সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা: বিএনপি

122

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে ‘তির্যক’ ও ‘কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্য রেখেছেন। এটি অনভিপ্রেত। সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন, তা এক ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহিতা।বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যেন গণতন্ত্রের ওপর বিষাক্ত তীর নিক্ষেপ। এর ফলে আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সংশয় ও সন্দেহের সৃষ্টি হবে।বিএনপির মহাসচিবের ভাষ্য, খালেদা জিয়ার ভীতির কারণেই ক্ষমতাসীনদের মস্তিষ্কের গোলযোগের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সাধারণত এসব কথা বলি না। কিন্তু উনি প্রধানমন্ত্রী গতকাল খালেদা জিয়াকে নিয়ে যেসব উচ্চারণ করেছেন, এটাতে আরেকটা মানহানি মামলা হতে পারে। মির্জা ফখরুল এর সঙ্গে যোগ করেন, আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই ভদ্র মহিলাকে, এই রাজনীতিবিদকে, প্রধানমন্ত্রীকে রং হেডেড পারসন বলেছিলেন। উনি যখন অন্যকে কিছু বলতে যান, তাঁর ভাবা উচিত তাঁর সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও আদালতের ধারণা কী।খালেদা জিয়ার বিদেশে সম্পদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদে মিথ্যাচার করেছেন দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গতকাল সংসদে প্রধানমন্ত্রী যে সম্পদের কথা বলেছেন, সম্পদের যে নাম দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে সেই সম্পদগুলোর কোনো অস্তিত্বই নেই। এই যে মিথ্যাচার, এই মিথ্যাচার করে গোটা দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রী বিভ্রান্ত করছেন। বিভ্রান্ত করার এই চেষ্টা এক ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহিতা।গত ৭ ডিসেম্বর গণভবনের এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সংসদে প্রধানমন্ত্রী আবারও খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের সম্পদের হিসাব তুলে ধরেন।

এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উনি (প্রধানমন্ত্রী) দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন আন্ডার ওথ। শপথ নিয়েছেন যে উনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন, সত্য কথা বলবেন, মিথ্যা কথা বলবেন না। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি মিথ্যা কথা বলতে পারেন না, সারা জাতিকে বিভ্রান্ত করতে পারেন না। অথচ সংসদ তিনি এই মিথ্যাচার করছেন। এখনো বলছি এই সমস্ত বন্ধ করুন, মিথ্যাচার বন্ধ করুন। জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা বন্ধ করুন। জাতি কখনো বিভ্রান্ত হবে না, কোনোদিন হয়নি।সংসদে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে খালেদা জিয়া তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর প্রতিবাদ করেননি। এটা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যাচার। আমরা এখানে (নয়াপল্টন কার্যালয়) থেকে সংবাদ সম্মেলন করেছি। শুধু তাই নয়, আমরা উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি,। তার জবাব তিনি (প্রধানমন্ত্রী) এখন পর্যন্ত দেননি। তিনি এই উকিল নোটিশের জবাব না দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।সংবাদ সম্মেলনে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে যে রাজনৈতিক সংকট, দেশে যে দুরবস্থা, এ দিনটির সূচনা হয়েছিল গণতন্ত্রকে হত্যা করে বেআইনি ও অসাংবিধানিক ফখরুউদ্দীনের (ফখরুদ্দীন আহমেদ) নেতৃত্বে গঠন করা সরকারের সময়। সেই সরকার পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার নীলনকশা করে ২০০৮ সালে অত্যন্ত বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে আজকের এই অবৈধ ও অনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। আমরা এদিনকে ঘৃণা ও ধিক্কারের সঙ্গে স্মরণ করছি।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শামসুজ্জামান দুদু ও নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহিদউদ্দিন চৌধুরী, মীর সরফত আলী প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।