Gournadi   Photo 20-10-15 (1)

দৈনিকবার্তা-গৌরনদী (বরিশাল), ২০ অক্টোবর ২০১৫: ১৬৫ বছরের পুরনো ও তৎকালীন ভারতীয় উপ-মহাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ দূর্গা মন্দির হচ্ছে বরিশালের গৌরনদী পৌর সদরের আশোকাঠী মহল্লার প্রয়াত জমিদার মোহন লাল সাহার বাড়ির দূর্গা মন্দির। ওই মন্দিরে মহাধুমধামের মধ্যদিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও হাজারো ভক্তদের পদচারনায় দূর্গা পুজার আয়োজন করা হয়েছে। এতদাঞ্চলের মধ্যে এ দূর্গা মন্দিরটি সর্ববৃহৎ হওয়ায় প্রতিবছরই মহাধুমধামের সাথে এখানে দূর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

জমিদার বাড়ির উত্তরসূরীদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, ১৮৫০ সালে জমিদার প্রসন্ন কুমার সাহার উদ্যোগে মন্দিরটি নির্মান করা হয়। জমিদার প্রসন্ন কুমার সাহা ছিলেন খ্যাতিমান জমিদার মোহন লাল সাহার পিতা। কারুকার্জ খচিত ঐতিহাসিক এ মন্দিরের ছাঁদের ওপরের চারিপার্শ্বের সিংহ মূর্তিগুলো আজো যেন কালের স্বাক্ষী হয়ে রয়েছে। জমিদার মোহন লাল সাহার পুত্র প্রয়াত মানিক লাল সাহার স্ত্রী ও স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী অরুনা সাহা জানান, তৎকালীন সময়ে ভারতীয় উপ-মহাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ মন্দির হিসেবে এ মন্দিরটিতে ভক্ত দর্শনার্থীরা পূজা অর্চনা করতে ভীড় করতেন।

প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার দূর্গা প্রতিমার এ মন্দিরটিতে এখনো তারই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। ৩০ গজ দৈর্ঘ্য ২০ গজ প্রস্থ মন্দিরটিতে রয়েছে ৪৫টি স্তম্ভ^। জমিদার বাড়ির উত্তরসূরী প্রভাষক রাজা রাম সাহা জানান, ১৯৭১ সালে পাক হানাদার ও তাদের স্থানীয় সহযোগী রাজাকাররা এ বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট করেছিলো। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিলো পাইক পেয়াদাদের ঘরবাড়ি। গুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো দূর্গা মন্দিরের অসংখ্য কারুকার্জ খচিত অলংকরন।গৌরনদী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১ হাজার ফুট দূরত্বে আড়িয়াল খাঁ নদীর প্রশাখা গৌরনদী-মীরেরহাট খালের তীরে আশোকাঠী মহল্লায় জমিদার মোহন লাল সাহার বাড়ি। বাড়ির সামনেই রয়েছে সান বাঁধানো সু-বিশাল দীঘি। জমিদার থাকতেন প্রসন্ন ভবনে।

বাড়ির প্রবেশ দ্বারে প্রচীনতম সু-বৃহৎ দূর্গা মন্দিরে আজো ভক্তরা পূজা অর্চনা করে আসছেন। এলাকাবাসি জানান, একসময় জমিদার বাড়িতে এ অঞ্চলের মানুষের বিনোদনের জন্য প্রায় বারো মাসই যাত্রা, জারি, সারী ও পালা গানের আয়োজন করা হতো। হাজার-হাজার মানুষের পদচারনায় মুখরীত ছিলো এ বাড়িটি। বর্তমানে পুরনো দিনের সেই জৌলুস অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।জমিদার মোহন লাল সাহার বিভিন্ন জনকল্যাণ মূলক কাজের মধ্যে অন্যতম স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে, বাড়ির পাশ্ববর্তী পালরদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। ১৯৩৫সালে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে পালরদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি কলেজের রূপান্তরিত হয়েছে। এ বিদ্যাপিঠের অসংখ্য শিক্ষার্থীরা মেধা তালিকায় তৎকালীন যশোর শিক্ষা বোর্ডে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ান ও বর্তমানে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে।