বিশ্বইজতেমাঃ জু’মার নামাজে লাখো মুসুলস্নীর অংশগ্রহণ,কাল (রবিবার) আখেরি মোনাজাত

জু'মার নামাজ

দৈনিকবার্তা-গাজীপুর- টঙ্গী ৯ জানুয়ারি: নজিরবিহীন পাঁচ সত্মরের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে তবলীগ জামাতের বিশ্ব এজতেমা শুক্রবার থেকে শুরম্ন হয়েছে৷কাল (রবিবার) আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথম পর্বের ৩ দিনব্যাপী বিশ্ব এজতেমা শেষ হবে৷ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধের কারনে এবারের এজতেমার প্রথম পর্বে মুসুলিস্নদের উপস্থিতি তুলনা মুলক অনেক কম৷ নানা বিড়ম্বনাকে উপেৰা করে বিশ্ব এজতেমায় যোগ দিতে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলিস্ন এজতেমা ময়দানে ছুটে আসছেন৷ রবিবার আখেরি মোনাজাতের পূর্ব মুহূর্ত পর্যনত্ম মুসলিস্ন্লদের এ ঢল আব্যাহত থাকবে৷ শুক্রবার প্রথম দিনে বাদ ফজর থেকে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব এজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরম্ন হয়৷ এজতেমার শুরম্নর দিন শুক্রবার হওয়ায় জু’মার নামাজে অংশ নিতে এজতেমাস্থলে মুসলিস্ন্লদের ঢল নামে৷ প্যান্ডেল কানায় কানায় ভরে যায়৷ প্যান্ডেলের নিচে জায়গা না পেয়ে মুসলিস্ন্লরা অংশ নেন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপরে৷ জু’মার নামাজে অংশ নিতে সকাল থেকেই টঙ্গী ও আশপাশ এলাকার হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ ছুটে আসেন টঙ্গী এজতেমা ময়দানে৷

শুক্রবার বাদ ফজর পাকিসত্মানের মাওলানা মো. এহসান আম বয়ানের মাধ্যমে এবারের বিশ্বইজতেমার মূল কজ শুরম্ন করেন৷ এ বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মুরম্নবি্ব মাওলানা মো. আব্দুল মতিন৷ অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও উপস্থিত লাখ লাখ মুসলিস্ন্লর উদ্দেশে যথারীতি ঈমান, আমল, আখলাক ইত্যাদি বিষয়ে আমবয়ানের মাধ্যমে এজতেমার প্রথম পর্বের ৩ দিনের কার্যক্রম শুরম্ন হয়৷ ১১ জানুয়ারি রবিবার জোহরের নামাযের পূর্বে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে৷ এর ৪ দিন পর আগামী ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরম্ন হবে দ্বিতীয় পর্বের ৩ দিনব্যাপী বিশ্ব এজতেমা৷

প্রথম পর্বের বিশ্ব এজতেমার প্রথম দিনে জু’মার জামাতকে কেন্দ্র করে টঙ্গীতে মুসলিস্ন্লদের ঢল নামে৷ জু’মার মূল জামাত এজতেমা ময়দান ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক-মহাসড়ক পর্যনত্ম বিসত্মৃতি লাভ করে৷ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক স্থাপিত ৮টি ভাসমান ব্রিজের মাধ্যমে মেহরাবের সঙ্গে নদীর পূর্ব পাড়ের মূল ময়দানের সেতুবন্ধ স্থাপিত হয়৷ ফলে এবছর ভাসমান সেতুতেও উলেস্নখযোগ্য সংখ্যক মুসলিস্ন্ল জুমার জামাতে শরিক হন৷ জুমার জামাতে ইমামতি করেন কাকরাইল মারকাজ মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা জোবায়ের৷ শুক্রবার জু’মার আগ পর্যনত্ম বিশ্বের ৫৫টি দেশের প্রায় ৭ হাজার মুসলিস্ন্ল এজতেমায় অংশ নিয়েছেন৷ অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও সমবেত লাখ লাখ মুসলিস্নর উদ্দেশ্যে তবলীগের ৬ উসূল অর্থাত্‍ কালেমা, নামাজ, এলেম ও জিকির, একরামুল মুসলিমিন, সহীহ নিয়ত ও তাবলীগ ইত্যাদি বিষয়ে আমবয়ানের মাধ্যমে এজতেমার প্রথম পর্বের ৩দিনের কার্যক্রম শুরম্ন হয়৷ আজ শনিবার বাদ আছর প্রতিবছরের ন্যায় যৌতুকবিহীন বিয়ে সম্পন্ন করা হবে বলে ইজতেমা সূত্রে জানা গেছে৷ এসব বিয়ে বর ও উভয়পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে৷ এ উপলক্ষে বর ও কনের নাম তালিকাভুক্তি হচ্ছে৷

আগামী ১১ জানুয়ারি রবিবার জোহরের নামাজের পূর্বে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে৷ ১৬জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরম্ন হবে দ্বিতীয় পর্বের ৩ দিনব্যাপী বিশ্ব এজতেমা৷

ইজতেমা ময়দান এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাঠ জুড়ে ৬০ টির অধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে৷ ইতোমধ্যে লাখো মুসলিস্ন সেখানে সমবেত হয়েছেন৷ বিভিন্ন জেলার যুবক, কিশোর, বায়োজ্যেষ্ঠ সব শ্রেণীর মানুষ ইজতেমায় এসেছেন৷ অনেকে ৪০ দিন (এক চিলস্না) বা ১২০ দিন (তিন চিলস্না) ইসলামের দাওয়াত শেষ করে ইজতেমায় শরিক হচ্ছেন৷ আবার কেউ কেউ ইজতেমা শেষে ইসলামের দাওয়াত দিতে ৪০ দিন (এক চিলস্না) বা ১২০ দিনের জন্য (তিন চিলস্না) বেরিয়ে পড়বেন৷ ধনী, দরিদ্র সবাই এখানে এক সামিয়ানার নিচে একসঙ্গে অবস্থান করছেন৷ মুসলিস্নরা প্রত্যেকে নিজ নিজ ব্যবহার্য দ্রব্যাদি কাঁধে বহন করে মাঠে আসছেন৷

বৃহত্তম জু’মার নামাজ অনুষ্ঠিত: বিশ্ব ইজতেমার শুরম্নর দিন জু’মা বার হওয়ায় ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ যাবত্‍কালের বৃহত্তম জু’মার জামাত৷ ওই নামাজের ইমামতি করেন (কাকরাইল মসজিদের ইমাম) হাফেজ মোহাম্মদ জোবায়ের৷ ইজতেমায় যোগদানকারী মুসুলিস্ন ছাড়াও জু’মার নামাজে অংশ নিতে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশে-পাশের এলাকার লাখ লাখ মুসুলিস্ন ইজতেমাস্থলে হাজির হন৷ ভোর থেকেই রাজধানীসহ আশে-পাশের এলাকা থেকে ইজতেমা মাঠের দিকে মানুষের ঢল নামে৷ দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমা মাঠ উপচে আশে-পাশের খোলা জায়গাসহ সবস্থান জনসমুদ্রে পরিণত হয়৷ মাঠে স্থান না পেয়ে মুসুলিস্নরা মহাসড়ক ও অলি-গলিসহ যে যেখানে পেরেছেন হোগলা পাটি, চটের বসত্মা, খবরের কাগজ বিছিয়ে জু’মার নামাজে শরিক হয়েছেন৷ ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়৷ নামাজ শেষে দু’জনের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়৷ এ দু’জন এজতেমা মাঠের বাইরে মারা যান৷

প্রথম দিনে যারা বয়ান করলেন : ঈমান-আমলের উপর প্রথম দিন বাদ ফজর পাকিসত্মানের মাওলানা মো. এহসান৷ বাংলায় তর্জমা করেন বাংলাদেশের মুরম্নবি্ব মাওলানা মো. আব্দুল মতিন৷ বাদ জু’মা বয়ান করেন ভারতের মাওলানা শওকত, বাদ আসর বয়ান করেন বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের খতিব হাফেজ মোহাম্মদ জোবায়ের ও বাদ মাগরিব দিলস্নীর মাওলানা সা’দ বয়ান করেন৷ বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির মুরম্নবি্ব প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন৷

প্রথম দিনের বয়ান: বয়ানে বলা হয় দুনিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান স্থান হলো মসজিদ আর সবচেয়ে কমদামি জায়গা হলো বাজার৷ যে মসজিদকে ভালবাসে স্বয়ং আলস্নাহতায়ালা তাকে ভালবাসেন৷ এ দুনিয়ায় যিনি একটি মসজিদ বানানো, আলস্নাহ তারজন্যে পরপারে একটি মহল বানাবেন৷ জুম্মারদিন , একটি পবিত্রদিন৷ সবচেয়ে উত্তম দিন হলো জুম্মার দিন৷ এটি হলো সবচেয়ে বড় ও সম্মানি দিন৷ এটি দু’ ঈদের চেয়েও ফজিলতপূর্ণ৷ এদিনে হযরত আদম (আ.)কে সৃষ্টি করা হয়৷ এদিনই দুনিয়া ধ্বংস হবে৷ এদিনে আলস্নাহ্র কাছে যা চাইবে, আলস্নাহ তা তাকে দেবেন৷ জুমা’র নামাজ আদায়ের লৰ্যে গোসল-ওজু করে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর থেকে তার নেকী লেখা হয়৷ আমরা যা করবো আলস্নাহকে রাজি করার জন্য করবো৷ আলস্নাহ পাকের হুকুম মতো আমরা যেন সারা জীবন চলতে পারি সে চেষ্টা করতে হবে৷ এখান থেকে শিৰা নিয়ে দেশে ও সারা দুনিয়ায় মানুষের মাঝে দীন কায়েম করার জন্য ছড়িয়ে পড়তে হবে৷

বয়ানের তাত্‍ৰণিক অনুবাদ: বিশ্বইজতেমায় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিসত্মানের তাবলিগ মারকাজের ১৫-২০জন শুরা সদস্য ও বুজর্গ বয়ান পেশ করবেন৷ মূল বয়ান উদর্ূতে হলেও বাংলা, ইংরেজী, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসি ভাষায় তাত্‍ৰনিক অনুবাদ হচ্ছে৷ বিদেশী মেহমানদের জন্য মূল বয়ান মঞ্চের উত্তর, দৰিণ ও পূর্বপাশে হোগলা পাটিতে বসেন৷ বিভিন্ন ভাষাভাষি মুসুলিস্নরা আলাদা আলাদা বসেন এবং তাদের মধ্যে একজন করে মুরম্নব্বী মূল বয়ানকে তাত্‍ৰণিক অনুবাদ করে শুনান৷

জু’মার নামাজে ভিআইপিদের অংশ গ্রহণ:  ইজতেমার প্রথম দিনে জুম্মার নামাজে অংশ নেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি, স্বরাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, সাবেক আইন মন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরম্ন, গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজমত উলস্নাহ খান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মাহফুজুল হক নুরম্নজ্জামান, গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারম্নন অর রশীদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠাণের কর্মকর্তাগণ৷

অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর : এজতেমা মাঠে জুমা’ নামাজে অংশ নিতে এসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আকম মোজাম্মেল হক এমপি বিএনপিকে অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ করে বলেন, অবরোধের কারণে মুসলিস্নদের ইজতেমা ময়দনে আসতে অনেক সমস্যা হচ্ছে৷ তার পরও বহু কষ্ট করে কিছুদূর হেঁটে, কিছু দূর গাড়িতে করে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে মুসুলিস্নরা এজতেমা মাঠে এসে পৌছেছেন৷ মুসুলস্নীদের সুবিধার্থে আমরা বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছিলাম৷ কিন্তু রেল লাইন উপড়ে ফেলেছে৷ বর্তমানে তা দ্রম্নত মেরামতের কাজ চলছে৷ মুসলিস্নদের সহমর্মিতা প্রকাশ করছি৷ অবরোধের কারণে তাদের যে কষ্ট হয়েছে তা অত্যনত্ম দুঃখজনক৷ অবরোধ প্রত্যাহার করার জন্য বিএনপির প্রতি অনুরোধ জানাই৷ তিনি বলেন, ইজতেমায় মুসলিস্নদের আসার জন্য সরকার রাসত্মায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে৷ ১৯৯৬ সালে সরকারে আসার পর আমরাও এর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে টয়লেট, পানি, রাসত্মাঘাট, মুসলিস্নদের নিরাপত্তা ও সুযোগ সুবিধা দিতে সরকার অত্যানত্ম গুরম্নত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে৷

মন্ত্রী আরো বলেন, সব চাইতে দুঃখজনক বিএনপির একজন বুদ্ধিজীবী বলেছেন, মুসলিস্নরা নাকি টঙ্গীতে পিকনিক করতে আসে৷ আমি তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই৷ এ ধরণের বক্তব্যের কারণে আমরা একজন মন্ত্রীকে ধর্ম বিরোধী কথা বলায় তাকে দল থেকে বহিস্কার করেছি৷ মন্ত্রী সভা থেকেও তাকে বাদ দিয়েছি৷ আমরা ধর্ম নিরপেৰতায় বিশ্বাস করি, কিন্তু ধর্মহীনতায় না৷ কাজেই যারা ধর্মহীনতায় বিশ্বাস করে তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি৷ আমি আশা করি বিএনপি যদি সত্যিকারে ইসলাম বিশ্বাস করে তাহলে তারাও এ ধরণের পদৰেপ নিবে৷

হাসপাতালে চিকিত্‍সা সেবা : টঙ্গী হাসপাতাল ও সিভিল সাজনের তত্ত্ববধানে ৩ টি মেডিক্যাল ক্যাম্পে শুক্রবার বিকেল পর্যনত্ম গতদ’ুদিনে বিভিন্ন রোগে আক্রানত্ম প্রায় ৩ হাজার জন মুসুলস্নী চিকিত্‍সা নিয়েছেন৷ এর মধ্যে ৯ জনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে এবং ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ অসুস্থ্যদের অধিকাংশই ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, আমাশয়, শ্বাসকষ্টের ও হৃদরোগের রোগী বলে টঙ্গী হাসপাতালের চিকিত্‍সক জানিয়েছেন গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. আনিসুর রহমান৷ এছাড়াও শুক্রবার দুপুর পর্যনত্ম ঠান্ডা, জ্বর ও পেটের পীড়ায় আক্রানত্ম ৭১ জন অসুস্থ্য মুসুলস্নীকে টঙ্গী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে৷

ইজতেমায় দ্বায়িত্বরত স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিত্‍সক-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল : মুসুলস্নীদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ইজতেমায় দায়িত্বপালনকারী সকল চিকিত্‍সক ও কর্মচারীদের ছুটি ৮ জানুয়ারি থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যনত্ম বাতিল করা হয়েছে বলে জানান গাজীপুরের সিভিল সার্জন মো. আনিসুর রহমান৷ তিনি আরো জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিত্‍সকসহ মেডিক্যাল অফিসারদের তালিকা ও ডিউটি রোস্টার করা হয়েছে৷ তিন শিফ্টে ১৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিত্‍সক ছাড়াও ৬৩ জন মেডিক্যাল অফিসার ইজতেমা ময়দানে ডিউটি করবেন৷ মন্নু গেইট, এটলাস গেইট, বাটা কারাখানার গেইট, বিদেশী মেহমান খানা ও তুরাগের পশ্চিম তীরে আরো ২টি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে৷ টঙ্গী হাসপাতালে এখানে হৃদরোগ, অ্যাজমা, ট্রমা, বার্ণ, চৰু এবং ওআরটি কর্ণারসহ বিভিন্ন ইউনিটে বিশেষজ্ঞ চিকিত্‍সকগণ চিকিত্‍সা দেবেন৷ মুসুলিস্ন রোগীদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য সার্বৰনিক ১২টি অ্যামু্বলেন্স মোতায়েন থাকবে৷ এছাড়া ইজতেমা মাঠের উত্তরে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে অর্ধশত ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থানের কাজ চলছে৷

প্রথম দিনে বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫ সহস্রাধিক বিদেশি মুসুলিস্ন : ইজতেমার প্রথম পর্বে শুক্রবার সকাল পর্যনত্ম এজতেমা মাঠে ৫৫টি দেশের প্রায় ৪ হাজার ৯৮২ জন বিদেশী মুসলিস্নর আগমন ঘটেছে৷ এবারের এজতেমায় বিশ্বের অনত্মতঃ ১৪৪টি দেশ থেকে প্রায় ২০ হাজার মুসুলিস্নদের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন এজতেমার মুরম্নবি্বগণ৷ পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইবোলা ভাইরাস জনিত কারনে ৬টি দেশের মুসুলিস্নদের বাংলাদেশে আগমনের ব্যাপারে এজতেমার মুরম্নবি্বদের আপত্তির কারনে ওই ৬ টি দেশ সমূহের মুসুলিস্নরা এবার বাংলাদেশে আসতে পারবেন না৷ বিভিন্ন ভাষা-ভাষী ও মহাদেশ অনুসারে ইজতেমা ময়দানে আগত এসব বিদেশী মেহমানদের জন্য ট্যান্ট নির্মাণ করা হয়েছে৷ সেখানে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জিম্মাদার জানিয়েছেন৷

ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিত্‍সা: শুক্রবার সকাল থেকে ইজতেমা ময়দান সংলগ্ন ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্পগুলোতে মুসুলিস্নদের চিকিত্‍সা নিতে ভিড় দেখা গেছে৷ মুসুলস্নীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য ময়দানের আশপাশে ও মন্নু নগর এলাকায় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি পরিষদ, র্যাব’র ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্প, গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিস, হামদর্দ ওয়াক্ফ, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিকেলস, টঙ্গী ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, রওশন জাহান ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক কলেজ, হোমিওপ্যাথিক অনুশীলন কেন্দ্র, বাংলাদেশ হোমিও প্যাথিক পরিষদ, জাতীয় ইমাম সমিতি, ইসলামি ফাউন্ডেশনের ইসলামি মিশন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনেরসহ বিভিন্ন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিত্‍সকরা সেবা দিচ্ছেন৷ এলোপ্যাথি ছাড়াও মুসুলস্নীরা হোমিওপ্যাথি চিকিত্‍সা নিতে তাদের ক্যাম্পে ভিড় করেছেন৷ অসুস্থ্যদের অধিকাংশই ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, আমাশয়, শ্বাসকষ্টের রোগী৷

জঙ্গি ও ইবোলা ঠেকাতে কড়াকড়ি: জঙ্গি ও ইবোলা ভাইরাস ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোসত্মফা কামাল উদ্দিন৷ বিশ্বের ৬টি দেশে ইবোলা ভাইরাসের প্রকোপ থাকায় ওইসব দেশের মুসলিস্নদের বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে এলে ‘ইবোলা ভাইরাস ফ্রি’ সার্টিফিকেট নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ ওইসব দেশের মুসলিস্নরা প্রথমে ইবোলা ভাইরাসমুক্ত সার্টিফিকেট ও তাবলিগের মার্কাজ সার্টিফিকেট নেয়ার পর কনসার্ন মিশনারিতে আবেদন করবেন৷ পরে মিশনারিগুলো ওই সার্টিফিকেটগুলো দেখে তাদের ভিসা ইস্যু করবে৷ বিমানবন্দরগুলোতে অভ্যর্থনা কেন্দ্র খোলা হয়েছে৷ সেখানে অন-এরাইভাল ভিসার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ এছাড়া যতগুলো স্থলবন্দর আছে সেখানেও অন-এরাইভাল ভিসা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ সেখানে একটি কমিটি ওই ভিসাগুলো দেবে৷ এ ছাড়া যতগুলো স্থলবন্দর আছে সেখানেও অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেয়ার ব্যাপারে কমিটি করা হয়েছে৷ সেখানে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভিসা দেবেন৷ সেখানে তারা মুসলিস্নদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভিসা দেয়ার কার্যক্রম তদারকি করবেন৷ যাতে কোনো জঙ্গি বা ইবোলা ভাইরাসবাহী মুসলিস্ন ইজতেমা ময়দানে ঢুকতে না পারেন সেদিকে কড়া নজরদারি রাখা হবে৷ বিদেশি মুসলিস্নদের সাধারণত ৪৫ দিনের ভিসা দেয়া হয়৷ আর যারা তিন চিলস্নায় আসবেন তাদের দেয়া হবে ১৩০ দিনের ভিসা৷ তবে এ সবই হবে তাবলীগের মার্কাজের মুরবি্বদের সুপারিশ অনুযায়ী৷ তবে এ সবই হবে তাবলিগের মার্কাজের মুরবি্বদের সুপারিশ অনুযায়ী৷ কোনো ধরনের জঙ্গি বা ক্ষতিকর গ্রম্নপের সন্দেহ হলে তাদের ভিসা দেয়া হবে না৷ এবার ইবোলা ভাইরাস জনিত কারনে ৬টি দেশের মুসুলিস্নদের বাংলাদেশে আগমনের ব্যাপারে এজতেমার মুরম্নবি্বদের আপত্তির কারনে ওই ৬ টি দেশ সমূহের মুসুলিস্নরা বাংলাদেশে আসতে পারবেন না৷ আর একারনেই এবার দেড় শ’টি দেশের মুসুলস্নীদের আসার কথা থাকলেও আপত্তির কারনে ১৪৪ টি দেশের মুসুলস্নী এবারের এজতেমায় যোগ দিচ্ছেন বলে আশা করা হচ্ছে৷

পকেটমার ও হকার গ্রেপ্তার/কারাদন্ড: টঙ্গী থানার ওসি কাজী ইসমাইল হোসেন জানান, শুক্রবার দুপুর পর্যনত্ম ইজতেমাস্থল ও আশে-পাশে অভিযান চালিয়ে কয়েক হকার ও পকেটমারকে আটক করা হয়েছে৷ তিনি জানান, পকেটমার-ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারে এবং হকার উচ্ছেদে ইজতেমা এলাকায় পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে৷ পুলিশের তত্‍পরতার কারনে অন্যবারের তুলনায় এবারের এজতেমা এলাকায় পকেটমার ও ছিনতাইয়ের ঘটনা তুলনামুলক অনেক হ্রাস পেয়েছে৷

ভ্রাম্যমাণ আদালত:  ইজতেমা মাঠের আশপাশ এলাকায় হোটেল রেসত্মোরা বৃহস্পতিবার ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা ও আদায় করেছেন৷ জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠে আশপাশ এলাকার বৃহস্পতিবার দুই শিফটে মোট ১০টি ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালায়৷ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যনত্ম অভিযান চালিয়ে খাদ্যে ভেজাল ও ৰতিকর খাদ্য দ্রব্য রাখা ও বিক্রয়ের অভিযোগে বিশুদ্ধ খাদ্য আইনে পৃথক ১০টি মামলা ও সাড়ে ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়৷ এর মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মশিউর রহমান খান ৪টি মামলায় সাড়ে ৬হাজার টাকা এবং নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রেবেকা সুলতানা ৬ টি মামলা ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করেন৷

মিডিয়ার জন্য ফ্রি ওয়াই ফাই :  টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে পুলিশের কন্ট্রোল রম্নমের পাশাপাশি এবার মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে৷ গাজীপুর জেলা পুলিশের পৰ থেকে মিডিয়া কর্মীদের জন্য ফ্রি ওয়াই ফাই-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ গাজীপুর পুলিশ সুপার মো. হারম্নন অর রশিদ জানান, সংবাদ সংগ্রহে আসা সংবাদকর্মীদের জন্য একটি মিডিয়া সেন্টার ও সেখানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের (ফ্রি ওয়াইফাই জোন) ব্যবস্থা করা হয়েছে এ বছর৷

হেলিপ্যাড : দুর্ঘটনা ও ভিআইপি বহনের জন্য টঙ্গীর শহীদ আহসান উলস্ন্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে একটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে বলে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার জানান৷

যৌতুকবিহীন বিয়ে শনিবার: ইসলামিক শরিয়া অনুযায়ি আজ (শনিবার) বাদ আসর যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হবে৷ সকাল থেকে ওইসব বিয়ের জন্য বয়ান মঞ্চের কৰেই বর-কনের নাম তালিকাভুক্ত করা হবে৷ ইজতেমার মুরম্নব্বীদের দেয়া তথ্যমতে, ১৯৪৬ সালে প্রথম কাকরাইল মসজিদে ইজতেমার আয়োজন শুরম্ন করা হয়৷ তারপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজী ক্যাম্পে ও ১৯৫৮ সালে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়৷ এরপর লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৬৬ সালে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বর্তমানস্থলে স্থানানত্মর করা হয়েছে৷ পরে সরকারীভাবে তুরাগ তীরের ১৬০একর জমি স্থায়ীভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়৷