কার্যালয়েই অবরুদ্ধ খালেদার মোনাজাত

কার্যালয়েই অবরুদ্ধ খালেদার মোনাজাত

দৈনিকবার্তা-ঢাকা ১১ জানুয়ারি:  প্রতিবার টঙ্গী গিয়ে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিলেও এবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুলশানে তার নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে বসেই মোনাজাত করেছেন৷ আর সেখানেই তিনি গত এক সপ্তাহ ধরে ‘অবরুদ্ধ’ রয়েছেন৷ রোববার সোয়া ১১টায় মোনাজাত শুরু হলে টেলিভিশনের সামনে বসে সরাসরি সমপ্রচার দেখে বিএনপি চেয়ারপারসন আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন৷ এমনটাই জানালেন চেয়ারপারসেনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল৷ এ সময় তার পাশে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানাসহ বেশকয়েকজন নারী নেত্রী৷এর আগে তাবলীগ জামায়াতের নেতারা তার কার্যালয়ে গিয়ে বিশ্ব ইজতেমার দাওয়াত দিয়ে আসেন৷ তবে এবারই বিএনপির দেয়া অবরোধেই অনুষ্ঠিত হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব৷ এদিকে আবার সোমবার গাজীপুরে হরতাল ডেকেছে বিএনপি৷

এদিকে, গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যলয়ে আবারো জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা৷ আশেপাশে রাখা হয়েছে ৭টি বালুভর্তি ট্রাক৷ রোববার দুপুরে এসব ট্রাক আসতে শুরু করে৷পুলিশ জানিয়েছেন, বিশ্ব ইজতেমা শেষে দল বেধে মুসলি্লরা আসার পথে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্যই এই কড়াকড়ি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে৷ এর আগে, গত ৩ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে হাজির হয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়ে সেখানেই অবস্থান নেন৷ পর দিন ৪ তারিখে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ১৩টি মাটি ও বালুর ট্রাক মোতায়েন করা হয়৷পরবর্তী ৩/৪ দিনের মধ্যে একে একে সেসব ট্রাক সরিয়ে ফেলা হয়৷ তবে রোববার থেকে নতুন করে মাটির ট্রাক মোতায়েন শুরু হয়েছে৷

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাত থেকে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন বিএনপি প্রধান৷ ৫ জানুয়ারি সোমবার পুলিশি বাধায় গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে কার্যালয় থেকে বের হতে ব্যর্থ হয়ে বিকেলে অনির্দষ্টকালের অবরোধের ডাক দেন বেগম জিয়া৷ ইজতেমা উপলক্ষে অন্তত অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হলেও কোনো কর্ণপাত করেননি তিনি৷ এদিকে, গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির ৩ জন সদস্য৷ রোববার সন্ধ্যায় তারা চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে যান৷

খালেদা জিয়া গত ৩ জানুয়ারি রাতে গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার পর স্থায়ী কমিটির কোনো নেতাকেই তার ধারেকাছে দেখা যায়নি৷ এর অষ্টম দিনের মাথায় সেখানে গেলেন সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যরিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া প্রমুখ৷ প্রথমে মাহবুবুর রহমান রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন৷ এর মিনিট দশেক পর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে প্রবেশ করেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া৷

খালেদা জিয়ার গুলশানের অফিসের সামনে সকালে বালির ট্রাক এনে বিকালে আবার সরিয়ে নিয়েছে পুলিশ৷ তবে ওই কার্যালয় ঘিরে পুলিশি নিরাপত্তা রয়েছে আগের মতোই৷ পুলিশ বলছে, বিশ্ব ইজতেমা শেষে দল বেঁধে মুসলি্লরা আসার পথে কেউ যাতে সুযোগ নিতে না পারে’ সেজন্যই নিরাপত্তার কড়াকড়ি করা হয়েছিল৷ যে সড়কে খালেদার অফিস, সেই ৮৬ নম্বর সড়কসহ আশ-পাশের দুটি সড়কে রোববার সকাল থেকেই যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়, বসানো হয় পুলিশের চেক পোস্ট৷ গত ৩ জানুয়ারি ওই অফিস থেকে বেরিয়ে নয়া পল্টনে যেতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া৷ তারপর থেকে পুলিশি ঘেরাওয়ের মধ্যে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন৷ ৫ জানুয়ারি পুলিশ ওই কার্যালয়ের ফটকে পুলিশ তালা দিলে সমাবেশের জন্য বের হতে না পেরে সারা দেশে লাগাতার অবরোধের ঘোষণা দেন খালেদা৷

গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের বিশ্ব ইজতেমার কথা বিবেচনা করে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান থাকলেও বিএনপি তাতে সাড়া দেয়নি৷ রোববার দুপুরে গুলশানের ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায় পুলিশের পাশপাশি দাঙ্গা পুলিশের সদস্যরা কার্যালয়ের দুই পাশের সড়কে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেছেন৷ সড়কের দক্ষিণ দিকে চারটি এবং উত্তর দিকে তিনটি ইট-বালুর ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখতেও দেখা যায়৷ গুলশান পুলিশের সহকারী কমিশনার নুরুল আলম সে সময় বলেন, নিরাপত্তা আগে থেকেই ছিল৷ এখন তা আরো জোরদার করা হয়েছে৷

তবে পুলিশের আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুপুরে বলেন, ইজতেমা থেকে মুসলি্লদের ফেরার পথে খালেদার অফিস ঘিরে যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্যই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে৷ এরপর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সড়কের দুই মাথা থেকে বালুর ট্রাক সরিয়ে নেওয়া হলেও পুলিশি নিরাপত্তা অব্যাহত থাকে৷ তালা এখন খোলা থাকলেও পুলিশের অনুমতি ছাড়া কাউকে ওই কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না৷ সাবেক সাংসদ হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতার, শওকত আরা উর্মি, মাসুদা মির্জা, শাহিনুর আখতার সাগর, সুলতানা রাজিয়া বেলা ১২টার দিকে পুলিশের অনুমতি নিয়ে ভেতরে ঢোকেন৷ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম,খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান ও চেয়ারপারসনের নিরাপত্তার সমন্বয়কারী আবদুল মজিদ কার্যালয়ের ভেতরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছেন৷