ripon_264609

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০১৫: দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন করতে সরকার যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। তারা বলেছে, রাষ্ট্র ও সমাজে বিভাজন তৈরি করতেই সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে সোমবার মন্ত্রিসভায় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা অধ্যাদেশ আকারে প্রকাশ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।বিএনপির মুখপাত্র ও দলটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন সোমবার বিকেলে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, যখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল তখনও বিএনপি এভাবে নির্বাচন আয়োজন না করার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু সব দাবিকে উপেক্ষা করে এরকম সিদ্ধান্তে মহাদুরভিসন্ধী কাজ করছে বলে মনে করি।তিনি বলেন, যখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল তখন বিএনপিও এভাবে নির্বাচন আয়োজন না করার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু সব দাবিকে উপেক্ষা করে এরকম সিদ্ধান্তে মহা ষড়যন্ত্র কাজ করছে বলে মনে করি।রিপন বলেন, বিএনপিকে নির্বাচন এবং রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই দলীয় সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার বিদেশীদের বুঝাতে চাইবে যে তাদের প্রতি জনসমর্থন রয়েছে।

বিরোধীদলকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে তারা আরেকটি নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। বিদেশীদের বুঝাতে চেষ্টা করবেন তাদের পক্ষে জনসমর্থন রয়েছে।দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে গণতন্ত্র সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে না। জাতীয় ঐক্যের পথে থেকে সরে রাষ্ট্র সমাজকে তারা আরো বিভাজিত করবেন।বিদেশি হত্যাকাণ্ডে খালেদা জিয়া মদদ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে রিপন বলেন, এধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনীতিবিদদের অপমান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যক রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।রিপন বলেন, খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছেন এটা সরকার ভাল করেই জানে। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেই প্রধানমন্ত্রী এরকম বক্তব্য দিয়েছেন। এধরনের আপত্তিকর অরুচিকর মন্তব্য শোভন মনে করি না।তিনি বলেন, সম্প্রতি দু’জন বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এরকম ঘটনার নিন্দা জানিয়েছি। বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখছে। আইএস এর সম্পৃক্তততা রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এরকম পর্যায়ে বিএনপি জড়িয়ে বক্তব্য দেয়ায় প্রকৃত দোষী আড়ালে চলে যাবে।

রিপনের অভিযোগ, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য বিরোধী দলকে দোষারোপ করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এরকম উদ্ভট বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদেরকে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিৎ।সবার চলাচল নিরাপদ হউক এটাই প্রত্যাশা। রাজনীতিকে সুষ্ঠ পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। এধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিকে আরো খারাপ দিকে নিয়ে যাবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, সাবেক মহিলা সাংসদ শাম্মী আক্তার প্রমুখ।