শনিবার বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

01092015_02_BANGABANDHU

দৈনিকবার্তা-ঢাকা ৯ জানুয়ারি: শনিবার ১০ জানুয়ারি শনিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস৷পাকিসত্মানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন৷ তিনি পাকিসত্মান থেকে লন্ডন যান৷ তারপর দিল্লী হয়ে ঢাকা ফেরেন৷দিবসটি পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে৷

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন৷
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু সর্বসত্মরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান৷ স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পর পাকিসত্মানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে তাঁকে গ্রেফতার করে তদানীনত্মন পশ্চিম পাকিসত্মানের কারাগারে আটক রাখা হয়৷১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিসত্মানি সৈন্যদের বিরম্নদ্ধে নয় মাস যুদ্ধের পর চূড়ানত্ম বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে৷

জাতির পিতা পাকিসত্মান থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি ভোররাতে ইংরেজি হিসাবে ৮ জানুয়ারি৷ এদিন বঙ্গবন্ধু ও ড. কামাল হোসেনকে বিমানে তুলে দেয়া হয়৷ সকাল সাড়ে ৬টায় তাঁরা পেঁৗছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে৷ বেলা ১০টার পর থেকে তিনি কথা বলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দিন আহমদ ও ভারতের তত্‍কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে৷ পরে ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর একটি বিমানে করে পরের দিন ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন৷

দশ তারিখ সকালেই তিনি নামেন দিলি্লতে৷ সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সমগ্র মন্ত্রিসভা, প্রধান নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অন্যান্য অতিথি ও সেদেশের জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমান৷বঙ্গবন্ধু ভারতের নেতৃবৃন্দ এবং জনগণের কাছে তাদের অকৃপণ সাহায্যের জন্য আনত্মরিক কৃতজ্ঞতা জানান৷ তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করেছিলেন অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা হিসেবে৷

বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পেঁৗছেন ১০ জানুয়ারি৷ ১৬ ডিসেম্বর চূড়ানত্ম বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য অধীর অপেক্ষায় ছিল৷ আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যনত্ম তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান৷ বিকাল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন৷ সশ্রদ্ধ চিত্তে তিনি সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন, সবাইকে দেশগড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন৷

বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী সরকার তাঁর নির্দেশিত যুদ্ধ পরিচালনা করে৷ নয় মাসের যুদ্ধের এক পর্যায়ে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ চূড়ানত্ম রূপ নিতে শুরম্ন করে৷ ধীরে ধীরে স্বাধীনতা অর্জনের পথে মুক্তিযোদ্ধা, জনতা ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণ তীব্র হয়৷ জয় তখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় মাত্র৷ একই সাথে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তোলা হয় প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে৷ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচচার হলে পাকিসত্মানী বর্বর শাসকগোষ্ঠী বাধ্য হয় তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দিতে৷

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন৷১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন৷ ২৩ সদস্য বিশিষ্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে৷স্বাধীনতা পরবতর্ী প্রথম সরকারের সাফল্য ছিল যুদ্ধবিধ্বসত্ম দেশ পুনর্গঠন এবং প্রায় এক কোটি শরণাথর্ীর পুনর্বাসন৷ বঙ্গবন্ধু সরকার অত্যনত্ম সাফল্যের সাথে এই গুরম্ন দায়িত্ব সম্পন্ন করে৷ দুর্ভিক্ষের যে আশংকা করা হয়েছিল সরকার তা অত্যনত্ম দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করে৷

সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন নতুন সরকারের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়৷ শতাধিক রাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বীকৃতি অত্যনত্ম অল্প সময়ের মধ্যে আদায়ে সক্ষম হয় সরকার৷ স্বাধীনতালাভের তিন মাসের মধ্যেই বাংলার মাটি থেকে ভারতীয় সৈন্যদের প্রত্যাবর্তন বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছিল৷

১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ জারিকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল আদেশ বলে গণপরিষদ গঠন করে নভেম্বর মাসের মধ্যেই দেশের জন্য একটি সংবিধান উপহার দেয়া হয় এবং যা কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর৷

বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন দিবস উপলৰে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামীকাল সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন এবং ১২ জানুয়ারি সোমবার বিকেল ২ টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়াদর্ী উদ্যানে আলোচনা সভা৷আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী৷ বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করবেন৷