, কালের কন্ঠের সম্পাদক ও তারেক রহমানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে৷একইসঙ্গে তারেক রহমানের বর্তমান অবস্থা ও তার পাসপোর্ট নবায়ন করা হয়েছে কি-না, এক মাসের মধ্যে তা জানাতে পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে বিতর্কিত হওয়া বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মঙ্গলবার এই রিট আবেদনটি করেন নাসরিন সিদ্দিকী লিনা নামের এক আইনজীবী৷

আদেশের পর রেজাউল করিম বলেন,এই আদেশের ফলে পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের পাশাপাশি অনলাইনেও তারেকের কোনো বক্তব্য প্রচার করা যাবে না৷সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আদালত বিবাদীদের প্রতি আদেশ দিয়েছেন৷ তারা এই আদেশ বাস্তবায়ন করবেন৷ নিশ্চয়ই তাদের কাছে বাস্তবায়নের কোনো উপায় আছে৷ বিভিন্ন মামলার অন্য যে আসামিরা পলাতক, তাদের বক্তব্য প্রকাশ বা প্রচার করা যাবে কি-না, এমন প্রশ্নে রেজাউল করিম বলেন, রিটে শুধু পলাতক তারেক রহমানের বিষয়ে বলা হয়েছে, এ আদেশ তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে৷

তারেক রহমানের সব বক্তব্য এই আদেশের আওতায় আসবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন৷শুনানিতে শ ম রেজাউল বলেন, সর্বোচ্চ আদালত বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক ও স্বাধীনতার ঘোষক বলে রায় দিয়েছেন৷ এরপরও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তারেক বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন, পাক বন্ধু বলছেন৷ এটা সংবিধানের ৭(ক) এবং ৩৯ ধারার লঙ্ঘন৷ তিনি জনশান্তি বিনাশ করছেন৷ এই রিট আবেদনের সঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ও জনকন্ঠে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদন যুক্ত করা হয়৷ তা দেখে আদালত জনকন্ঠ ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকেও এ মামলায় পক্ষভুক্ত করেন৷ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করেন৷শুনানিতে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, তারেক রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রেরও লঙ্ঘন করেছেন৷ বিশ্বের কোথাও কেউ জাতির পিতার অবমাননা করে না৷ ইন্দোনেশিয়ায় আমি গিয়েছি, সেখানে জাতির পিতার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে না৷ ভারতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও মহাত্মা গান্ধীর বিরুদ্ধে কেউ বক্তব্য দেয় না৷আদালত এ সময় বলেন, তারেক নাগরিকদের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করছেন৷

এই রিট আবেদনে বলা হয়, ফেরারি আসামি তারেক রহমান সংবিধান লঙ্ঘন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে নানা অপরাধমূলক কথা বলছেন, যা দণ্ডবিধি অনুসারেও অপরাধ৷এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছেন, যা তথ্য প্রযুক্তি আইন অনুসারে অপরাধ৷ এর মাধ্যমে তিনি শান্তিভঙ্গ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছেন৷ পলাতক এই আসামির বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় পুনরাবৃত্তিতে উত্‍সাহ দেওয়া হচ্ছে৷ গণমাধ্যম পুনরুউত্‍পাদন না করলে এর পুনরাবৃত্তির সুযোগ থাকবে না৷২১ অগাস্টসহ বিভিন্ন মামলা মাথায় নিয়ে ছয় বছর ধরে লন্ডনে অবস্থান করা তারেক সামপ্রতিক সময়ে কয়েকটি সভায় বাংলাদেশের ইতিহাসের নিজস্ব ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন৷

এসব বক্তব্যের জন্য ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তারেককে৷ সেইসঙ্গে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও উঠেছে৷ টানা কয়েকটি সভায় বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য বাংলাদেশে তারেকের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা হয়েছে, যাতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে আদালত৷নাসরিন সিদ্দিকী লিনা তার রিট আবেদনে বলেন,যেহেতু এই কালপ্রিটের অবস্থান চিহ্নিত করে তাকে এখনই ধরা সম্ভব না৷ সেই কারণে তার বক্তব্য প্রচারে তথ্য সচিবকে নির্দেশনা দিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে৷