CPB

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ২০ জুন: বাংলাদেশ, ভারত,নেপাল এবং ভুটান এ চারদেশিয় মোটরযান চলাচল চুক্তি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নসহ আরো গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান৷ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা জানান৷দক্ষিণ এশিয়ার আন্ত: যোগাযোগ ও বাণিজ্য সুবিধা শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)৷এ চুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ওপর জোর দিয়েছেন গবেষণা সংস্থাটির প্রতিনিধিরা৷দক্ষিণ এশিয়ার আন্তঃযোগাযোগ ও বাণিজ্য সুবিধা শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি৷ সমপ্রতি বাংলাদেশ-ভারত- নেপাল-ভুটানের মধ্যে সম্পাদিত মোটরযান চলাচল চুক্তি বাংলাদেশের ব্যবসা-বিনিয়োগ ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়৷

এ চুক্তি বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ এবং জনগনের মধ্যে সম্পর্ক ও যোগাযোগ উন্নয়নের ক্ষেত্রে জরুরী বলে মত দেন তারা৷ সেক্ষেত্রে অবকাঠামো নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ, ট্রানজিট মাশুল আদায়সহ বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন৷তবে এ চুক্তি বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের৷সংলাপে যোগ দিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও চুক্তি বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বলেন, ট্রানজিট মাশুলের বিষয়গুলো নিজ নিজ দেশের আইন অনুযায়ীই নির্ধারিত হবে৷ নিরাপত্তা, পরিবহন চলাচলের নিয়মও আইন ও আলোচনার মধ্য দিয়েই নির্ধারন হবে৷তবে চাইলে প্রতিবেশী অন্যান্য দেশও এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী৷ দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হচ্ছে মেট্রোরেলের কাজ, এরইমধ্যে পদ্মাসেতু নির্মাণেরও ২০% কাজ শেষ হয়েছে৷ শিগগিরই এলিভেটেড এঙ্প্রেসওয়ে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৬ লেনে উন্নীত করার হবে৷এ মাসেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক খুলে দেয়ার কথাও জানান ওবায়দুল কাদের৷

৩০ জুন ঢাকা-ময়মনসিংহ চারলেন মহাসড়ক যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের৷কাদের বলেন, ঈদে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি কমাতে ৩০ জুন ঢাকা-ময়মনসিংহ চারলেন মহাসড়ক খুলে দেওয়া হবে৷ এবার এ মহাসড়কে কাউকেকোন দুর্ভোগ পোহাতে হবে না৷ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন প্রসঙ্গে সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি কত চ্যালেঞ্জিং আমি জানি৷ গত সাড়ে ৩ বছরে ১০৩ বার পরিদর্শন করেছি৷রাস্তার পাশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, শ্মশান, কবরস্থান রয়েছে৷ এগুলো সরানো বেশ কঠিন, সরাতে অনেক সময়ও লেগেছে, যোগ করেন তিনি৷কাদের বলেন, এরইমধ্যে কমপক্ষে ১৯০ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ২০টি সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে৷ নতুন নির্মিত ১০০ কিলোমিটার সড়কেও যান চলাচল শুরু হয়েছে৷সড়কের প্রশস্ততা দ্বিগুণ হওয়ায় অনেকাংশে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করতে পারছে বলেও দাবি করেন মন্ত্রী৷তিনি বলেন, আশা করছি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৬ লেনের কাজও অচিরেই শুরু করতে পারবো৷

মেট্রো রেল প্রসঙ্গে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে মেট্রো রেলের ফিজিক্যাল কনস্ট্রাকশন কাজ শুরু হবে৷ ২০১৯ সালের মধ্যে আগারগাঁও পর্যন্ত কাজ শেষ হবে৷২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক হয়ে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়ে যাবে৷ প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা ২০২০ সালেই শেষ করা হবে, বলেন ওবায়দুল কাদের৷এলিভেটেড এঙ্প্রেস সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি অনেকদিন অচলাবস্থার মধ্যে ছিল, এরইমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে৷ উত্তরা থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত কাজ হতে চলেছে৷ সদ্য চার দেশের মধ্যে আন্তঃদেশীয় সড়ক যোগাযোগ চুক্তি প্রসঙ্গে কাদের বলেন, এডিবি তিন বছরের সময় চেয়েছে৷ কিন্তু আমরা বলেছি, ছয় মাসের বেশি সময় দেওয়া যাবে না৷আশা করি আগামী ছয় মাসের মধ্যে চুক্তি শর্ত অনুসারে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে৷

তিনি বলেন, এ আন্তঃযোগাযোগে পাকিস্তান, শ্রীলংকাও সামিল হতে পারে৷ এগ্রিমেন্ট অনুসারে ডোর ইজ ওপেন, ইট ইজ এ জার্নি৷পদ্মাসেতুর নির্মাণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে নির্মাণ কাজের ২০ শতাংশ শেষ হয়েছে৷ এখন চলছে আশপাশের রাস্তা ফোরলেন করার কাজ৷ এসব সড়ক চার দেশের আন্তঃদেশীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে৷সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে সংলাপে বক্তব্য দেন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ, নেপালের রাষ্ট্রদূত এইচ কে শ্রেষ্টা ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ এবং সিপিডি’র ফেলো ড.দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য পুমুখ৷ সংলাপে মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন আয়োজক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান৷