DITF-24-01-14

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি ২০১৬: আগামী রবিবার পর্দা নামবে মাসব্যাপী এই মেলার। আর একদিন পরেই পর্দা নামছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার। মেলা প্রাঙ্গণে এখন ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ঢল।সবাই স্টল থেকে স্টলে ছুটছেন পছন্দের প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রীর খোঁজে। বসে নেই বিক্রেতারাও। বেশি বিক্রিতে বেশি মুনাফা- এই নীতিতে দিচ্ছেন আখেরি অফার।ক্রেতারাও লুফে নিচ্ছেন তাদের পণ্য।আর তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর ছিল উপছে পড়া ভিড়। এদিকে মেলার মেয়াদ বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে মেলার আয়োজক রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেন। এতে ফার্মগেট, খামারবাড়ি হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর রুট ও মহাখালী থেকে বিজয় সরণি হয়ে মিরপুর রুটে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিকে দুপুরের আগেই মেলার পার্কিং কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

আগামী রবিবার পর্দা নামবে মাসব্যাপী এই মেলার।শনিবার মেলার ৩০তম দিনে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকেই মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলার সময় যত শেষ হয়ে আসছে ততই ক্রেতা সমাগম বাড়ছে। আর বিক্রেতারাও বিভিন্ন ছাড় দিচ্ছে। ফলে বিক্রিও বাড়ছে প্রতিদিন। মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয় মিরপুর থেকে আসা রশিদ বাবুর সঙ্গে। স্ত্রীকে নিয়ে মেলায় এসেছেন ফ্রিজ এবং এলইডি টিভি কেনার উদ্দেশ্যে। মেলার শেষের দিকে কেন আসলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেষের দিকে অনেক পণ্যে ছাড় থাকে সেই জন্যই আসা। বিশেষ করে আমরা যে পণ্য কিনব সেগুলোতে প্রথম দিকের চেয়ে এখন বেশি ছাড় পাচ্ছি।গত ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মেয়াদ বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে মেলার আয়োজক রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

গত বছর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে স্টল-প্যাভিলিয়ন মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মেলার মেয়াদ নির্ধারিত সময়ের পর ১০ দিন বাড়ানো হয়েছিল।ইপিবির উপপরিচালক (অর্থ) ও মেলার আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব রেজাউল করিম বলেন, এবার মানুষ স্বচ্ছন্দে মেলায় আসতে পেরেছে। এজন্য খুশি স্টল ও প্যাভিলিয়ন মালিকরা। এ কারণে এ বছর মেলার মেয়াদ বাড়ানো হবে না। শনিবার স্টলগুলো ঘুরে দেখা যায়, নারীদের পছন্দ বিভিন্ন নন স্টিক কুকারিজ, প্রসাধনী, দেশি-বিদেশি জামা-শাড়ি, অ্যালুমিনিয়াম সামগ্রী, সবজি চপার ইত্যাদি। আর পুরুষ ক্রেতারা ছুটছেন কোট, মোদি কোট, শার্ট, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর পেছনে। এছাড়া সপরিবারে এসে অনেকেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি আর আসবাব ক্রয়ে ব্যস্ত। মেলায় কুকারিজ সাধারণত প্যাকেজেই বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতি প্যাকেজে ১ থেকে ২ হাজার টাকা পর‌্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। আবার ২০ হাজার প্যাকেজ কিনলে অন্য পণ্যের সঙ্গে ৫০ শতাংশ ছাড়ও দিচ্ছে কোনো কোনো প্যাভিলিয়ন। প্রসাধনীতেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে ৫০ শতাংশ পর‌্যন্ত। এক্ষেত্রে চাইনিজ, ইরানি আর থাইল্যান্ডের পণ্যগুলোর দিকেই ঝুঁকছে সবাই।

এদিকে দিল্লি অ্যালুমিনিয়ামে ক্রেতাদের ভিড় সর্বোচ্চ বলে জানালেন সেলসম্যান মোহাম্মদ জসিমউদ্দীন। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে আমরা কোনো ছাড় দিচ্ছি না। কোটের স্টলগুলোতে দেখা গেলো, তারাও কম যাচ্ছে না। সারা মাস ধরে যে কোট ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৫শ থেকে ১৬শ টাকায়।আবার যে মোদি কোট ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা ছিলো তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। আশিক ফ্যাশনের চলছে এ নিয়ে আখেরি অফার। এতে কাজও হচ্ছে। ক্রেতার ভিড়ে স্টলে দাঁড়ানোয় দায়।শার্ট-টি শার্টের দোকানেও চলছে ৪০ শতাংশ পর‌্যন্ত ছাড়। হাল ফ্যাশনের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ইজি’ ছেলেদের আকর্ষণীয় রং আর ডিজাইনের শার্ট ২০ থেকে ৪০ শতাংশ ছাড়ে দিচ্ছে।

বিশেষ করে বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলো আখেরি অফার হাঁকছে বেশি। চায়না প্যাভিলিয়নের বিক্রেতা ইয়ান সুজো বলেন, মেলার সময় শেষের দিকে। তাই আমাদের সব পণ্যই বিক্রি করতে চাই। ইয়ান সুজো বিভিন্ন প্রসাধনীর পসরা সাজিয়েছেন। টানা হেঁকে যাচ্ছেন-ফিফটি পারসেন্ট লেস, ফিফটি পারসেন্ট লেস।তার স্টলেই কথা হলো মিরপুর থেকে আগত গৃহকর্ত্রী আয়েশা আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, চায়না প্রসাধনী খুব ভালো না। তবে ওরা দাম কমিয়েছে। তাই কিনতে এসেছি। যে কয়দিন যায়, তাতেই পোষাবে। সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা কানন জানালেন, মেলার শেষ দিকে ছাড়ে ভালো জিনিস পাওয়া যাবে তাই এসেছেন। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্দা নামবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার।