ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি ও তিনটি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন। রোববার বেলা ১২টার পরে বিশেষ হেলিকপ্টারে তারা উখিয়ার ইনানীতে সেনাবাহিনীর রেস্ট হাউজ হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। সেখান থেকে প্রতিনিধিদলটি কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পৌঁছেন।শরণার্থী ক্যাম্পে তারা নির্যাতনের শিকার কিছু রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলছেন। এছাড়া ক্যাম্পে আইওএম-এর প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র, জরুরি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তারা।প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফেদেরিকো মঘেরিনি, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল, সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগট ওয়ালস্টার ও জাপানের পররাষ্ট্রন্ত্রী তারো কোনো।

তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিবসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারাউপস্থিত ছিলেন।পরিদর্শনকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এ রকম অবস্থা এর আগে কখনও দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন।এত অল্প জায়গায় এত মানুষের থাকা দেখে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের শাহরিয়ার আলম বলেন, আপনারা তাদের বক্তব্যেই শুনেছেন রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার ক্ষেত্রে আসিয়ান সামিটে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।সীমিত সম্পদের দেশ হয়েও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের স্থান দেওয়ায় প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে বলেও জানান শাহরিয়ার। এর আগে শনিবার বালুখালী ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ১০ সদস্যের একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জার্মানি, সুইডেন ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে অবাক হয়েছেন জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, চার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখানে এসেছেন ও তারা খুব অবাক হয়েছেন। এর আগে তারা কখনও এত কম জায়গায় এত বেশি মানুষ দেখেননি। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আসেম সম্মেলনে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর মিয়ানমারের রোহিঙ্গা উল্লেখ করে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এখানে রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে দেখেছি। রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করবে জার্মানি। রোহিঙ্গাদের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আসন্ন এশিয়া-ইউরোপ (আসেম) সম্মেলনে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।রবিবার দুপুর ১টার দিকে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও তিন দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। তারা হলেন- ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয় উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি ও ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফেদেরিকো মোঘেরিনি, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল, সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগট ওয়ালস্টার ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কানো।ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় তারা নির্যাতনের শিকার কিছু রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেন। উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আন্তর্জাতিক অভিবাসন কেন্দ্র আইওএম এর প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র, জরুরি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তারা।

বিদেশি এই প্রতিনিধিদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিবসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।