চামড়াশিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে এ মাসে ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিনদিনের ‘বাংলাদেশ লেদার ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদারগুডস ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং শো’-(ব্লিস)।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১৬ নভেম্বর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন হলে এর উদ্বোধন করবেন ।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ফুটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সোর্সিং শোতে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্প খাতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হবে বলে জানান আয়োজকরা। শো-এর আয়োজক এলএফএমইএবি রোববার ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।এতে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশীষ বসু, এলএফএমইএবির সভাপতি সায়ফুল ইসলাম, জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন মাইকেল শুলথেস, ফরেন ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক ক্রিশ্চান এওয়ার্ট, পতেঙ্গা ফুটওয়্যার লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক চেন সাও তেছেং।এলএফএমইএবি সভাপতি সায়ফুল ইসলাম বলেন, “প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ক্রেতা, সোর্সিং, এজেন্ট, রিটেইলার, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্প খাত সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশের পণ্যের মান, বৈচিত্র্য ও উৎপাদন সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ পাবেন। এছাড়া সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ থেকে পণ্য সোর্সিং করার সুবিধা এবং বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে অবগত হবেন।

সচিব শুভাশীষ বসু বলেন, চীনের মতো দেশ এখন তাদের ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিকে মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ায় বিস্তৃত করছে। বাংলাদেশের ফুটওয়্যার প্রডাক্ট ও লেদার গুডসের যে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট রয়েছে, আমি মনে করি এখানে বাজার বিস্তৃতির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের নানা অর্থনৈতিক সুবিধাও প্রদান করছি, শ্রম বাজারের দিক থেকেও অন্যান্য দেশ থেকে আমরা এগিয়ে।চলতি বছর সরকার চামড়া, পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্যকে ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা দিয়েছে। ‘প্রডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন’ এর উপর গুরুত্বারোপ করে পাদুকা শিল্পের বিকাশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন রূপরেখা প্রণয়নের কথাও জানান তিনি।তিনি আশা করেন, ২০২১ সালের মধ্যে পাদুকা শিল্প খাতে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করবে বাংলাদেশ।মাইকেল শুলথেস বলেন, জার্মানিতে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের বাজার ক্রমশ বড় হচ্ছে। সম্প্রতি বছরগুলোতে ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে এ খাতে। এই খাতে বাংলাদেশের শ্রম বাজারকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে আগামী বছরে ৮৫ মিলিয়ন ইউরো আয় অসম্ভব কিছু না।