বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড রুখে দাঁড়ান: প্রধানমন্ত্রী

unnamed

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি: আন্দোলনের নামে সহিংসতা বন্ধ না হলে আরো কঠোর হবে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন৷কর্মসূচির নামে বিএনপি-জামাতের সহিংসতাকে জঙ্গিদের কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে এ জঙ্গি তত্‍পরতার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান শেখ হাসিনা৷

তিনি বলেন, কেউ যদি তার রাজনৈতিক পদক্ষেপে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে পিছিয়ে যায়, সেই দায়িত্ব তো জনগণের নয়৷ ফলে জনগণকে কেন খুন করতে হবে, মারতে হবে ও আগুন দিয়ে পুড়াতে হবে৷ এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না হলে এগুলো বন্ধ করতে আমাদের আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে৷ দেশের মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা দেয়া আমাদের কর্তব্য৷

এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নানা সাফল্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তহীনতার কারণে পিছিয়ে থাকা প্রাথমিক শিক্ষাকে বর্তমান সরকার এগিয়ে নিয়েছে৷অবরোধের নামে দেশব্যাপী সহিংসতা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সমালোচনা করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানান তিনি৷লক্ষ্য ছিল যে ২০০৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ নিরক্ষর মুক্ত হবে কিন্তু ২০০৯ সালে দেখা গেল আমরা পিছিয়ে রয়েছি৷ যে লক্ষ্যমাত্রা যেটা ২০১৫ সালের মধ্যে অর্জন করার কথা সেটা ২০১১ সালেই বাংলাদেশ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে৷ অনেক দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ৷

এ সময় প্রাথমিক শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকার এরইমধ্যে বিদ্যালয় জাতীয়করণ, শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের হার কমাতে শিক্ষাবৃত্তিসহ শ্রেণীকক্ষ উন্নয়নে নানা সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী৷নাশকতা না থামালে সরকার আরো কঠোর হবে বলে বিএনপি-জামায়াতকে সতর্ক করে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷

রংপুরে বাসে আগুন দিয়ে চারজনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা তুলে ধরে বুধবার রাজধানীর ওসামানী মিলনায়তনের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর নিন্দা জানানোর ভাষা তার জানা নেই৷বরং আমি এটাই বলব, এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন৷ আর তা না হলে আমাদেরকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে৷বিএনপির টানা অবরোধের মধ্যে মঙ্গলবার গভীর রাতে রংপুরের মিঠাপুকুরে বাসে আগুন দেওয়া হলে এক শিশুসহ চারজন জীবন্ত দগ্ধ হন৷ আগুনে পোড়া আরো কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা তো রাজনীতি না৷ এটা জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড, এটা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড৷ এদের বিরুদ্ধে সারাদেশকে, সারাদেশের মানুষকে রুখে দাঁড়াতে হবে৷

প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, গত এক বছরে সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে কাজ করেছে তাতে বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদার আসন পেয়েছে; উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে৷তিনি বলেন, সরকার পহেলা জানুয়ারিতে স্কুলের ছেলেমেয়েদর বই দিয়েছে, যাতে তাদের একটি দিনও নষ্ট না হয়৷অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট নতুন বছরের শুরু থেকেই হরতাল-অবরোধ করে আগুন দিয়ে ‘মানুষ মারছে’ বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী৷

মানুষকে পুড়িয়ে মারা, এটা কি ধরনের আন্দোলন- এটা আমি জানি না৷ আমরা রাজনীতি করি তো মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য৷ কিন্তু রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কথা চিন্তা করে মানুষকেই যদি মারা হয়, মানুষকেই যদি এভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়, একেকটা পরিবারকে যদি ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, তাহলে কার জন্য রাজনীতি? কিসের জন্য রাজনীতি?নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াত নির্বাচন করতে পারেনি বলেই বিএনপি গতবছর ৫ জানুয়ারির ভোট বর্জন করেছিল বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা৷

বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, রাজনীতিতে কেউ যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তার খেসারত কি জাতিকে দিতে হবে? তার খেসারত কি মানুষকে দিতে হবে? নিজে নির্বাচনে আসেননি৷ আর এখন? মানুষ পুড়িয়ে মারা৷গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনে ঢাকায় জনসভা করতে না পেরে নিজের গুলশানের কার্যালয়ে পুলিশি ঘেরাওয়ে অবরুদ্ধ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সারা দেশে অবরোধের এই ঘোষণা দেন৷

বিশ্ব ইজতেমার মধ্যেও হরতাল-অবরোধ চালিয়ে যাওয়ায় বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী, বিশ্ব ইজতেমার মধ্যেও অবরোধ দিয়ে রেখেছে৷ আবার এরাই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য৷প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার৷ শিক্ষিত মা এক সুরভিত ফুল/প্রতিটি ঘর হবে এক একটি স্কুল- এই স্লোগানে পালিত হচ্ছে এবারের শিক্ষা সপ্তাহ৷স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া রোধ করতে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে স্কুলের নিজস্ব তহবিল তৈরি করার উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান৷

আমার মনে হয় স্কুলের শিক্ষক, অভিবাবক, স্কুল কমিটি, স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার সম্পদশালী মানুষেরা যদি সকলে একত্রিত হন, তারা যদি সহযোহিতা করেন এবং প্রত্যেকটা স্কুল যদি নিজস্ব একটা তহবিল তৈরি করেন; মিডডে মিলের ব্যবস্থা যদি করেন তাহলে মনে হয় ঝরে পড়া অনেকটাই কমে যাবে৷ এ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি৷ইতোমধ্যে সরকারের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের দরিদ্র বাবা-মাকে ভাতা দেওয়া, মিডডে মিলের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমে গেছে বলে জানান তিনি৷

শেখ হাসিনা জানান, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর জন্য ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য থাকলেও ২০১১ সালের মধ্যে বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযুক্ত শতভাগ শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করা হয়েছে৷এ লক্ষ্যে অনুন্নত জনপদ ও ক্ষুদ্র নৃতাত্তি্বক জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত ৫১টি জেলায় ২১ হাজার ৬২৩টি আনন্দ স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন৷প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ছয় বছরে দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে সাড়ে চার কোটিতে পৌঁছেছে৷

তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ভবিষ্যতে প্রাথমিক স্কুলেও কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি৷ভবিষ্যতে শিক্ষা কার্যক্রমে ই-বুকের প্রাধান্য থাকবে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন তথ্য-প্রযুক্তির যুগ, কম্পিউটারের যুগ, ল্যাপটপের যুগ; পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা চাই, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা একগাদা বই হাতে করে যাবে না৷ তাদের হাতে একটা করে ল্যাপটপ থাকবে, অথবা আইপ্যাড থাকবে৷

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠার সুফলের কথাও তিনি অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন৷ এবছর শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য শ্রেষ্ঠ জেলা প্রসাশক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই কর্মকর্তা, শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানসূচক পদক দেন প্রধানমন্ত্রী৷এছাড়া আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০১৪ এ বিজয়ী ১০৪ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী৷