বিশ্ব ইতিহাসে ২০১৫ হবে একটি মাইলফলক : শেখ হাসিনা

20150109050452

দৈনিকবার্তা-ঢাকা ৯ জানুয়ারি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্ব ইতিহাসে ২০১৫ সাল একটি মাইলফলক হতে যাচেছ৷ গত ৭ জানুয়ারি নিউ ইউরোপ ম্যাগাজিনের বিশেষ সংখ্যায় ২০১৫ সালে আমাদের বিশ্ব শিরোনামে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে তিনি এ কথা বলেছেন৷ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ব্রাসেলভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ১৯৯৩ সাল থেকে প্রকাশিত হচ্ছে৷

প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়, আমরা নতুন বছরে প্রবেশ করতে যাচিছ৷ ২০১৫ সাল এবং পরবর্তীতেও আমাদের ভাবমূর্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন৷ ভবিষ্যত্‍ যে পুরোটাই অনিশ্চিত- তা নয়৷ আমাদের ভবিষ্যত্‍ আমাদেরকেই গড়ে তুলতে হবে৷ ২০১৫ সালে আমাদের বিশ্ব এবং ২০১৫ সালের পরবতর্ীতে আমাদের বিশ্ব কেমন হবে, সেটি এখন থেকেই স্বপ্ন দেখতে হবে৷ এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আমাদের বর্তমান কর্মকান্ডের উপর৷ বর্তমানে আমরা কি করছি- তার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে ভবিষ্যত্‍৷ আমাদের কর্মকা- আমাদের কথায় প্রতিফলিত হবে এবং এভাবেই আমরা পূর্বাভাস দিতে পারবো- সুন্দর এক ভবিষ্যতের৷

নিবন্ধে বলা হয়, ২০১৫ সালের পরবতর্ীতে বিশ্বের জন্য আমাদের রূপকল্প হওয়া উচিত জনগণের আশা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানো৷ এ জন্য শানত্মির সংস্কৃতি, উন্নয়নের অধিকার, ভবিষ্যত্‍ সমঅধিকার, জনগণের বিশেষ করে নারীর ৰমতায়ন, সকলের জন্য শিৰা, স্বাস্থ্য ও ব্যাপক অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি, সকলের জন্য ন্যায়ভিত্তিক সমান সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা৷ একটি প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক মানবিক সমাজ গড়ে তোলা৷ এই বিশ্বের প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে এই রূপকল্প বাসত্মবায়ন নির্ভর করে৷নিবন্ধে আরো বলা হয়, উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হচেছ দারিদ্র্য এবং অজ্ঞতা৷ অতএব ২০১৫ সাল পরবতর্ী উন্নয়ন এজেন্ডায় মূল বিষয় হতে হবে দারিদ্র্য নিরসন ও শিক্ষা বিসত্মার ঘটানো৷

01092015_03_BISHWA_IJTEMA

এখন পর্যনত্ম ৬ কোটি শিশু শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে৷ তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ কিশোরী এবং ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন লোক এখনো চরম দারিদ্র্যতার মধ্যে বসবাস করে৷ এই বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে আমরা টেকসই উন্নয়ন করতে পারি না৷বাংলাদেশ সরকার জাতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সহস্রাব্দ উন্নয়ন লৰ্য (এমডিজি) অনত্মভর্ুক্ত করেছে৷ রূপকল্প-২০২১তে এই জনমুখী কর্মসূচি অনত্মভর্ুক্ত রয়েছে৷ বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর মধ্য আয়ের দেশ হবে৷ এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে৷ আমরা ইতোমধ্যেই এমডিজি-১, ২, ৩, ৪, ৫ ও ৬ পূরণ অথবা মূলধারায় অবস্থান করতে সক্ষম হয়েছি৷

দারিদ্র্যতা ১৯৯১ সালে ছিল ৫৭ শতাংশ৷ সেখান থেকে হ্রাস পেয়ে এখন ২৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে৷ এ কথা উলেস্নখ করা প্রয়োজন, এমডিজি বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য দূরীকরণে সর্বাধিক সফল এজেন্ডা৷ পাশর্্ববতর্ী দেশগুলো এবং অঞ্চলে এমডিজি বাসত্মবায়নে ভিন্নতা রয়েছে৷ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন লোক এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে৷ উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে৷ ফলে ২০১৫ পরবতর্ী এজেন্ডায় দারিদ্র্য বিমোচনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে৷

এ কথা আজ আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে, মেয়েরা শিক্ষার ৰেত্রে নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচেছ৷ এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমাজে নানা প্রতিকূলতা রয়েছে৷ বাংলাদেশ সরকারের প্রতিটি নীতির লৰ্য হচ্ছে নারীশিক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়নে সকল বাধা বিপত্তি দূর করে এগিয়ে যাওয়া৷ এ লক্ষ্যে তাঁর সরকার দ্বাদশ শ্রেণী পর্যনত্ম নারীশিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করেছে এবং ভবিষ্যতে স্নাতক পর্যনত্ম এই সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে৷

প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে শিৰার হার বৃদ্ধি করতে দরিদ্র পরিবারের কন্যা সনত্মানদের জন্য বৃত্তি ও স্কুল ফিডিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা তহবিল থেকে ২০১৪ সালে ১ কোটি ২৮ লাখ শিৰাথর্ীকে বৃত্তি দেয়া হয়েছে৷ এদের মধ্যে ৭৫ ভাগ মেয়ে৷ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬০ ভাগ শিক্ষকের পদ নারী শিৰকদের জন্য সংরৰণ করা হয়েছে৷ অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে৷ স্কুেলর ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা এখানে পাঠলাভের সুযোগ পাচ্ছে৷ সরকারের নারী উন্নয়ন নীতিতে শিক্ষা সুবিধা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে৷ ২০১১ সালে এটি প্রণয়ন করা হয়৷

তিনি উল্লেখ করেন, মেয়েদের আত্মকর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে ৬টি কারিগরি শিৰা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে৷ কলেজগামী শিক্ষাথর্ীদের দৰ প্রশিক্ষণ এবং তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ এশিয়ার দেশগুলো নারীদের উচচশিক্ষা গ্রহণে চট্টগ্রামে প্রথম এশীয় মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে৷ আমরা ২০১৫ পরবতর্ীতে আমাদের রূপকল্প এবং আগামী দশকে আমাদের করণীয় সম্পর্কে আমাদের মিশন কি হবে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি৷

রাজনীতি, সরকারি, বেসরকারি চাকরি, বিচার বিভাগ, সশস্ত্র বাহিনী, কারিগরি পেশা, বিমান চালনাসহ সকল পেশায় এবং খেলাধুলায় ফুটবল, ক্রিকেটসহ সকল ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ আমরা হিমালয় পর্বত জয় করেছি৷ বিশ্বে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যে দেশে প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী, সংসদ নেতা ও উপনেতা নারী৷ বিশ্বের পশ্চিমাঞ্চলের অনেক দেশে এমন চিত্র পাওয়া যাবে না৷ আমাদের কমর্ীর সংখ্যা গত তিন বছরে ২৪ থেকে ৩৬ ভাগে উন্নীত হয়েছে৷ নারীরা আমাদের প্রবৃদ্ধি ৬.২ ভাগ অর্জনে অবদান রাখছে৷ বিশ্বে তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়৷

প্রধানমন্ত্রী নিবন্ধে বলেছেন, আমরা অতীত অভিজ্ঞতা এবং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি৷ অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা শক্তি সঞ্চয় করেছি৷ অতীতের শিক্ষা বিবেচনায় রেখে আমরা ভবিষ্যত্‍ কর্মপন্থা নির্ধারণ করছি৷ আমাদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচেছ বর্তমান, যেখানে আমাদের অবস্থান ৷ এই বর্তমানের উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যত্‍ হচ্ছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ৷ যা আমরা আমাদের সনত্মানদের জন্য রেখে যেতে চাই৷