দুই বছর আগে মেয়র পদে যাকে শপথ পড়িয়েছিলেন, সেই আনিসুল হকের মৃত্যুতে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শনিবার দুপুরে লন্ডন থেকে আনিসুল হকের কফিন আসার পর বনানীতে তার বাড়িতে যান প্রধানমন্ত্রী। তার আগে স্বামীর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক।দুপুর পৌনে ২টার দিকে আনিসুল হকের বাড়িতে যান প্রধানমন্ত্রী; আধা ঘণ্টার মতো সেখানে ছিলেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা। আনিসুল হকের ভাই সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকও সেখানে ছিলেন।

শেখ হাসিনা আনিসুল হকের কফিনের সামনে মোনাজাত করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন কিছুক্ষণ।চার মাস আগে যুক্তরাজ্যে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া আনিসুল হক গত ৩০ নভেম্বর মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শনিবার দুপুর ১টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ আসার পর সেখান থেকে তার লাশ নেওয়া হয় বনানীর বাড়িতে।বিকালে আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজার পর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে আনিসুল হককে।

আনিসুল হক ২০১৫ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আনিসুল হকের রাজনীতিতে পা রাখাকে চমক হিসেবেই দেখেছিল সবাই।আনিসুল হকের মৃত্যুতে শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, জনকল্যাণ ও সেবামূলক কাজের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছিলেন। জনবান্ধব এই মেয়রের মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন নিবেদিতপ্রাণ জনপ্রতিনিধিকে হারাল। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এই দুই বছরে অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ বেশ কিছু বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে অনেকের নজর কাড়েন আনিসুল হক।

ঢাকার কূটনৈতিকপাড়া বারিধারা ও গুলশানের বিভিন্ন দূতাবাসের দখলে থাকা ফুটপাতও দখলমুক্ত করেন মেয়র আনিসুল। এছাড়া সড়ক প্রশস্তকরণ, ঢাকা চাকা, বিলবোর্ড উচ্ছেদ, গ্রিন ঢাকা কর্মসূচিসহ বেশকিছু উদ্যোগের জন্য আলোচিত হন তিনি।আনিসুল হক ‘উন্নত নগরীর’ স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অধিকাংশ মন্তব্য এলেও তিনি অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী ও বারিধারার বাইরে তেমন মনোযোগ দেননি বলে অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। প্রধানমন্ত্রী সেখানে প্রায় ত্রিশ মিনিটের মতো ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।আনিসুল হকের মরদেহ জাতীয় পতাকা ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পতাকা দিয়ে ঢাকা হয়।