44845

দৈনিকবার্তা-ঢাকা ১২ জানুয়ারি: যুদ্ধাপরাধ ইসু্যকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় তেল-গ্যাস-বিদু্যত্‍-বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ৷

সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান৷ তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা পরবর্তী নারায়ণগঞ্জের বাস্তবতা ও রাষ্ট্রের উদাসিনতা শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ৷

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন- অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, উদিচী শিল্পগোষ্ঠীর সভাপতি কামাল লোহানী, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ প্রমুখ৷

সংবাদ সম্মেলনে আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হয়েছে৷ কিন্তু এখন মনে হচ্ছে যুদ্ধাপরাধ ইসু্যকে সরকার তার সব অপকর্ম ঢাকার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করছে৷ যা আমরা গ্রহণ করতে পারছি না৷ যখনই দেশে কেউ কোনো আন্দোলন শুরু করে বা সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে তখনই তা চাপা দেওয়ার জন্য যুদ্ধাপরাধ বিষয়টিকে সামনে আনা হচ্ছে৷

তাই যুদ্ধাপরাধ ইসু্যকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার না করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাচ্ছি৷ পুলিশ-র্যাবের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ-র্যাব জনগণের নিরাপত্তা না দিয়ে, সন্ত্রাসীদের রক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে৷ তারা নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে কাজ করলেও বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ছে৷

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যক্তি৷ দেশে ভালো কিছু হলে তিনি তার সুফল নেন৷ তাই দেশে হত্যা, খুন, গুম হলে তার দায়-দায়িত্বও প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে৷ ত্বকী হত্যার স্পষ্ট প্রমাণ থাকলেও, আলামত থাকা সত্ত্বেও কেন বিচার করা হচ্ছে না? এটার দায়ও প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে৷

যে দেশের প্রধান ব্যক্তি সংসদে দাঁড়িয়ে হত্যাকারীর পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেয়, সেই হত্যাকাণ্ডে তদন্তকারী সংস্থার আর কিছুই করার থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বী৷

তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের লালনকারী কোন সরকার এ দেশে টিকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস৷ত্বকী হত্যার দায়ে অভিযুক্ত আজমেরী ওসমানকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ত্বকী হত্যা কার নির্দেশে হয়েছিল তা জানা যাবে বলেও জানান তিনি৷সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্য সচিব হালিম আজাদ৷হালিম আজাদ অভিযোগ করে বলেন, ত্বকী হত্যার ২ বছর পার হতে যাচ্ছে, অথচ এখনো এ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র দেয়া হয়নি৷ মূল অপরাধীরা এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে৷

তিনি বলেন, ত্বকী হত্যা মামলার অভিযুক্ত সকলকেই অভিযোগপত্রের আওতায় আনতে হবে৷ পাশাপাশি আইনের ফাঁক দিয়ে কেউ যেন বের হয়ে যেতে না পারে সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে৷সব অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তিনি৷এ সময় জাতীয় অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ মৃতু্যর দেশে পরিণত হয়েছে৷ যেখানে অস্বাভাবিক মৃতু্য আজ স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে৷

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কাছে মানুষের নিরাপত্তা নেই, তাই সমাজকেই জাগ্রত করে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে৷ সেই কাজটিই করে যাচ্ছে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ৷ কিন্তু যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে তাদেরকে হয় রাজাকার নয়তো মালাউনের বাচ্চা’ বলা হচ্ছে৷ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করা হচ্ছে৷ রাষ্ট্রের পরিচালকরা ভুঁয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফেকেট দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করছে৷

তিনি বলেন, এসবের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা লিখলেও তাদের কন্ঠ রোধ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে৷ সাংবাদিকরা দলীয় বিভাজনে বিভক্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ হলে সন্ত্রাসীদের মুখোশ উন্মোচন সম্ভব হবে৷জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে ত্বকী হত্যার বিচার করাও সম্ভব হবে বলে আশা করেন তিনি৷

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে উদীচীর সভাপতি কামাল লোহানী বলেন, ‘শেখ হাসিনা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজের পরিবার-পরিজন হারানোর ঘটনা বলে কান্নাকাটি করেন৷ অথচ ত্বকীর মতো একটি বাচ্চার মৃত্যুতে তার চোখ দিয়ে একবারও পানি বের হলো না৷ এমনকি হত্যার ২ বছর হতে চললেও তার কোন বিচার হলো না৷ তিনি কেমন মা?’

তিনি বলেন, ‘ত্বকী হত্যাকারীদের রক্ষা করতেই নামমাত্র তদন্ত রিপোর্ট দেয়া হয়েছে৷ তাই আমরা প্রকৃত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানতেও পারবো না৷ রাষ্ট্র ক্ষমতায় যারা আছেন তারা অন্ধ ও বধির৷ অন্যের আহাজারি কখনো শুনবে না, শুধু নিজেদের স্বাথের্র কথাই শুনবে৷ এমনকি নিজেদের স্বার্থে হেফাজত-জামায়াতের সঙ্গেও আঁতাত করে তারা৷’

অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, ‘সরকার সকল অপরাধের ঢাল হিসেবে যুদ্ধাপরাধীর বিচারকে ব্যবহার করছে৷ এতে করে সরকার অপরাধী গডফাদারদের জায়গা করে দিচ্ছে এবং প্রকৃত রাজাকাররাও জায়গা করে নিচ্ছে৷তিনি বলেন, ‘ত্বকী হত্যার বিচার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে চললে এতদিনে অনেকদূর এগিয়ে যেতো৷ পুলিশ-র্যাব জনগণের নিরাপত্তার পরিবর্তে সন্ত্রাসী, লুটেরা ও দখলদারদের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে৷ নারায়ণগঞ্জের সাত খুনই তার প্রমাণ৷ ত্বকী হত্যার আলামত পাওয়ার পরেও কেন বিচার হচ্ছে না, এর জবাব প্রধানমন্ত্রীকেই দিতে হবে এবং এর দায়ভারও তাকেই নিতে হবে৷’রফিউর রাব্বীর সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শফিকউদ্দিন আহমে