paikgacha@uhfpo.dghs.gov.bd

দৈনিকবার্তা- পাইকগাছা (খুলনা), ১২ অক্টোবর ২০১৫: শয্যা ৫০টি, আর রোগী তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশী৷ আর শয্যা সংকটে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নঙ্ েচিকিত্‍সা নিতে আসা রোগীরা পড়ছেন চরম ভোগানত্মিতে৷ বারান্দায় (ফ্লোরে) থাকা রোগীদের চিকিত্‍সা সেবার পাশাপাশি খাবারের সমস্যাও দেখা দিয়েছে৷ হাসপাতালে রোগী থাকে শয্যার কয়েক গুণ বেশী অথচ খাবার সরবরাহ করা হয় নির্ধারিত ৫০ জন রোগীর জন্য৷ আর সারাদিন বারান্দা দিয়ে রোগীর স্বজনদের হাঁটাচলাফেরা করায় দুর্ভোগে পড়তে হয় ওইসব রোগীদের৷ এদিকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েজরম্নরী বিভাগ রয়েছে, তবে জরুরী স্বাস্থ্য সেবা নেই! আশ্চাযর্্যজনক মনে হলেও সত্যি যে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে মেডিকেল অফিসারের কোনো সৃষ্টপদ’ই নেই৷

একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারই ভরসা৷ যখন একসঙ্গে একের অধিক রোগী আসে তখন আনত্মঃ বা বর্হিবিভাগ থেকে মেডিকেল অফিসারকে ডেকে আনতে হয়৷ আর যদি ওই সময় ডাক্তার রাউন্ডে বা অপারেশন থিয়েটারে থেকে থাকেন ততক্ষণে রোগীর অবস্থাটা যে কি হয় তা সহজেই অনুমেয়৷ ওদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নঙ্ েমেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (রেডিওগ্রাফার ও ল্যাব) এর পদগুলো দীর্ঘ বছর যাবত্‍ শূন্য থাকায় এঙ্-রে ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে৷ হাসাপাতালে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন উন্নতমানের একটিএঙ্-রে মেশিন থাকলেও তার সুফল পাচ্ছে না অসহায় দরিদ্র রোগীরা৷ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বেশিরভাগ সময়ই এঙ্-রে কার্যক্রম থেকেছে বন্ধ৷ বর্তমানে এঙ্-রে মেশিনটি সচল থাকলেও টেকনোলজিষ্ট (রেডিওগ্রাফার প্রেষণে ঢাকায় কর্মরত) না থাকায় এঙ্-রে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে৷ এঙ্-রে মেশিন স্থাপনের পর থেকে (প্রায় দশ বছরে) এ পর্যনত্ম এঙ্-রে সুবিধা পেয়েছেন মাত্র ৪০ জন রোগী৷

অপরদিকে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব) এর ৩টি পদই দীর্ঘদিন যাবত্‍ শূন্য থাকায় হাসপাতালে রোগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে৷ ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে চড়ামূল্যে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে৷ আর অর্থাভাবে দরিদ্র রোগীদের বেশিরভাগই রোগ নির্ণয় করাতে ব্যর্থ হয়ে ধুকে ধুকে মরছে৷ সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবকাঠামো নির্মাণের পর ২০০৯ সালের ২ ডিসেম্বর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নঙ্রে প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়৷ তবে প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করা হয়নি অদ্যবধি৷ তত্‍কালীন ৩১ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলই ছিল সংকট৷ সেক্ষেত্রে সেই স্বল্প সংখ্যক ডাক্তার-নার্স (জনবল) দিয়েই বর্তমান ৫০ শয্যার চিকিত্‍সা সেবাপ্রদানে কর্মরত ডাক্তাররাই রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন৷ ডাক্তার সংকটরে পাশাপাশি অন্যান্য জনবল সংকটও রয়েছে মারাত্মক৷ ৩ জন ওয়ার্ড বয় এর স্থলে রয়েছে মাত্র ১ জন৷ এমএলএসএস ৪ জনের মধ্যে রয়েছে মাত্র ১ জন৷ আর সুইপার ৫ জনের মধ্যে মাত্র দু’জন থাকলেও কর্মরত রয়েছে মাত্র ১ জন৷ বিধায় হাসপাতাল অভ্যনত্মরে টয়েলেটের গন্ধে রোগীদের বেডে থাকা দায় হয়ে পড়েছে৷