সিটি করপোরেশন এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করা যাবে

image_172507.b-bank-logo

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৭ জানুয়ারি: পল্লী এলাকা ও পৌরসভার পাশাপাশি এখন মেট্রোপলিটন বা সিটি করপোরেশন এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে৷ তবে এক্ষেত্রে গ্রামে দুটি শাখা খোলার পর শহর বা সিটি করপোরেশন এলাকায় একটি শাখা খোলা যাবে৷ এর আগে কেবল পল্লী ও পৌরসভা এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যেত৷ এখন তা মহানগরীতে সম্প্রসারিত হলো৷বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার এ সংক্রানত্ম একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে৷

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়,ব্যাংকগুলোর ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপন সংক্রানত্ম নীতিমালা অনুযায়ী সব মেট্রোপলিটন বা সিটি করপোরেশন এলাকা এবং ক ও খ শ্রেণীভূক্ত পৌরসভায় স্থাপিত শাখা শহর শাখা এবং গ শ্রেণীভূক্ত সব পৌরসভা এবং ইউনিয়ন এলাকায় স্থাপিত শাখা পল্লী শাখা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে৷

এর আগে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে জারিকৃত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের নীতিমালায় শুধু পল্লী এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিং করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল৷ পরে এ নীতির কিছুটা সংশোধন করে গত বছরের ৩ জুন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতা বাড়িয়ে মেট্রোপলিটন ও সিটি করপোরেশন এলাকা বাদে সব ক ও খ শ্রেণীর পৌরসভা অনত্মভর্ুক্ত করা হয়৷ নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এখন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সাথে মেট্রোপলিটন ও সিটি করপোরেশন এলাকাও যুক্ত করা হলো৷

এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালায় বলা আছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অর্থ হল একটি সমঝোতা স্মারকের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগকৃত এজেন্টের মাধ্যমে ব্যাংকের গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা দেওয়া৷ এতে আরো বলা হয়েছে, নিজস্ব বিক্রয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে, এমন একজন ব্যক্তি এই এজেন্ট হতে পারবেন এবং তিনি সংশিস্নষ্ট ব্যাংকের হয়ে গ্রাহককে আর্থিক সেবা দেবেন৷ আর্থিক অনত্মর্ভূক্তিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবার মধ্যে নিয়ে আসার চিনত্মা থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক৷ বিশেষ করে যারা ভৌগোলিকভাবে বি”িছন্ন এলাকায় বসবাস করছে তারাই এ সেবার টার্গেট গ্রাহক৷

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে পারবে না৷ এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা উদ্বোধনের আগে ব্যাংক ও এজেন্টের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন করতে হবে৷ এজেন্টরা শুধু টাকার লেনদেন করতে পারবে৷ আর বাংলাদেশ ব্যাংক জনস্বার্থে যেকোনো সময় এজেন্টের অনুমোদন স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতা রাখবে৷

প্রসঙ্গত, এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার মধ্যে রয়েছে- এজেন্টের মাধ্যমে স্বল্প পরিমাণ টাকা নিজ হিসাবে জমা দেয়া ও উত্তোলন করা, বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্স গ্রহণ, ছোট আকারের ঋণ বিতরণ ও ঋণের কিসত্মি আদায়, বিদু্যত্‍ অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা৷ গ্রাহক সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নগদ অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন৷ এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে অর্থ স্থানানত্মর করা, ব্যাংক হিসাবে কত টাকা জমা রয়েছে তাও জানা যাবে৷ তবে এজেন্ট কোনো গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবে না৷