মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নায়েবে আমির ও পাবনা- ৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সুবহানকে কঠোর নিরাপত্তায় পাবনার আদালত হাজির

0
92

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নায়েবে আমির ও পাবনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সুবহানকে একটি মামলায় হাজিরা দিতে মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা আমলী আদালত -১ এ হাজির করা হয়। সোমবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পাবনা কারাগারে আনা হয়।
আদালত সুত্র জানায়, এর আগে গত ১১ এপ্রিল একই আদালতে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। এরপর ২১ জুন কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে মাওলানা আব্দুস সুবহানকে পাবনা কারাগার থেকে পাবনা আমলি আদালত-১ এ হাজির করা হয়। পাবনা আমলী আদালত-১ এর বিচারক অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেন এবং মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহনের তারিখ ১০ অক্টোবর ধার্য করেন। পূর্ব নির্ধারিত ধার্য্য তারিখ অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে তাকে একই আদালতে হাজির করা হয়। ৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আদালত আগামী ১৯ ডিস্মেবর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করে তাকে জেল পাঠিয়েছেন।
আদালতের পিপি আখতারুজ্জামান মুক্তা জানান, ২০০৩ সালের ৩ আগস্ট পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ২৮২টি বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশে যে তান্ডব চালায় এটি ছিল তারই ধারাবাহিকতা। মাওলানা আব্দুস সুবহানের নির্দেশেই ওই ঘটনা ঘটে বলে পিপি জানান। সে সময় বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকায় থানা মামলা নেয়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন।
পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে মাওলানা আব্দুস সুবহানকে প্রধান আসামি করাসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২ এপ্রিল পাবনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরে আলম সিদ্দিকী এবং আব্দুল বারী দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ২৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মাওলানা আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে পাবনা আসার পথে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে মাওলানা আব্দুস সুবহানকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তাকে ফাঁসির আদেশ দেন আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।