যশোরে উদ্ধার হওয়া সিংহ ও লেপার্ড ক্যাটের চার শাবকের ঠাঁই হয়েছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে

0
62

ভারতে পাচারের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় যশোরে উদ্ধার হওয়া সিংহ ও লেপার্ড ক্যাট (চিতা বিড়াল)এর চারটি শাবকের ঠাঁই হয়েছে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে। মঙ্গলবার সকালে খুলনা বিভাগীয় বন্য প্রাণী বিভাগের প্রতিনিধি দল গাজীপুরের সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে ওই শাবক চারটি হস্তাস্তর করেন। উদ্ধার হওয়া ওই শাবকগুলোর মধ্যে লেপার্ড ক্যাটের দু’টি শাবকই পুরুষ এবং সিংহের ১টি পুরুষ ও অপরটি মেয়ে শাবক। খাবারের অভাবে শারীরিকভাবে দুর্বল এ শাবকগুলোকে বর্তমানে পার্কের সঙ্গনিরোধ কক্ষে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে পরিচর্যা করা হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

গাজীপুর বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক আনিছুর রহমান জানান, ভারতে পাচারের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় যশোরের চাঁচড়া চেকপোষ্টে একটি প্রাডো গাড়ি থেকে সোমবার দুপুরে লেপার্ড ক্যাট (চিতা বিড়াল) এর দু’টি পুরুষ এবং সিংহের ১টি পুরুষ ও ১টি মেয়ে শাবক উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিনই শাবকগুলো বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাতেই সেগুলো গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার ভোর সোয়া চারটার দিকে শাবকগুলোকে সাফারি পার্কে আনা হয়। পরে সকালে খুলনা বিভাগীয় বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মদিনুল আহসান গাজীপুরের সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে ওই শাবক চারটি হস্তাস্তর করেন। প্রাথমিকভাবে ওই চারটি প্রাণীর বাজার মূল্য চার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে পুলিশ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. নিজাম উদ্দিন চৌধুরী জানান, ওই শাবকগুলোর মধ্যে আনুমানিক দেড়মাস বয়সের উদ্ধার হওয়া লেপার্ড ক্যাটের দু’টি শাবকই পুরুষ এবং আনুমানিক আড়াই মাস বয়সের উদ্ধার হওয়া সিংহের শাবক দু’টির মধ্যে ১টি পুরুষ ও অপরটি মেয়ে শাবক। খাবারের অভাবে শারীরিকভাবে দুর্বল এ শাবকগুলোকে বর্তমানে পার্কের বন্যপ্রাণী হাসপাতাল ইউনিটের সঙ্গনিরোধ কক্ষে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে পরিচর্যা করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে এদেরকে কয়েকদিন যাবত কোনো খাবার দেয়া হয়নি। উদ্ধার করা শাবকগুলোকে এখন ফিডারের সাহায্যে প্রতিদিন ছয়বার করে দুধ ও দুই বার করে ছোট টুকরোর মাংস খাওয়ানো হচ্ছে। বয়স অনুযায়ী এদের খাদ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। প্রায় ছয়মাস বয়স পর্যন্ত শাবক গুলোকে এভাবে রাখা হবে। পরবর্তীতে বয়স অনুযায়ী সুস্থ্যতা সাপেক্ষে সাফারী পার্কের নির্দিষ্ট এলাকায় অনুকুল পরিবেশে শাবকগুলোকে অবমুক্ত করা হবে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা বিভাগীয় কর্মকর্তা মদিনুল আহসান এবং সামাজিক বন বিভাগ যশোরের বিভাগীয় কর্মকর্তা সরোয়ার আলম জানান, আমার জানামতে দেশে সিংহ পাচারের ঘটনা এটাই প্রথম। কারণ, বাংলাদেশে কোনও সিংহ নেই। সিংহের বাচ্চাগুলো বাইরের কোনও দেশ থেকে আনা হতে পারে। তবে তদন্তের পর জানা যাবে এগুলো কোথা থেকে কিভাবে আনা হয়েছে। এছাড়া লেপার্ড ক্যাট হলো বিড়াল প্রজাতির চিতা বাঘ। বাংলাদেশে এটি বিরল। কালেভদ্রে দেখা যায় পাহাড়ি অঞ্চলে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের চা বাগান এলাকায় এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম ও মিজোরাম অঞ্চলে দু’একটির দেখা মেলে। অনেকে এ প্রাণীটিকে ‘চিতা বিড়াল’ নামে চেনে।

যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, ভারতে পাচারের জন্য সিংহ ও লেপার্ড ক্যাটের চারটি শাবক ঢাকা থেকে বেনাপোলের উদ্দ্যেশে নেয়া হচ্ছিল। এ গোপন সংবাদ পেয়ে সোমবার বেলা ১১টার দিকে যশোরের চাঁচড়া এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে একটি প্রাডো গাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এসময় ওই গাড়িতে দুটি কাঠের বাক্সে লুকিয়ে রাখা শাবকগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় দু’পাচারকারীকে তাদের ব্যবহৃত গাড়িসহ আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো- বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বশিকুড়া চকপাড়া গ্রামের আহাদ আলী সরদারের ছেলে কামরুজ্জামান বাবু (৩২) ও নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বকুলনগর গ্রামের মান্নান ভূঁইয়ার ছেলে রানা ভ’ঁইয়া (২৮)। এ ঘটনায় যশোর কতোয়ালি থানায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়- ঢাকার উত্তরা থানার ফায়েদাবাদ এলাকার জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি দু’টি বাক্সে ভর্তি ওই শাবক চারটি তাদের কাছে দেয়। যশোরের শার্শা উপজেলার সামটা গ্রামের ইদ্রিস নামে এক ব্যক্তির কাছে সেগুলো পৌছে দেয়ার কথা ছিল।