পাঁচ জানুয়ারির মতো নির্বাচন জাতি গ্রহণ করবে না: নোমান

0
107

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, আমরা নির্বাচন চাই, আমরা নির্বাচন করবো।তবে সেই নির্বাচন নির্ভেজাল হতে হবে। নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে সেই নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাঁচ জানুয়ারির মতো আর কোনো নির্বাচন জাতি গ্রহণ করবে না। এমন নির্বাচনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ আওয়াজ তুলবে।শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক মঞ্চ।সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনে আমরা আলোচনা করবো, প্রয়োজনে আন্দোলনও করবো। আর এভাবেই আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করবো।
আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার ও শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্র করছেন। কারণ আমরা যুদ্ধ করে দেশে যে স্বাধীনতা এনেছিলাম, সেই স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে এক-এগারোর (ওয়ান-ইলেভেন) সুবিধাভোগী আখ্যায়িত করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, তারা এখন রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তার করতে চায়।দেশে বর্তমানে গণতন্ত্র নেই দাবি করে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠায়’ তার দল বিএনপি কোনো ছাড় দেবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। নোমান বলেন, দেশের যে এক-এগারোর সৃষ্টি হয়েছিল, সেই এক-এগারোর সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। তারা আবার বাকশাল করতে চায়। মানুষের মৌলিক অধিকার ইতোমধ্যে তারা হরণ করে ফেলেছে।আমরা দেশের একটি গণতান্ত্রিক সরকার চাই, দেশে সুশাসন চাই। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রয়োজনে আলোচনা করব, প্রয়োজনে আন্দোলন করব; গণতন্ত্রের প্রশ্নের আমরা ছাড় দেব না।নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়ে বিতর্কের জেরে রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ফখরুউদ্দিন আহমেদ নেতৃত্বাধীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেয়, রাজনীতিতে যা ওয়ান-ইলেভেন (এক-এগার) হিসেবে পরিচিত।২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নেওয়ার আগে সেই সরকারের দুই বছরে দুর্নীতির অভিযোগে বিএনপি-আওয়ামী লীগের বহু রাজনীতিবিদকে কারাগারে যেতে হয়। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করলে তা পুনর্বহালের দাবিতে পরের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আসছে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেও ফের নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি জানিয়ে আসছে তারা।তবে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির দাবি নাকচে সরকারের সমালোচনা করে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, এই সরকার গণতন্ত্রের কবর রচনা করতে চায়। তারা মনে করে, যদি বুলেটের চাইতে শক্তিশালী ব্যালট এদেশের সাধারণ মানুষ নির্ভেজালভাবে দিতে পারে- তাহলে আওয়ামী লীগ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।এই নিক্ষিপ্ত হওয়ার ভয়ে, তারা পাল্টা রাজনৈতিক যে শক্তি- দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে এবং যে দল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছে, সেই দলকে ধ্বংস করতে চায়। আমরা বলতে চাই, এসব করে বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না।আমরাদের দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জনগণকে দমানো যাবে না।তিনি বলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে অবশ্যই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পূর্বশর্ত। আমরা বলেছি, নির্বাচন আমরা চাই, নির্বাচন আমরা করব। তবে সেই নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে হতে হবে।গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এই বিএনপি নেতা। নোমান বলেন, সরকার… তার উপরিকাঠামো যতই শক্তিশালী মনে হোক, আমরা দেখছি তারা দুর্বল হয়ে গেছে। এই দুর্বলতায় তারা এখন বাঁচতে চায়। আমরা বলি আসুন আলোচনা করি, আলোচনা করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি। এই লক্ষ্যে আমি সকলকে এক হওয়ার আহ্বানও জানাচ্ছি।গণতান্ত্রিক মঞ্চের সভাপতি ইসমাইল হোসেন তালুকদার খোকনের সভাপতিত্বে ও জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাসাসের শাহিরুল ইসলাম শায়লা, উলামা দলের কাজী রফিকুল ইসলাম এবং মুক্তিযোদ্ধা ফরিদউদ্দিন বক্তব্য রাখেন।