জামায়াত-শিবিরের ৫ নেতা ও তাজুলের বিরুদ্ধে অবমাননার রুল

jamaat-i-islami-mokbul-ahmed_64791

দৈনিকবার্তা-ঢাকা ১২ জানুয়ারি: আদালত অবমাননার অভিযোগে জামাত-শিবিরের ৫ নেতা ও তাদের আইনজীবী তাজুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনাল-১৷তারা হলেন- জামাতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ড. শফিকুর রহমান, জামাতের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল জব্বার ও সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান এবং ট্রাইবু্যনালে জামাত নেতাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম৷ সোমবার চেয়ারম্যান এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইবু্যনাল এ নোটিশ জারি করেন৷

ট্রাইবু্যনালের রায় নিয়ে মন্তব্য করায় কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়া হবে না- তা জানতে চেয়েছে ট্রাইবু্যনাল৷

দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের ট্রাইবু্যনালে হাজির হয়ে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে৷ এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে ২৮ জানুয়ারি৷গত ১ জানুয়ারি সংগঠন হিসেবে জামাত ও ওই ৬ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইবু্যনাল অবমাননার অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন৷৫ জানুয়ারি এ বিষয়ে শুনানি করে সোমবার আদেশের দিন রেখেছিল ট্রাইবু্যনাল৷ আদেশে সংগঠন হিসেবে জামাত

ট্রাইবু্যনালের রায় নিয়ে মন্তব্য করায় কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়েছে ট্রাইবু্যনাল৷দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের ট্রাইবু্যনালে হাজির হয়ে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে৷ এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে ২৮ জানুয়ারি৷

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এ আদেশ দেয়৷ইসলামের চেতনা ও নবীর সুন্নতের সঙ্গে জামায়াতের সহিংস কর্মসূচি কতোটা খাপ খায়- সে বিষয়েও আসামিপক্ষ ও প্রসিকিউশনকে শুনানি করতে বলেছে ট্রাইবু্যনাল৷ট্রাইবু্যনাল চেয়ারম্যান এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, এ বিষয়ে ট্রাইবু্যনালের গত রায়ে বলা ছিল৷ আমরা এ বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে চাই৷

ট্রাইবু্যনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম এবং বিবাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট মো. শিশির মনির এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন৷ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে গত ১ জানুয়ারি সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী এবং ওই ছয়জনের বিরুদ্ধে অবমাননার এই অভিযোগ দাখিল করা হয়৷৫ জানুয়ারি এ বিষয়ে শুনানি করে সোমবার আদেশের দিন রেখেছিল ট্রাইবু্যনাল৷ আদেশে সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামী বাদে বাকিদের তলব করেছেন বিচারক৷

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের ফাঁসির রায়ের পর ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি হরতাল করে জামায়াত৷ সে সময় রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতি দিয়ে ট্রাইবু্যনালের বিচার নিয়ে বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য করেন জামায়াত-শিবিরের শীর্ষ নেতারা৷

আজহারের আইনজীবী তাজুল ইসলাম রায়ের পর বলেন, ‘ট্রাইবু্যনালে প্রসিকিউশন যে সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়েছে, সেটা গ্রহণ না করে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা হলেই সুবিচার হতো৷ এসব সাক্ষ্য-প্রমাণে মৃতু্যদণ্ড হওয়া দূরের কথা, এসব অভিযোগ দাখিলের জন্য প্রসিকিউশনের জরিমানা হওয়ার দরকার ছিল৷আজহারের ফাঁসির রায়কে ‘অষ্টম আশ্চর্য বলেও আখ্যায়িত করেন এ আইনজীবী৷আগের বিভিন্ন রায় ঘিরেও যার আচরণ সমালোচিত হয়েছে বলে গণমাধ্যম অবহিত রয়েছে৷

এই প্রেক্ষাপটে প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত, জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সীমন, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, তাপস কান্তি বল ও রেজিয়া সুলতানা চমন গত ১ জানুয়ারি তাজুলসহ বাকিদের বিরুদ্ধে ট্রাইবু্যনালের রেজিস্ট্রারের দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেন৫ জানুয়ারি শুনানিতে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য-প্রমাণ ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেললে সুবিচার হতো- তাজুলের এ বক্তব্যে আদালত অবমাননা হয়েছে৷

এটিএম আজহারের রায়ের পর আসামিপক্ষ থেকে তাজুল ইসলাম যে বক্তব্য, অঙ্গভঙ্গি ও শব্দচয়ন করেছেন তা মোটেই আইনজীবীসুলভ ছিল না৷ তাজুল জামায়াত-শিবিরের প্রোপাগাণ্ডা মেশিন হিসেবে কাজ করছেন এবং ট্রাইবু্যনালের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য অপবাদ ছড়াচ্ছেন৷

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী এ দলটির সাত শীর্ষ নেতার রায়ের পর প্রতিবারই হরতাল ডাকা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে সহিংসতার ঘটনা৷ এর আগেও ট্রাইবু্যনালের বিভিন্ন রায়ের পর্যবেক্ষণে জামায়াতের এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে৷আজহারের রায় ঘোষণার আগে প্রারম্ভিক বক্তব্যে ট্রাইবু্যনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেছিলেন, ফৌজদারী মামলার রায়ে সকল পক্ষকে খুশি করা সম্ভব নয়৷ রায় পছন্দ না হলে সহিংস হওয়া কাম্য নয়৷ এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা উচিত্‍ নয়, যাতে রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারকরা চাপ অনুভব করেন৷

বিচারক বলেন, আমরা রায় হওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখি৷ বিবৃতি দিয়ে বা সহিংস হয়ে রায় পরিবর্তন করা যায় না৷ আইনের ভেতরে থেকে আইনের মাধ্যমে চেষ্টা করতে হয়৷

বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংবাদপত্রে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ের খবর ভুলভাবে আসছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন৷ট্রাইবু্যনাল চেয়ারম্যান বলেন, দেশ ও বিদেশের কয়েকটি মিডিয়া বলছে, এখানে ধর্মীয়ে নেতাদের রায় দেওয়া হচ্ছে৷ কিন্তু আমরা একাত্তরের অপরাধীদের বিচার করছি৷ তিনি কোন পর্যায়ের ইসলামিক বা ধর্মীয় নেতা সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়৷