জঙ্গি ছাড়ার মুচলেকা দিলেই আলোচনা: এইচ টি ইমাম

gimg-2008-12-17-55886

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি: সংলাপের শর্ত হিসেবে বিএনপির কাছ থেকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়ার লিখিত মুচলেকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম৷বিএনপির সঙ্গে আলোচনা বা সংলাপ নয়৷ আগে তাদের লিখিত দিতে হবে, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও যুদ্ধাপরাধীর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই, তবেই তাদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে, বলেছেন তিনি৷

এইচ টি ইমাম মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনসিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির উদ্যোগে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও সাফল্যের এক বছর শীর্ষক এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন৷ সেমিনারে অংশ গ্রহন করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সম্পাদক আবেদ খান, বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল(অব.) আব্দুর রশিদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল ও একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মোজাম্মেল বাবু৷

আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসিম কুমার উকিলের পরিচালনায় সেমিনারে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান এবং সূচনা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি৷সরকার সংলাপ ডাকলে অবরোধ তুলে নেওয়া হবে- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া জানানোর দুদিনের মধ্যে মঙ্গলবার রাজধানীতে একটি আলোচনা সভায় এই শর্ত দেন এইচ টি ইমাম৷

দশম সংসদ নির্বাচন বয়কটের পর নির্দলীয় সরকারের অধীনে মধ্যবর্তী নির্বাচন চেয়ে আসছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট৷গত বছরের ৫ জানুয়ারির ওই নির্বাচনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে ভোট কারচুপির প্রমাণ হিসেবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইমামের একটি বক্তব্য তুলে ধরে আসছেন৷

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বছরপূর্তিতে গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কর্মসূচিতে বাধা পেয়ে লাগাতার অবরোধ ডাকেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া৷ বিক্ষিপ্ত ভাংচুর, বোমাবাজি, গাড়ি পোড়ানোর মধ্য দিয়ে সেই কর্মসূচি চলছে৷ বিএনপি দাবি করে এলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইমাম বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন দেওয়া কিংবা না দেওয়া পুরোপুরি সরকারের ওপর নির্ভর করে৷এ নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই৷ তবে সংবিধানের আওতায় থেকে নির্বাচনী আইন ও নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হতে পারে৷

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম বলেছেন, দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং সংলাপের কোন সম্ভাবনা নেই৷তিনি বলেন, বিএনপি গত জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ভুল করেছে তার খেসারত তাদেরই দিতে হবে৷ তাদের ভুলের দায় আওয়ামী লীগ ও দেশের জনগন নেবে না৷তিনি আরো বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে যেমন দেশের সংবিধান, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রৰা পেয়েছে তেমনি জঙ্গীবাদের উত্থান থেকেও দেশ রৰা পেয়েছে৷

এইচ টি ইমাম বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ৰমতা দখল করে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন৷ অবৈধ সরকারের সকল কর্মকান্ড অবৈধ৷ তাই দল হিসেবে বিএনপিও অবৈধ৷এইচ টি ইমাম বলেন, মুক্তিযুদের চেতনায় যারা বিশ্বাস করে কেবল তাদেরই দেশে বাস করার অধীকার রয়েছে৷

তিনি বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্যের লন্ডণ থেকে বের করে দেয়া বা তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হসত্মানত্মর করার জন্য সেদেশের ওপর চাপ প্রয়োগ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন৷আবেদ খান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ধীরে ধীরে মুসলিম লীগ হয়ে যাবে৷ কেননা ধীরে ধীরে জামায়াতে ইসলাম বিএনপিকে গ্রাস করে ফেলবে৷ এটাই ইতিহাসের নিয়ম৷

আব্দুর রশিদ বলেন, দেশে বর্তমানে মতাদর্শের লড়াই চলছে৷ এ লড়াইয়ে বিজয়ী হতে হলে নাগরিক মতামতের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহন করতে হবে৷ অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের মামলার রায় আপীল বিভাগে যাওয়ার পর রায়ের ৰেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা পরিলৰিত হচ্ছে৷তিনি এ বিষয়ে বলেন, আপীল বিভাগের এ দীর্ঘসূত্রিতা দূর করার জন্য একটি স্পেশালাইজ বেঞ্চ করে দেয়া উচিত৷ তাহলে যুদ্ধাপরাধের মামলা দ্রম্নত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে৷

মোজাম্মেল বাবু বলেন,দেশে আওয়ামী লীগের শতকরা ৪০ ভাগ রেজিষ্ট্রার্ড সমর্থক রয়েছে৷ আর বিএনপির রয়েছে আওয়ামী বিরোধী সমর্থক৷ তাদের নিজস্ব কোন সমর্থক নেই৷তিনি বলেন, সেজন্য আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারকে পতন করতে সমর্থ হলেও বিএনপির পৰে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব নয়৷অধ্যাপক আবদুল মান্নান তার মুল প্রবন্ধে সরকারের এক বছরের সফলতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণ এবং প্রথম বারের মতো চাল রপ্তানী কারক দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে৷

তিনি বলেন, গত এক বছরে একমাত্র শ্রীলংকা আর বাংলাদেশ ছাড়া এশিয়ার আর কোন দেশ জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার ধরে রাখতে পারেনি৷ বর্তমানে বাংলাদেশে এ প্রবৃদ্ধির হার আরো বেড়ে শতকরা ৬ দশমিক ১১ ভাগে উন্নীত হয়েছে৷অধ্যাপক মান্নান বলেন, বর্তমানে মাথাপিছু গড় আয় হলো ১১৯০ ইউএস ডলার এবং বছরের শেষ নাগাদ তা ১২০০ ইউএস ডলারে উন্নীত হবে বলে অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন৷ বিএনপি-জামায়াত জোট ৰমতা ছাড়ার সময় মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ ডলার৷

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ২৪ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে৷ যা আগামী বছরে ২০ শতাংশে নেমে আসবে৷ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ৰমতা ছাড়ার সময় শতকরা ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করত৷

মান্নান বলেন, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে ২৩ বিলিয়ন ডলারে দাড়িয়েছে৷ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ৰমতা ছাড়ার সময় রিজার্ভের পরিমান ছিল ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার৷ বিদু্যত উত্‍পাদনে সরকারের সফলতা যুগানত্মকারী উলেস্নখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ১৩ হাজার মেঘাওয়াট বিদু্যত্‍ উত্‍পাদিত হচ্ছে৷ ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় দেশে বিদু্যত্‍ উত্‍পাদনের পরিমান ছিল ৩হাজার ২শ’ মেঘাওয়াট৷

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের সফলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ৬৯ শতাংশ মানুষ শিৰিত হলেও ২০০৬ সালে তা ৪৪ শতাংশে ছিল৷তিনি গত বছর ১২ টি আনত্মর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশ নির্বাচিত হয়েছে উলেস্নখ করে বলেন, এ নির্বাচনে জয়লাভ করায় আনত্মজার্তিক ক্ষেত্রে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হয়েছে৷ এ সকল নির্বাচনের মধ্যে অন্যতম হলো সিপিইউ, আইপিইউ, আইএমএসও, আইটিইউ ও মানবাধীকার কমিশন অন্যতম৷