রাজধানীতে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সংসদে ক্ষোভ

0
122

রাজধানীতে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি করপোরেশন। নাগরিক সুবিধা না বাড়িয়ে এভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ। সোমবার (১৩ নভেম্বর) রাতে সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির এ সংসদ সদস্য। এর আগে বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়।
ফিরোজ রশিদ বলেন, ৩০০ থেকে এক হাজার শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিদিন আন্দোলন, সংগ্রাম হচ্ছে। একটা বিব্রতকর অবস্থা। নির্বাচন সামনে, এই মুহূর্তে ট্যাক্স যারা বাড়ালো, তারা কী ভোট নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে? সরকারের মধ্যে এরা কারা? এতো বছর মনে পড়লো না ট্যাক্স বাড়ানোর কথা। নির্বাচনের আগে ট্যাক্স বাড়িয়ে ঢাকা শহরকে অশান্ত করে দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ধানমন্ডি এলাকার বাড়িওয়ালারা বলেছেন, বাস্তবসম্মত না হলে কোনো গৃহকর দেবেন না তারা। যারা ট্যাক্স বাড়াচ্ছেন তাদের বলছি- মনে রাখতে হবে-ভোট তো তাদের হাতে। এখন ট্যাক্স বাড়ালেন ভোটের সময় তাদের কাছেই যেতে হবে। আমরা ধরতে না পারলেও তাদের কাছে ধরা দিতে হবে!নাগরিক সুবিধার অপ্রতুলতার কথা উল্লেখ করে জাপার এই সংসদ সদস্য বলেন, নাগরিক জীবনে সম্পূর্ণ নাগরিক সুবিধা নেই। একটু বৃষ্টি হলে হাঁটু পানি জমে একাকার হয়ে যায়। মশা, ডেঙ্গু, পানির মতো হাজারো সমস্যা। নগরবাসীকে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত না করে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়াতে পারে না। এতো হারে ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে-যার আগে বছরে ৯ লাখ টাকা দিতে হতো, তাকে এখন দিতে হচ্ছে ৬৫ লাখ টাকা! এসব কার কাছে বলবো। তবে আমরা না ধরলেও জনগণ ধরবে।
এদিকে, বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশের জলসীমায় মোট ২৬টি দ্বীপ জেগে উঠেছে। আর এসব দ্বীপে মোট ভূমি জেগেছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৩শ ৭০ একর বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ। সোমবার (১৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম পিনু খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, বিগত ১০ বছরে বঙ্গোপসাগর তথা নোয়াখালী জেলার জলসীমায় পাঁচটি দ্বীপ জেগে উঠেছে। দ্বীপগুলো হলো- হাতিয়ার ভাসানচর, স্বর্ণদ্বীপ, চরকবির, চরবন্দনা এবং সুবর্ণচরের রজনীগন্ধা। চরগুলোতে মোট ৭৫ হাজার ৮৭৪ একর জমি জেগে উঠেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলাধীন সন্দ্বীপ উপজেলায় জেগে উঠেছে দুটি দ্বীপ। এগুলো হলো ঠেঙ্গারচর ও জাহাজ্জ্যোর চর। এতে আনুমানিক ১৮ হাজার ৯১২ দশমিক ৯০ একর জমি জেগে উঠেছে। মন্ত্রী জানান, কক্সবাজার জেলার জলসীমায় ১৯টি দ্বীপ জেগে ওঠেছে। চরগুলোতে মোট ৩০ হাজার ৫৮৩ একর খাস জমি রয়েছে। এগুলো হলো- কক্সবাজারের বাঁকখালী খরাট চর, উখিয়ার জালিয়াপালং চরপাড়া, টেকনাফের জিনজিরাদ্বীপ, মধ্যহ্নীলা, উত্তর হ্নীলা, শাহপরীর দ্বীপ। মহেশখালীর মাতারবাড়ি মৌজা, ধলঘাটা, হাঁসের চর, কালারমারছড়া, উত্তরনলবিলা, আমাবশ্যাখালী, কুতুবজোম, সোনাদিয়া, ঘটিভাঙ্গা, সোনারদিয়ার উত্তরে ঘাটিভাঙা মৌজা এবং হামিদরদিয়া, কুতুবদিয়ায় কৈয়ারবিল, বড়ঘোপ ও নতুন ঘোনা, পেকুয়ার করিয়ারদিয়া এবং দুবাইঘোনা। এসব দ্বীপ এখনো জনশূন্য এবং দ্বীপগুলো সেনাবাহিনীর হাতে ন্যাস্ত করা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে বসবাসের জন্য এসব দ্বীপে সেনাবাহিনী জরিপ চালাচ্ছে।