হাটহাজারীর লাল মরিচের সুনাম দেশের গন্ডি পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে

0
149

হালদা নদীর চরে উৎপাদিত হাটহাজারীর ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু লাল মরিচের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীরা প্রবাসে নিজেদের বাসায় রান্নার কাজে সুস্বাদু এ লাল মরিচ ব্যবহার করে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। নদীর চরে গ্রামীণ জমিতে সুস্বাদু এ লাল মরিচের উৎপাদন হলেও তা এখন দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিশেষ করে হালদা নদীর চরে শত শত একর জমিতে চাষীরা মরিচ চাষ করে থাকে। প্রাকৃতিক অবস্থা ভালো থাকলে মরিচ চাষীরা প্রতি মৌসুমে ৭০ হাজার থেকে প্রায় এক লাখ পর্যন্ত টাকার মরিচ বিক্রি করে থাকে। এক ফসলা মরিচ চাষের শুরুতে প্রথমে তাদের ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা মতো ব্যয় হলেও লাভ করে থাকে তার দ্বিগুণ। উপজেলার মির্জাপুর, ধলই, গুমানমর্দ্দন, নাঙ্গলমোড়া, উত্তর মাদার্শা, দক্ষিণ মাদার্শা, চিকনদন্ডী, শিকারপুর ও পৌর এলাকার মোহাম্মদপুর এলাকা গুলোতে মরিচ চাষ বেশি হয়ে থাকে। পৌরসভার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে মরিচ বিক্রি করতে আসা আবুল কালাম নামে এক বিক্রেতা এ প্রতিবেদককে জানান, হাটহাজারীর মরিচ প্রতি কেজি ২৩০ থেকে ২৭০ টাকা বিক্রি করা হলেও তবে পাইকারী দরে বিক্রি হয় ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। উপজেলার অন্যান্য বড় বড় বাজারগুলোর চেয়ে হাটহাজারী বাজারে এই মরিচ অতি সূলভ মূল্যে পাওয়া যায়। ভেজালমুক্ত এ মরিচ কিনতে শুধুমাত্র হাটহাজারী নয়, পার্শ্ববর্তী ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, সীতাকুন্ড, মিরসরাই উপজেলা থেকে ক্রেতারা হাটহাজারী বাজারের ‘মরিচ হাটার গলি’তে ভিড় জমায়। তাছাড়া পাইকারী ক্রেতারা শত শত কেজি হাটহাজারীর মরিচ নিয়ে তা মধ্যপ্রাচ্যে ও ইউরোপ আমেরিকা সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে।

সুস্বাদু লাল মরিচ কিনতে আসা হাটহাজারী পৌরসভার মীরের খিল এলাকার বাসিন্দা এক মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীর স্ত্রী হালিমা বেগম এ প্রতিবেদককে জানান, হাটহাজারীর লাল মরিচ দিয়ে রান্না করা তরকারি অত্যন্ত সুস্বাদু বলে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার মরিচের চেয়ে হাটহাজারীর মরিচের মূল্যে অন্তত ৫০ টাকা বেশি। তবুও প্রতি রবি ও বৃহস্পতিবার মরিচ হাটার গলিতে হাটহাজারীর মরিচ কিনতে ক্রেতারা ভিড় করে। এ মরিচ আমারা শুধু নিজেরা তরকারি রান্নার ক্ষেত্রে ব্যবহার করার পাশাপাশি আমদের প্রিয়জন যারা দেশের (মধ্যপ্রাচ্যে) বাইরে থাকে তাদের কাছেও ক্রাসিং মিলের মাধ্যমে গুঁড়ো করে পাঠিয়ে থাকি।