photo-1438185976

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ০৫ অক্টোবর ২০১৫: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার বাসস্থানের নিশ্চয়তা বিধানে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ তিনি বলেন, দেশের আয়তন কম কিন্তু জনসংখ্যা অত্যাধিক৷ এই কম আয়তনের মধ্যে অধিক জনসংখ্যার বাসস্থান নিশ্চিত করতে প্রয়োজন পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা৷ ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে আবাসন গড়ে তুলতে হবে, অন্যথায় ভবিষ্যতে দেশকে খাদ্য উত্‍পাদনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে৷ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বিপুল জনসংখার ঢাকা মহানগরীরর জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান অতীব জরুরি৷ সরকার ২০১৬ থেকে ২০৩৫ পর্যনত্ম ২০বছর মেয়াদি ঢাকা স্ট্রাকচার প্লাান প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে৷

তিনি সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন৷ মন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষি জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে পলস্নী এলাকায় পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে৷ গ্রামীণ এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ করে কৃষিজমি রক্ষা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে৷ এর মাধ্যমে কৃষি জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে৷গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ\’র সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, ইউএনডিপি\’র কান্ট্রি ডিরেক্টর পাওলিন টেমেসিস ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জি. এম জয়নাল আবেদীন ভূইয়া৷স্মারক বক্তৃতা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কিউ এম মাহমুদ৷১৯৮৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪০তম অধিবেশনে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার ‘বিশ্ব বসতি দিবস’ পালন করার সিদ্ধানত্ম হয়৷ খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ১৯৫৯ সালে সর্বপ্রথম ঢাকার মাস্টার প্লান প্রণয়ন করা হয়৷ সে সময় ধারণা করা হয়, ১৯৭৯ সালে ঢাকার জনসংখ্যা হবে ১৪ লাখ৷ কিন্তু বাসত্মবে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালেই ঢাকার জনসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার এবং ১৯৮১ সালে এই জনসংখ্যা দাঁড়ায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজারে৷ ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীর জনসংখ্যা এক কোটি ৫১ লাখে দাঁড়িয়েছে৷ ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্ট -২০১৪ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যা হবে দুই কোটি ৭৩ লাখ৷ সে সময় জনসংখ্যার দিক থেকে ঢাকা হবে পৃথিবীর ৬ষ্ঠ বৃহত্তম মহানগরী৷

তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় কর্মসংস্থান, উন্নত শিক্ষা, চিকিত্‍সা ও অন্যান্য আধুনিক সুবিধা ঢাকায় বেশি থাকায় জনগণের ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতাও বেশি৷ দেশের অন্যন্য শহরের চিত্রও প্রায় একই৷ তাই এই বিশাল জনগোষ্ঠির একটু স্বসত্মি প্রদানের জন্য সার্বজনিক স্থান এবং সেই স্থান ব্যবহারের অধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য সার্বজনিক স্থান সবার অধিকার \’ সময়োপযোগী হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সার্বজনিক স্থানের অপরিসীম গুরম্নত্ব রয়েছে৷ সাধারণত ব্যক্তি বা পারিবারিক পরিসরের বাইরেই থাকে সার্বজনিক স্থান৷ বাড়িঘর দালানকোঠা এসবের অধিকাংশই ব্যক্তি অথবা কর্পোরেট মালিকানায় থাকে৷ এগুলোকে বাদ দিয়ে যা কিছু থাকে তার অধিকাংশই সার্বজনিক স্থান৷ এই সার্বজনিক স্থানসমূহে ধর্ম, জাতি, বয়স এবং আর্থসামাজিক শ্রেণী নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান ও সহজ সুযোগ থাকে৷এসব এলাকায় যে কোন সময়ে যে কেউ যেতে পারে৷এ ক্ষেত্রে কোন বিধিনিষেধ থাকে না৷ এ কারণে নগরায়নের ক্ষেত্রে পার্ক বা নগর বাগান, খেলার মাঠ, সড়ক, সিটি স্কয়ার, বাজার ও আধুনিক শপিংমল, ইতিহাস প্রসিদ্ধস্থান, সাংস্কৃতিক অঙ্গন, প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য ব্যবস্থা রাখার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়৷ মন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে ঢাকা একটি জনবহুল শহরে পরিণত হয়েছে৷ একটি শহরে স্বাভাবিক চলাচলের জন্য মোট আয়তনে ২৫ভাগ সড়ক থাকার কথা৷ কিন্তু ঢাকা শহরে রয়েছে মাত্র ৮ ভাগ৷ এদিক বিবেচনায় ঢাকার নাগরিক জীবন অত্যসত্ম অস্বসত্মিকর৷ এই অস্বসত্মিকর নাগরিক জীবনের জন্য পার্ক বা উন্মুক্ত স্থান খুবই গুরুত্ব বহন করে৷ কিন্তু ঢাকা শহরে পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান নেই৷ নেই উন্নতমানের কোন পার্ক৷ এ প্রেক্ষাপটে ঢাকা শহরে যেটুকু উন্মুক্ত স্থান রয়েছে তার যথাযথ সংরক্ষণ এবং সকলের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রেখে জনস্বসত্মি নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ৷