Chatmohar-Gom-Photo-01

দৈনিকবার্তা-মেহেরপুর, ২২ মার্চ: মেহেরপুর জেলার গমচাষিরা এখন গম কাটা মাড়া নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। আগামী ১০দিনের মধ্যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকরা তাদের আবাদের গম ঘরে তুলবে। চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আশা করছে কৃষক ও কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে কৃষকরা জমি থেকে গম সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। গমের বাজারদামও ভালো পাবে বলে আশা করছে কৃষক।কৃষি বিভাগের হিসেব মতে এ বছর জেলায় মোট ১৭ হাজার ৪১৩ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। চাষকৃত জমি থেকে ৬৯ হাজার ৬৫২ মেট্রিক টন গম উৎপাদিত হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। যা গত বছরের তুলনায় এক হাজার মেট্রিকটন গম বেশি উৎপাদন হবে।

কৃষি বিভাগের হিসেব মতে, এ বছর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের আওতাধীন বাংলাদেশ গম গবেষণা ইন্সটিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল বারি-২৫, ২৬, ২৭, ২৮, শতাব্দী, সৌরভ ও প্রদীপ নামের বিভিন্ন জাতের গম চাষ হয়েছে। সাধারণত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত গম বীজ বপন করা হয়। বীজ বপন থেকে শুরু করে ১৫০ দিনের মধ্যেই গম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে গম চাষের ও পরিবর্তন ঘটেছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের গম তাপমাত্রা সহনীয় তাই বর্তমানে উচ্চ ফলনশীল জাতের গমের চাষ করছে কৃষকরা। এতে কৃষকরা এবার ভালো ফলন পাচ্ছে। আগে কৃষকরা কাঞ্চন, সোনালিকাসহ স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত জাতের বীজ দিয়ে গম চাষ করত কিন্তু বর্তমানে উচ্চ ফলনশীল জাতের গম চাষ করছে কৃষকরা।

সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের গম চাষি আব্দুর রশিদ জানান, চলতি মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে গমের চাষ করেছেন। এই জমি থেকে ৬০ মন গম উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন। তিনি বারি-২৭ ও ২৮ জাতের গম চাষ করে ভাল ফলন পেয়েছেন।গাংনী উপজেলার ভোমরদহ গ্রামের গম চাষি শাহারুল ইসলাম জানন, তিনি এবার ৯ বিঘা জমিতে বারি-২৬, ২৭ ও ২৮ উচ্চ ফলনশীল জাতের গম চাষ করেছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক পদ্ধতিতে গম চাষ করে এবার তিনি ভালো ফলন হয়েছে। বিঘা প্রতি ১৪-১৭ মণ হারে গম উৎপাদন হবে বলে তিনি আশা করছেন।মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারন অদিপ্তরের উপ-পরিচালক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আবহাওয়া গম চাষের অনুকূলে থাকায় এবার গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। ইতোমধ্যে কৃষকরা জমি থেকে গম সংগ্রহ করতে শুরু করেছে এবং তারা গমের ফলন ভালো পাচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের গম চাষে কৃষকদের ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করায় জেলায় চলতি মৌসুমে ব্যাপকভাবে চাষ বেড়েছে।