দুদকে সংগ্রহে অভিযোগকৃত দুর্নীতি গ্রস্থ পল্লী বিদ্যুতের ৪ কর্মকর্তার ৪৩ কোটি টাকার দুর্নীতি সন্ধান।

0
101

গত ২০/০৯/২০১৭ইং দুর্নীতি গ্রস্থ সাত জন ব্যক্তি বিরুদ্ধে ৭৩.৫ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য মতে অভিযুক্ত পরিচালক মোঃ দহিদুল ইসলাম পরিচালক, মোঃ মাহাবুবুল বাশার পরিচালক মোঃ খালেদ ও মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যু সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ মাহবুবুর রহমান এই ৪ (চার) জনের মোট ৪৩ কোটি টাকা সম্পদের তথ্য সংগ্রহে এসছে।

এদের মধ্যে মোঃ দহিদুর ইসলামের পাওয়া যায় তিনি মানব সম্পদ পরিদপ্তরের দায়ীত্বে থেকে বদলী, পদন্নতী, নিয়োগ বানিজ্যে কোটি টাকার বেশি কামিয়েছেন তিনি সহকারী পরিচালক হিসাবে প্রশিক্ষন পরিদপ্তরে কর্মরত থাকা কালীন অবৈধ ভাবে প্রশিক্ষনার্থী কর্মকর্তা/কর্মচারী গনকে বে-আইনি ভাবে পাস/উত্তীর্ণ করিয়েও প্রচুর অর্থ কামিয়েছেন এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে অগনিত দাপ্তরিক অনিয়মের সত্যতা মিলছে, ঢাকার রায়ের বাজার ও পান্থ পথ এলাকার তার ২টি বিলাশ বহুল ফ্ল্যাটের সন্ধান মিলেছে, তার নিজ জেলা রংপুরেও পাওয়া গেছে ৪ তলা বাড়ীর সন্ধান, ব্যক্তিগত একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ী আছে, দুদকের কাছে আরো তথ্য এসেছে যে এগুলো ছাড়াও তার ঢাকার পর্শবর্তী এলাকায় জমি ও ব্যাংকে বিভিন্ন নামে নগদ অর্থ আছে দুদক এ বিষয়টিও তদন্তের আওতায় নিচ্ছে।

আরেকজন অভিযুক্ত পরিচালক মোঃ মাহাবুবুল বাশার তিনিও বদলী, পদন্নতী, নিয়োগ বানিজ্যের সাথে জড়িত তা ছাড়াও তিনি বিভিন্ন প্রকার কেনাকাটায় অবৈধ ভাবে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন বি.আর.ই.বি এর বিভিন্ন মামলার ব্যায় বাবদ, মাঠ পর্যায় সমিতি গুলো থেকে পর্যায়ক্রমে স্বারক নং-বাপবিবো/সচি(আইন)/ফাঃ নং-১৪৩.১০৪৮/২০১৪/১৬৪ তারিখ ১০/১২/২০১৪ইং এবং বাপবিবো/সচি(আইন)/ফাঃ নং-১৪৩.১০৫৩/২০১৫/২২১, তাং- ১০/২/২০১৫ইং এই দুই চিঠিতে ২৭,৩০,০০০,০০ (সাতাইশ লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা উত্তলোন করেছেন উকিল ফি বাবদ এতে দুর্নীতি হযেছে কয়েক লক্ষ টাকা, সর্বশেষ ২৬/০৬/২০১৫ইং স্বারক নং-বাপবিবো/সচি(আইন)/ফাঃ নং-১৪৩.১০৭৬/২০১৫/৪১০ স্বারকেও মামলার সুনানী বাবদ ৩,৭৪,০০০,০০/-(তিন লক্ষ চুয়াত্তর হাজার) টাকা শুনানী বাবদ গ্রহন করে এতে দূর্নীতি হয়েছে। পরিচালক মাহবুবুল বাশারের ধানমন্ডির রায়ের বাজারে প্রায় ৩০০০ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট, পূর্ব রাজাবাজারে প্রায় ১৯৫০ বর্গফুট আরো একটি ফ্ল্যাট এছাড়াও নিজ জেলা গোপালগঞ্জে ২ কোটি টাকা মূল্যের বাড়ী একটি টয়াটো প্রিমিও গাড়ীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয় পত্র ও বড় অংকের টাকা এফডিআর করে রাখার অভিযোগ আছে যাহার তদন্ত চলমান আছে।

পরিচালক মোঃ খালিদ চাকরী কালীন সময়ে প্রশিক্ষন পরিদপ্তর সহ বিভিন্ন দপ্তরে দায়ীত্ব পালন করে, এই খালিদ সাবেক বি.আর.ই.বি এর চেয়ারম্যান জনাব মোঃ তৌহিদুর ইসলাম এর আপন শ্যালক হওয়ার সুবাদে কাউকে তোয়াক্কা না করে অবাধে নানান অনিয়ম করেছেন এমন তথ্য উঠে এসেছে দুদকের তদন্তে, নতুন গ্রাহক সংযোগ লাইন নির্মান সহ বিভিন্ন ভাবে সে দুর্নীতি করেছেন বিপুল অংকের টাকা। প্রাথমিক সন্ধানে দঃ বাড্ডা এলাকায় প্রায় ২৪৫০ বর্গফুট একটি ফ্ল্যাট, গুলশান ০১ নং এর ১২৮নং রোডে প্রায় ৩০০০ বর্গফুট আয়তনের আরেকটি ফ্ল্যাট একটি টয়াটো গাড়ী লক্ষীপুর তার নীজ এলাকায় ২.৫ কোটি টাকা মূল্যের বাড়ী আরো ব্যাপক তথ্য আছে যা তদন্ত চলছে বলে জানান দুদক, এই খালিদের দূর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান চেয়ারম্যানের কাছে এর আগেও কয়েকদফা অভিযোগ করলে আজোও পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি বলে আমরা জানতে পারি।

মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ মাহবুবুর রহমান গত প্রায় ৬ ছয় বছর যাবৎ সেখানে কর্মরত আছে এই সময়ে সে ব্যাপক দূর্নীতি করেছে। আর এই দুর্নীতিতে সহযোগিতা পেয়েছে বি.আর.ই.বি এর দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাগনের, তিনি মুন্সীগঞ্জের বেশ কয়েকটি উপকেন্দ্র নির্মান, নতুন লাইন তৈরী, উপকেন্দ্রের জমিক্রয়, লাইন নির্মাণের মালামাল ক্রয়, ট্রান্সফারমার, মিটার, তার, মিটারবোর্ড, গ্রউন্ডি রড, এ.সি.আর. ও.সি.আর পাওয়ার ট্রান্সফরমার সহ বিভিন্ন প্রকার মালামাল ক্রয়ের মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন। তিনি ঢাকার পান্থপথ এলাকার লাল বাড়ীতে ২০/১ ৫ম তলায় একটি বিশাল বহুল ফ্ল্যাট একটি গাড়ী টয়াটো ঢাকা মেট্রো-গ-৩৫-২৬৪৭ ঢাকাতে আরেকটি বহুতল ভবন নির্মান করছেন, এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকে নামে বেনামে বড় অংকের টাকা সঞ্চয়ে আছে বলে জানাযায়।

দূদকের নিকট থেকে এমন তথ্যই জানানো হয় আমাদের প্রতিনিধিকে, প্রকৃত বিষয়টি হচ্ছে, দেশের উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অপরিসীম একে টিকিয়ে রাখতে এর ভিতরে ঘটেচলা দুর্নীতি ও অনিয়মকে শক্ত হাতে প্রতিহত করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখা মুসকিল হয়ে পরবে, এ সকল দুর্নীতির প্রভাব পরছে গিয়ে সাধারন জনগনের উপর ক্ষুন্ন হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তী আমরা জানতে পারি এর আগেও দুদকে এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল একটি পর্যায় এসে সবকিছু থমকে যায়, দুদক তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এবারে তদন্তটি আদৌ সঠিক ভাবে সম্পন্ন হবে কিনা বোঝা যাচ্ছে না, যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছেন, সেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের অবস্থান আরো কঠোর হোক এটাই জনসাধারনের দাবী।