আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চান খালেদা জিয়া

0
75

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই দুর্নীতি দমন কমিশন প্রমাণ করতে পারেনি। ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারলে এর সুবিধা পাবেন আসামি। তিনি আদালতকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার চান, ন্যায়বিচার করুন।

দুর্নীতির দুই মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে নবমদিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরে আদালত ১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি পরবর্তী যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ আদেশ দেন। এর আগে সকাল সোয়া ১১টায় আদালতে হাজির হন খালেদা জিয়া।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নবম দিনে খালেদা জিয়ার পক্ষে মধ্যাহ্ন বিরতির আগে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা চলছে পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে। এ মামলার ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামানের আদালতে বিচারাধীন। এই আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাও বিচারাধীন আছে।

জমির উদ্দিন সরকার আদালতে বিএনপির চেয়ারপারসনের আত্মপক্ষ সমর্থন করে দেওয়া বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পড়ে শোনান। বিশেষ করে খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করে খেয়েছেনÑপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের এমন বক্তব্য আদালতের কাজে হস্তক্ষেপ কি না, সে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন তিনি। বিএনপির এই নেতা তাঁর বক্তব্যে বারবারই আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের কথা আদালতকে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি এক-এগারোকে ‘কালো দিবস’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ওই সময় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত করতে মামলা দেওয়া হয়েছে। এখন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা আছে।এর আগে গতকাল বুধবার এ মামলায় অষ্টম দিনের মতো যুক্তিতর্ক শুনানি হয়। শুরুতে খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। জালিয়াতির মাধ্যমে নথি তৈরির অভিযোগ এনে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ছয়জন সাক্ষীর শাস্তি চেয়ে লিখিত আবেদন করে তিনি তাঁর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করেন। এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন জমির উদ্দিন সরকার। খালেদার রাজনৈতিক জীবন ধ্বংসের জন্য মিথ্যা মামলা করা হয়েছে দাবি করেন তিনি। গতকাল যুক্তিতর্কের শুনানির সময় বারবার তিনি সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের প্রসঙ্গ তোলেন। আদালতকে তিনি বলেন, মাইনাস টু থিওরির অংশ হিসেবে খালেদার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে দুদক। অনেক কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে মইন উ আহমেদকে বিএনপির সরকারই সেনাপ্রধান করেছিলেন বলেও আদালতকে জানান প্রবীণ এই আইনজীবী।২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদক এ মামলা করে। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট এ মামলায় খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মাগুরার বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলায় শুরু থেকে পলাতক আছেন। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি পাবলিক ট্রায়াল হওয়ার কথা, কিন্তু তা হচ্ছে না। এটি হয়ে গেছে ক্যামেরা ট্রায়াল। এভাবে বিচার কার্যক্রম চলতে পারে না। এখানে আদালতে আইনজীবীদের ঢুকতে দেওয়া হয় না।বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে নবম দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি যুক্তি উপস্থাপনের শুরুতেই বলেন, ‘এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। সারাদেশের মানুষ জানে এটি রাজনৈতিকভাবে বিচার করা হচ্ছে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য এই মামলা করা হয়েছে। এই বিচার কার্যক্রমকে পশ্চিমা বিশ্বের বিচার কার্যক্রম বলে অভিহিত করেন মওদুদ আহমদ। তার ভাষ্য, মূলত এই ট্রাস্টটি ব্যক্তিগত। জিয়াউর রহমানের নামে কুয়েতের আমির তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমানের মাধ্যমে এই টাকা দান করা হয়। এই টাকায় একটি এতিমখানা নির্মাণ করা হয়। বাকি টাকা ব্যাংকে জমা আছে যা বর্তমানে সুদসহ তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ বিষয়ে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। মামলায় বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী ও তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে আসামি করা হয়।