সুন্দরবনে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে জব্ধ করা ড্রোন বাগেরহাটে

0
98

বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে জব্ধ করা অত্যাধুনিক ড্রোনটি বাগেরহাটে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ড্রোনটি বাগেরহাটে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কার্যালয়ে আনা হয়। বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ড্রোনটিকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। রিপাবলিকান অব মাল্টার ওই বিদেশি পর্যটকরা তাদের ড্রোনটি বন কর্মকর্তার কাছে ফের চেয়ে না পেয়ে সুন্দরবন ছেড়ে চলে গেছে। ওই ড্রোনটি সুন্দরবনের কি কি চিত্রধারণ করেছে তা বিশ্লেষনের চেষ্টা করছে বন বিভাগ।

সুন্দরবন বিভাগ জানায়, বন বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে ‘মাবানা ট্যুরস’ লিমিটেডের মাধ্যমে দেশের বন সুন্দরবন নামে লঞ্চে চড়ে মাল্টার ১২ জন পর্যটক সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সুন্দরবন ভ্রমনে যায়। মঙ্গলবার তারা সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা উপজেলাধীন আলোরকোল এলাকায় একটি ড্রোন উড়ায়। বিষয়টি বন বিভাগের নজরে আসার পর তারা ড্রোনটিকে জব্ধ করে এবং ওই বিদেশি নাগরিকদের সর্তক করে ছেড়ে দেয়। সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ওই বিদেশি নাগরিকদের সুন্দরবন ভ্রমনের অনুমতি ছিল। মাল্টার ওই ১২ পর্যটকদের মধ্যে ছয়জন নারী এবং ছয়জন পুরুষ রয়েছে বলে জানা গেছে।সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, অত্যাধুনিক ওই ড্রোনটিতে চারটি পাখা রয়েছে। চিত্রধারণ করার জন্য ড্রোনের সামনে রয়েছে উচ্চক্ষমতা সম্পর্ন ক্যামেরা। ডিভাইজের মাধ্যমে ড্রোনটি আকাশে উড়ানো হয়। ড্রোনটি সুন্দরবনের কি কি চিত্রধারণ করেছে তা বিশ্লেষণ করতে তারা বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান।ডিএফও মো. মাহমুদুল হাসান আরো জানান,ওই ড্রোনটি বৃহস্পতিবার সুন্দরবন থেকে এনে তার কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ওই বিদেশি ১২ পর্যটকে। ড্রোনটি ফেরত পেতে ওই পর্যটকরা তার দপ্তরে এসে অনুরোধ জানিয়ে ছিল। ড্রোনের বিষয়ে উর্ধতন কৃর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ডিএফও জানান।ডিএফও মাহমুদুল হাসান আরো বলেন, বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে ড্রোন জব্ধ করার ঘটনায় ওই ট্যুরস লিমিটেডের বিরুদ্ধে বন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ড্রোনের বিষয়ে পূর্ব থেকে ঘোষণা না দেওয়ায় বিদেশিদের সুন্দরবনে নিয়ে যাওয়া ট্যুরস লিমিটেডকে জরিমানা দিতে হবে বলে তিনি জানান। প্রসঙ্গত এর আগে ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি সুন্দরবনের কটকা এলাকায় উড্ডয়নের সময় ফ্রান্সের নাগরিকদের কাছ থেকে একটি ড্রোন জব্ধ করা হয়। ওই ড্রোনটি এখনো বন বিভাগের কার্যালয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।