দেশে এখন চূড়ান্ত প্রবৃদ্ধি ৭.২৮,মাথাপিছু আয় ১৬১০ ডলার

0
55

সাময়িক হিসাব থেকে ৮ ডলার বেড়ে দেশের মানুষের মাথাপিছু জাতীয় আয় বর্তমানে ১৬১০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাবে এই চিত্র ফুটে উঠেছে। এর আগে বিবিএসের সাময়িক হিসাবে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মাথাপিছু জাতীয় আয় ছিল ১৬০২ ডলার।মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছ ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে মাথাপিছু জাতীয় আয়ও বেড়েছে। মোট জিডিপির আকারও বেড়েছে।

উল্লেখ্য, বিবিএসের চূড়ান্ত হিসাবে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জাতীয় মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিল ১৪৬৫ ডলারগত অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় প্রাক্কলিত হিসাবের চেয়ে বেড়েছে বলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন।চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৯৮৬ কোটি ডলার বা প্রায় ২০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। জিডিপির আকার ১০০ বিলিয়ন ডলার ছুঁতে বাংলাদেশের ৩৪ বছর লেগেছে। বাকিটা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের অবদান।বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ইথিওপিয়া ও কম্বোডিয়া ৭ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বলে জানান পরিকল্পপনামন্ত্রী।কৃষি খাতে ২ দশমিক ৯০ শতাংশ, শিল্প খাতে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য থাকলেও এখন যে গতিতে রয়েছে তাতে ২০১৯ সালের মধ্যে লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে।পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, অক্টোবরে সার্বিক গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ১২ শতাংশ। এর পেছনে ‘চালের দাম কমা ও শীতকালীন শাকসবজির আগমনের’ কারণে কাঁচাবাজারে জিনিসের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে।এর আগে এপ্রিলে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬০২ ডলার ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাজেটের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হবে বলে প্রাক্কলন করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।বিবিএসের চূড়ান্ত হিসাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ; মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৪৬৫ ডলার।প্রায় এক দশক ৬ শতাংশের বৃত্তে ‘আটকে’ থাকার পর গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। এর পর গত জুনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করা হয়। চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে ১ হাজার ৬০২ ডলার হবে বলে প্রাক্কলন করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। সেই সঙ্গে এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাজেটের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হবে বলে সরকার আশা করছে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো মাথাপিছু আয় ও প্রবৃদ্ধির এই হিসাব করেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। আর গত অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৪৬৫ ডলার।প্রায় এক দশক ৬ শতাংশের বৃত্তে ‘আটকে’ থাকার পর গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। এরপর গত জুনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করা হয়।পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি হাওড়ে বন্যার কারণে এবার ফসল কম উৎপাদন হতে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা। এটা শুধুই আশঙ্কা। তবে প্রমাণিত বিষয় হচ্ছে আমরা প্রতিবছরই প্রবৃদ্ধি করেছি।তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে প্রাক্কলন দিয়েছে, তাতে প্রধান তিনটি খাতের মধ্যে কৃষির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।মন্ত্রী জানান, পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাক্কলন অনুযায়ী চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট আভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার দাঁড়াবে ২৪৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে। গত অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ২২১ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার।চলতি অর্থবছরে দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মোট বিনিয়োগ হয়েছে জিডিপির ৩০ দশমিক ২৭ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৩ দশমিক ০১ শতাংশ, আর সরকারি বিনিয়োগ ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ।পরিসংখ্যান ব্যুরো জিডিপি হিসাবের ক্ষেত্রে তাদের ‘মেথডোলজি’ পরিবর্তন করেনি বলেও জানান মন্ত্রী। বেসরকারি বিনিয়োগে অচলাবস্থা কাটছে না কেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, “ব্যবসায়ীরা সব সময় দেখবে বেশি লাভ। আমরা এখনো তাদের অবকাঠামোসহ প্রয়োজনীয় চাহিদার যোগান দিতে পারছি না।

আগামী এক বছরের মধ্যে ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী সুবিধার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতে পারে আশা প্রকাশ করেন তিনি।চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় কমে যাওয়া এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রপ্তানি প্রবৃদ্ধি না হওয়ার পরও প্রবৃদ্ধি কীভাবে লক্ষ্য ছাড়াবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী আয় আসলে কমেনি। ২০১৬ সালে বিকাশসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১৪ দশমিক ৩১ ভাগ প্রবাসী আয় দেশে এসেছে।এর ব্যাখ্যায় পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে ৬৭ দশমিক ৩২ শতাংশ প্রবাসী আয় ‘ব্যাংকিং চ্যানেলে’, আর ৩২ দশমিক ৬৮ শতাংশ আয় ‘নন ব্যাংকিং চ্যানেলে’ দেশে আসত।কিন্তু ২০১৬ সালের পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আসছে ৫০ দশমিক ৭২ শতাংশ, আর নন ব্যাংকিং চ্যানেলে বাকি ৪৯ দশমিক ২৮ শতাংশ । অর্থাৎ মোবাইল ব্যাংকিং শুরু হওয়ার পর সাধারণ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় কমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা পরিচালনায় যুক্ত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে পথ খোঁজার পরিকল্পনার কথা বলেন মুস্তফা কামাল। কীভাবে এই বিপুল প্রবাসী আয় প্রপার চ্যানেলে নিয়ে আসা যায়ৃ নেতিবাচকভাবে এ বৈঠক হবে না। বরং দুই পক্ষের জন্যই একটি উইন উইন সিচুয়েশন পাওয়ার জন্য বৈঠক করা হবে।