ট্রাম্পের জেরুজালেম স্বীকৃতি: বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

0
90

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এ ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে উঠেছে নিন্দার ঝড়। ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণায় কে কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, এএফপির প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হয়েছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, তাঁর সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে না। এটি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনার জন্য সহায়ক নয়। ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সুরে বলেছেন, তাঁর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে না।জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল তাঁর মুখপাত্রের মাধ্যমে জানিয়েছেন, দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ভঙ্গ করে ট্রাম্প যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তিনি সমর্থন করেন না। পৃথক দুই রাষ্ট্র’-নীতির মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান বলে তিনি মনে করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান কূটনীতিক ফিদেরিকা মোগেরিনিও ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন। তিনি এই বলে সতর্ক করেছেন যে জেরুজালেমের কী হবে, তা কেবল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে আমি এখন থেকেই এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আমার অবস্থানের কথা জানিয়ে যাব।

ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণার সমালোচনা করে এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরব, ইরান, সিরিয়া, লেবানন ও জর্ডান। সৌদি আরবের রাজকীয় আদালত এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি ‘অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। ইরান ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছে, এ সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের নতুন ইন্তিফাদা বা গণ-অভ্যুত্থানের সূচনা করতে পারে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিবৃতি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত মুসলমানদের নতুন ইন্তিফাদা, উগ্রবাদ, ক্ষুব্ধ ও সহিংস কর্মকান্ডের দিকে উসকে দেবে।সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের কার্যালয় থেকে ট্রাম্পের জেরুজালেম সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে তাঁর কার্যালয় থেকে বলা হয়, জেরুজালেমের ভবিষ্যৎ কোনো রাষ্ট্র বা প্রেসিডেন্টের দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে না। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিদের চাওয়া ও অধিকারের ব্যাপারে সর্বোচ্চ একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আরব বিশ্ব কখনোই ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না। আর জর্ডান সরকারের মুখপাত্র মোহামেদ মোমানি এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, ট্রাম্প জেরুজালেম ঘোষণার মাধ্যমে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছেন।ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ট্রাম্পের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যকে আগুনের মধ্যে ঠেলে দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, হে ট্রাম্প, আপনি কী করতে চান? এটা কী ধরনের আচরণ। রাজনৈতিক নেতা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাঁরা কোনো বিষয়কে অচল করেন না।মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মিছিলের ডাক দিয়েছেন। বাংলাদেশ সময় গতকাল বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ, আরব ও মুসলমান-অধ্যুষিত দেশ, এমনকি মার্কিন মিত্রদের আপত্তিকে পাত্তা না দিয়ে তিনি নিজের একগুঁয়েমি সিদ্ধান্তেই অনড় থাকেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানান তিনি।মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ঐতিহাসিক’, সাহসী ও সঠিক সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের কাছে পবিত্র এই শহরের স্থাপনায় কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন।এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনের সরকার ও জনগণ। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এক ভাষণে বলেছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্র আর কোনোভাবেই ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারবে না। দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য এই সিদ্ধান্ত শান্তি আলোচনার সব ধরনের উদ্যোগ ভেস্তে দিয়েছে।ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) প্রধান সায়েব ইরেকাত বলেছেন, ট্রাম্প ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের পৃথক দুই রাষ্ট্র’ সমাধানের শেষ আশাটুকুও নষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে ফিলিস্তিনের পক্ষে শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণকারী শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। আর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতা ইসমাইল রেদোয়ান সাংবাদিকদের বলেন, এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে ‘নরকের দরজা’ খুলে গেল।