পুলিশের হস্তক্ষেপে তালায় ১৬ দিনের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেল বৃদ্ধাসহ এক পরিবার

তালা থানা পুলিশের জোর প্রচেষ্টায় ১৬ দিনের বন্দিদশা থেকে (১৪ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার সকালে মুক্তি পেয়েছেন তালার দঃ নলতার একটি পরিবার। নভেম্বরের ২৮ তারিখে প্রতিবেশী শরীকরা বাড়িটির যাতায়াতের অন্ততঃ ৮টি জায়গায় কাটা-বেড়া ও ইটের সীমাণা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে সবগুলো পথ বন্ধ করে দিলে সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ৩ সদস্যের পরিবারটি। এতে পরিবারের ৮৫বছরের অসূস্থ বৃদ্ধা রিজিয়া বেগম ও এ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত কলেজ ছাত্র হাবিবুর রহমানের (২২) এর ওষুধ পর্যন্ত কিনতে বাইরে যেতে পারেনি। বন্ধ হয়ে যায় তার কলেজ যাওয়াও। গত ১৬ দিনে গোসল করেননি তারা। বন্দিদশা থেকে মুক্তির পর তাদের এমন হৃদয়গ্রাহী কথা শুনে রীতিমত হতবাক হয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকাবাসীও।

তালা থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়,গত ২৮ নভেম্বর থেকে তালার দঃ নলতার মৃত ডাঃ রেজোয়ান মোড়লের ছেলে হাবিবুর রহমান মোড়লের পরিবারটিকে পূর্ব শত্র“তার জের হিসেবে অবরুদ্ধ করে রাখে তারই প্রতিবেশী মৃত আকিম উদ্দিন মোড়লের ছেলে সামাদ মোড়ল ও আমজেদ মোড়লের ছেলে পশু চিকিৎসক রহমান গংরা। প্রায় ২/৩ দিনের জোর প্রচেষ্টায় তারা সম্মিলিতভাবে হাবিবুরদের বাড়ির চারিপাশে অন্ততঃ ৮ টি জায়গায় কাটা,বেড়া ও ইটের সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দেয়।

এতে হাবিবুরের ৮৫ বছরের অসুস্থ্য বৃদ্ধা দাদী রিজিয়া বেগম,৬২ বছরের মা রিজিয়া বেগম ও কলেজ ছাত্র এ্যাপেন্ডিস আক্রান্ত হাবিবুর অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। আর এতে করে গত ১৬ দিন তারা বাড়ির বাইরে এসে ডাক্তার দেখাতে কিংবা ওষুধ পর্যন্ত কিনতে পারেনি। এতে তারা আরো অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। বাড়ির বাইরে থেকে বেঁচে থাকার আতœচিৎকারে এলাকাবাসী প্রশাসন সহ সাংবাদিকদের জানালে বৃহস্পতিবার সকালে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাসান হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এস আই নাজমুল হাসান,মাহাফুজুর রহমান,এস আই কামাল সহ সঙ্গীয় ফোর্সসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘেরা-বেড়াগুলি অপসারণ করেন। এসময় দীর্ঘ ১৬ দিনের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বেরিয়ে বাইরে এসে হাউ-মাউ করে কেঁদে ফেলেন। তাৎক্ষণিক সেখানকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে তাদের হৃদয় বিদারক আহাজারীতে।

দীর্ঘ দিন পাশাপাশি বসবাসের পর হঠাৎ প্রতিবেশীদের এমন কঠোর অবস্থানের কারণ কি এমন প্রশ্নের জবাবে বাড়ির একমাত্র পুরুষ সদস্য কলেজ ছাত্র হাবিবুর রহমান জানান,প্রতিবেশী শরীক সামাদ গংদের পারিবারিক কবর স্থানে যাতায়াতে তারা হাবিবুরদের জায়গা ব্যবহার করতে হয়। তাদের দাবি হাবিবুরের বাড়ির ভিতর দিয়ে কবরস্থানের পথ দিতে হবে। আর হাবিবুরের কথা সে জায়গা দেবে তবে তা বাড়ির পাশ দিয়ে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে মতদ্বন্দ্বের এক পর্যায়ে সামাদ-ডাঃ রহমান গংরা ইগো সমস্যাকে ইস্যু করে চ্যালেঞ্জ স্বরূপ তাদের অবরুদ্ধ করে,যাতে বাধ্য হয়ে হাবিবুর তার বাড়ির ভিতর দিয়ে কবরস্থানের রাস্তা দিতে বাধ্য হয়।

প্রসঙ্গত,১৬ দিন পূর্বে উভয় পক্ষের মধ্যে এমন সংকট তৈরী হলে থানা ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এর পরেই তারা মূলত ঐ ঘেরা-বেড়া দেয়। বৃহস্পতিবার ওসির ঐ বেড়া অপসারণকালে সামাদ গংদের কেউ এগিয়ে আসেনি। তাই নতুন করে আশংকায় আতংক তৈরী হয়েছে পরিবারটির মধ্যে যে,পুনরায় তারা কোন অঘটনের জন্ম দেন কিনা।তবে ওসি এসময় উভয় পক্ষকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পরবর্তী নির্দেশ দেয়া না পর্যন্ত যার যার অবস্থানে থাকতে বলেছেন। সর্বশেষ একটি অসহায় পরিবারের ১৬ দিনের বন্দিদশা থেকে মুক্তির ঘটনায় থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সাথে সাথে আশংকা প্রকাশ করেছেন অনাগত ভবিষ্যতের দুঃশ্চিন্তায়।