বিশ্বইজতেমাঃ নজীর বিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু

জু’মার নামাজে লাখো মুসুল্লীর অংশগ্রহণ ॥ কাল (রবিবার) আখেরি মোনাজাত॥

0
102

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে টঙ্গীতে তাবলীগ জামাতের ৫৩তম বিশ্ব এজতেমা শুরু হয়েছে। কনকনে শীত আর পাঁচ স্তরের নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে তাবলীগ জামাতের এবারের বিশ্ব এজতেমার প্রথম পর্বে লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। তবে তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে কোন প্রতিক্রিয়া নেই। দু’পক্ষের মাঝে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল তা শুধু শীর্ষস্থানীয় মরুব্বিদের মাঝেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। শীর্ষ মুরুব্বিদের দু’গ্রুপই সতর্ক ভাবে তাদের বক্তব্য পেশ করছেন।

এবারের বিশ্ব এজতেমায় যোগ দিতে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নানা বিড়ম্বনাকে উপেক্ষা করে শুক্রবারেও টঙ্গীর এজতেমা ময়দানে ছুটে আসেন। এদিন জুমা’ বার হওয়ায় সকাল থেকেই টঙ্গী ও আশপাশ এলাকার লাখো মুসল্লীর ঢল নামে টঙ্গীর তুরাগ তীরে। নামাজের আগেই এজতেমার পুরো প্যান্ডেল ও ময়দান কানায় কানায় ভরে যায়। প্যান্ডেলের নিচে জায়গা না পেয়ে মুসল্লি¬রা অংশ নেন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশেপাশের সড়ক ও গলিগুলোর ওপরে। রবিবার আখেরি মোনাজাতের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত মুসল্লিদের এ ঢল অব্যাহত থাকবে। শুক্রবার প্রথম দিনে বাদ ফজর থেকে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কাল (রবিবার) আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথম পর্বের ৩ দিনব্যাপী বিশ্ব এজতেমা শেষ হবে। এবারের বিশ^ এজতেমার প্রথম পর্বে লাখ লাখ মুসুল্লির সঙ্গে বিশ্বের প্রায় ৮২টি দেশের প্রায় ৪ হাজার মুসল্লি উপস্থিত হয়েছেন।

প্রথমবারের মতো শুক্রবার বাদ ফজর জর্ডানের মাওলানা শেখ ওমর খতিবের আরবীতে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার মূল কাজ শুরু হয়। এবারই প্রথমবারের মতো ইজতেমার আম বয়ান আরবিতে দেওয়া হয়। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মুরুব্বি মাওলানা আব্দুল মতিন। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও উপস্থিত লাখ লাখ মুসল্লি¬র উদ্দেশে যথারীতি তাবলীগের ৬ উসূল অর্থাৎ কালেমা, নামাজ, এলেম ও জিকির, একরামুল মুসলিমিন, সহীহ নিয়ত ও তাবলীগ ইত্যাদি বিষয়ে আমবয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার প্রথম পর্বের ৩ দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। রবিবার (১৪ জানুয়ারি) জোহরের নামাযের পূর্বে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। এর ৪ দিন পর আগামী ১৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্বের ৩ দিনব্যাপী বিশ্ব এজতেমা।

কনকনে শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে শুক্রবারও মুসল্লিরা এজতেমা ময়দানে আসছেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লিদের ঢল বাড়ছে। এবারের বিশ্ব এজতেমায় বিদেশি মুসল্লিদের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৪ জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন। প্রথম পর্বে পুরো ময়দানকে ২৮টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। আর বিদেশি মুসল্লিদের জন্য ময়দানের উত্তর-পশ্চিম কোণায় নিবাস তৈরি করা হয়েছে। উত্তরের হিমেল হাওয়া তীব্র শীতের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মুসল্লিদের প্যান্ডেলের বাইরে যেতে দেখা যায়নি। রেকর্ড পরিমাণ কনকনে শীত উপেক্ষা করে এজতেমা ময়দানে লাখো মুসল্লি বয়ান, তাশকিল, তাসবিহ-তাহলিলে কাটাচ্ছেন। শীত বস্ত্র মুড়ি দিয়ে ইজতেমায়ী কার্যক্রমে অংশগ্রহন করেন তারা।

বৃহত্তম জু’মার নামাজ অনুষ্ঠিত ॥ বিশ্ব ইজতেমার শুরুর দিন জু’মা বার হওয়ায় ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ যাবৎকালের বৃহত্তম জু’মার জামাত। দুপুর দেড়টার দিকে জু’মার জামাত শুরু হয়। ওই নামাজের ইমামতি করেন বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম পেশ ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ জোবায়ের। ইজতেমায় যোগদানকারী মুসুল্লি ছাড়াও জু’মার নামাজে অংশ নিতে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশে-পাশের এলাকার লাখ লাখ মুসুল্লি ইজতেমাস্থলে হাজির হন। ভোর থেকেই রাজধানীসহ আশে-পাশের এলাকা থেকে ইজতেমা মাঠের দিকে মানুষের ঢল নামে। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমা মাঠ উপচে আশে-পাশের খোলা জায়গাসহ সবস্থান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জু’মার মূল জামাত এজতেমা ময়দান ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক-মহাসড়ক পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসুল্লিরা মহাসড়ক ও অলি-গলিসহ যে যেখানে পেরেছেন হোগলা পাটি, চটের বস্তা, খবরের কাগজ বিছিয়ে জু’মার নামাজে শরিক হয়েছেন। ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক তুরাগ নদীতে স্থাপিত ভাসমান ব্রিজের মাধ্যমে মেহরাবের সঙ্গে নদীর পূর্ব পাড়ের মূল ময়দানের সেতুবন্ধ স্থাপিত হয়। ফলে এবছর ভাসমান সেতুতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসল্লি¬ জুমার জামাতে শরিক হন। নামাজে ২০ লক্ষাধিক মুসল্লী শরীক হন বলে গোয়েন্দা সূত্র জানায়।

জু’মার নামাজে ভিআইপিদের অংশ গ্রহণ ॥ এজতেমার ময়দানে প্রথম দিনে জুম্মার নামাজে অংশ নেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ হাসান রাসেল, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি আবু কালাম সিদ্দিক, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

প্রথম দিনে যারা বয়ান করলেন ॥ ঈমান-আমলের উপর প্রথম দিন বাদ ফজর জর্ডানের মাওলানা শেখ ওমর খতিবের আমবয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার মূল কাজ শুরু হয়। এবারই প্রথমবারের মতো ইজতেমার আম বয়ান আরবিতে দেওয়া হয়। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মুরুব্বি মাওলানা আব্দুল মতিন। বাদ জুমা বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা মোহাম্মদ হোসেন, বাদ আসর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল বারী ও বাদ মাগরিব বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলান মোহাম্মদ রবিউল হক। আগামী রবিবার আখেরী মোনাজাতের পূর্ব পর্যন্ত তাবলীগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বিরা তাবলীগের ৬ উসূল অর্থাৎ কালেমা, নামাজ, এলেম ও জিকির, একরামুল মুসলিমিন, সহীহ নিয়ত ও তাবলীগ ইত্যাদি বিষয়ে বয়ান করবেন।

বয়ানের তাৎক্ষণিক অনুবাদ ॥ বিশ্বইজতেমায় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তাবলিগ মারকাজের ১৫-২০জন শুরা সদস্য ও বুজর্গ বয়ান পেশ করবেন। মূল বয়ান উর্দূতে হলেও বাংলা, ইংরেজী, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসি ভাষায় তাৎক্ষনিক অনুবাদ হচ্ছে। বিদেশী মেহমানদের জন্য মূল বয়ান মঞ্চের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বপাশে হোগলা পাটিতে বসেন। বিভিন্ন ভাষাভাষি মুসুল্লিরা আলাদা আলাদা বসেন এবং তাদের মধ্যে একজন করে মুরুব্বী মূল বয়ানকে তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শুনান।

প্রথম দিনে বিভিন্ন দেশের মুসুল্লি ॥ বিশ্ব এজতেমার প্রথম পর্বে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ভারত, পাকিস্থান, ইরান, ইরাক, জর্ডানসহ বিশ্বের অন্ততঃ ৮২টি দেশের প্রায় ৪ হাজার জন বিদেশী মুসল্লির এজতেমা মাঠে আগমন ঘটেছে। এবারের এজতেমায় বিশ্বের অন্ততঃ শতাধিক দেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার মুসুল্লিদের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন ইজতেমার মুরব্বি মাওলানা গিয়াস উদ্দিন।

হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ॥ টঙ্গী হাসপাতাল ও বিভিন্ন মেডিক্যাল ক্যাম্পে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় ২ হাজার জন মুসুল্লী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে এবং প্রায় অর্ধশত জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থ্যদের অধিকাংশই ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, আমাশয়, শ্বাসকষ্টের ও হৃদরোগের রোগী বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা: আলী হায়দার খান। এদিকে সরকারী হাসপাতাল ছাড়াও মুসল্লীদের চিকিৎসা সেবা দিতে ইজতেমা ময়দানে প্রায় অর্ধশত বেসরকারী প্রতিষ্ঠাণ বিনা মূল্যে কাজ করছে।

ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসা ॥ শুক্রবার সকাল থেকে ইজতেমা ময়দান সংলগ্ন ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্পগুলোতে মুসুল্লিদের চিকিৎসা নিতে ভিড় দেখা গেছে। মুসুল্লীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য ময়দানের আশপাশে ও মন্নু নগর এলাকায় বাংলাদেশ হোমিও প্যাথি পরিষদ, র‌্যাব’র ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্প, গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিস, টঙ্গী ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, হামদর্দ ওয়াক্ফ, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিকেলস, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক কলেজ, ইসলামি ফাউন্ডেশনের ইসলামি মিশন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনেরসহ বিভিন্ন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছেন। এলোপ্যাথি ছাড়াও মুসুল্লীরা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিতে তাদের ক্যাম্পে ভিড় করেছেন। অসুস্থ্যদের অধিকাংশই ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, আমাশয়, শ্বাসকষ্টের রোগী।

এজতেমা উপলক্ষে স্বাস্থ্য বিভাগের ছুটি বাতিল ॥ এজতেমা উপলক্ষ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সকল প্রস্তুতি নিয়েছে। মুসুল্লীদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ইজতেমায় দায়িত্বপালনকারী সকল চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানান গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ মোঃ মঞ্জুরুল হক। তিনি আরো জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মেডিক্যাল অফিসারদের তালিকা ও ডিউটি রোস্টার করা হয়েছে। তিন শিফ্টে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ ছাড়াও মেডিক্যাল অফিসারগণ এজতেমা ময়দানে ডিউটি করছেন। এছাড়াও টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে আরও শয্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ হাসপাতালের উদ্যোগে মুন্নগেট, বাটা গেট ও এটলাস হোন্ডা রোডে মুসলি¬দের তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়ার জন্য অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। মুসুল্লি রোগীদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য সার্বক্ষনিক অ্যা¤ু^লেন্স মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া ইজতেমা মাঠের উত্তরে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে প্রায় অর্ধশত ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমায় অসুস্থ্যদের অধিকাংশই ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, আমাশয়, শ্বাসকষ্টের রোগী। হোটেলে খাবারের মান ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিষ্ট্রেটসহ সেনিটেশন টিম কাজ করছে।

বিশ্ব এজতেমায় আগত দুই মুসল্লির মৃত্যু ॥ এবারের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব এজতেমায় প্রথম পর্বে যোগ দিতে এসে দুই মুসুল্লি মারা গেছেন।
এজতেমা জামাতের মাসলেহাল সদস্য আদম আলী জানান, ২৯ নং খিত্তায় শ^াসকষ্ট জনিত রোগে মাগুরার শালিখা উপজেলার খরিশপুর গ্রামের আজিজুল হক (৬০) বৃহষ্পতিবার রাতে মারা যান। ফজরের নামাজের পর এজতেমা মাঠে জানাযা শেষে নিহতের লাশ গ্রামের বাড়ীতে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়াও শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. পারভেজ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে টঙ্গীর ষ্টেশন রোড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী গাড়ী চাপায় রাজধানীর আগারগাঁও এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মামুন ওরফে মনা (৩৩) আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে যানজটে আটকা পরে সে মারা যায়।

বিশ্বএজতেমার মুরুব্বী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, বিশ্বএজতেমার প্রস্তুতির সকল প্রস্তুতি সুসম্পন্ন হয়েছে। বিশ্বএজতেমার প্রথম দফা ১২জানুয়ারি থেকে ১৪জানুয়ারি পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফা ১৯ থেকে ২১জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদফার শেষ দিনে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৬৭সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগতীরে বিশ্ব এজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মাঠে মুসুল্লীদের স্থান সংঙ্কুলান না হওয়ায় ২০১১সাল থেকে টঙ্গীতে দুই পর্বে বিশ্ব এজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম বছর যারা (যে ৩২ জেলার মুসুল্লী) টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমায় অংশ নেবেন তারা পরবর্তী বছর সেখানে যাবেন না। ওই বছর এসব জেলার মুসুল্লীরা নিজ নিজ জেলায় আঞ্চলিক এজতেমায় শরিক হবেন। ২০১৫সাল থেকে প্রতিবছর টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমা পাশাপাশি জেলা জেলায় আঞ্চলিক এজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।