বিজ্ঞানের যুগে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ বিপযস্ত: প্রধান বিচারপতি

index_64350দৈনিকবার্তা-ঢাকা ৯ জানুয়ারি: বিজ্ঞানের এই যুগে বস্তুগত জ্ঞানের প্রভাবে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ আজ বিপর্যস্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি মো.মোজাম্মেল হোসেন৷ তিনি বলেছেন, দেশের দ্বন্দ্ব, সংঘাত, সামপ্রদায়িকতাসহ সকল সমস্যা সমাধানে দার্শনিকরা ভূমিকা পালন করবে৷শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জ্ঞানগর্ভ এসব কথা বলেন৷৭ম পূনর্মিলনী ২০১৫ উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগ অ্যালামনাই এসোসিয়েশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে৷

বিচারপতি বলেন, দর্শন নৈতিক জগতের আধার৷ দর্শন সমাজ জীবনের শৃঙ্খলা রক্ষা করে৷ তাই শিক্ষার সকল স্তরে দর্শনকে স্থান দিতে হবে৷ দর্শনের নৈতিকতা শুধু জ্ঞানার্জনেই সীমাবদ্ধতা রাখা চলবে না৷ এটাকে কাজে লাগাতে হবে৷

তিনি বলেন, জীবনে চলার পথে নৈতিক দর্শন লাভ করতে হবে৷ জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অতীতের ন্যায় বর্তমানেও অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন৷মোজাম্মেল হোসেন বলেন, দর্শন ও আইনের মধ্যে রয়েছে গভীর সম্পর্ক৷ দর্শন ও আইন একে অপরের পরিপূরক৷ আইনের ভিত্তি ও মানব সভ্যতার অগ্রগতির মূলে রয়েছে দর্শন৷ প্রকৃত দর্শন মানে জীবন দর্শন৷ দর্শন পথ দেখায় ও ন্যায় নীতির কথা বলে৷ তাই দার্শনিকরা কখনও অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন না৷

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, জানুয়ারি মাস আসলেই আমরা ফিরে যাই ১০ জানুয়ারি৷ এই ১০ জানুয়ারিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিসত্মানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন৷ সেদিন বিমান বন্দরে লক্ষ লক্ষ মানুষ বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন৷ বঙ্গবন্ধু বিমানের জানালা দিয়ে যখন তাদের দেখছিলেন তখন তিনি অশ্রম্নসিক্ত দৃষ্টিতে তাঁর প্রিয় জনতার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, আমি যুদ্ধ-বিধ্বসত্ম দেশের এত মানুষকে কিভাবে খাওয়াবো৷ তাঁর এই ভাবনা-চেতনাই হচ্ছে দর্শন৷

তিনি বলেন, দর্শন সকল বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত৷ দর্শন আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা, মনুষ্যত্ব, মূল্যবোধ, দেশ- প্রেম শেখায়৷ তাই মানুষের মাঝে দর্শন চেতনা জাগ্রত করতে হবে৷ দর্শনের দর্শন মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে৷ তিনি দর্শন বিভাগের অ্যালামনাইদের শীতের সকালে ক্যাম্পাসে স্বাগত জানিয়ে তাঁদের প্রতি মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানান৷

ঢাবি দর্শন বিভাগ অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. প্রদীপ রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মো. লুত্‍ফর রহমান, দফতর সম্পাদক মো. খসরুল আলমসহ বিভাগের প্রাক্তন ও এসোসিয়েশনের সদস্যরা৷

দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান ও বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়৷ অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়৷ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭ম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, মানুষের মাঝে দর্শন চেতনা জাগ্রত করতে হবে৷ তারা বলেন, মনুষ্যত্ববোধ নিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে সকলেরই মঙ্গল হবে৷

তারা বলেন, সম্প্রদায় থাকবে কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা থাকবেনা৷ শুধু সকলকে মুনষ্যত্ববোধ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে৷ তাহলেই সকলের মঙ্গল হবে৷ আমরা সকলেই চাই দল থাকবে কিন্তু দলাদলি থাকবেনা৷ ধর্ম থাকবে, কিন্তু ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি থাকবেনা৷