হু-হুমনা হু-হুমনা গলায় এই সুর নিয়ে পালকি করে নতুন বধুকে বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যাওয়ার এ দৃশ্য আর চোখে পরে না। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাহন পালকি আজ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কাঁধে পালকি আর হাতে লাঠি নিয়ে অদ্ভুত ধরনের শব্দ করে চার বেহারার অথবা আট বেহারাদের দূলকি চালে হাঁটা এখন আর দেখা যায় না। আগে গ্রমের অভিজাত এবং বিত্তবান পরিবারের লোকজন পালকিতে সওয়ার হত। এ সব পরিবারে বউ-ঝিদের বাপের বাড়ি অথবা শশুর বাড়িতে যাওয়ার প্রধান বাহন ছিল পালকি। বিশেষ করে নতুন বধুর প্রথম শশুর বাড়ি যাওয়ার সঙ্গে পালকির ছিল অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। কিন্তু যান্ত্রিক সভ্যতার বর্তমান সময়ে মানুষবাহী এ বাহনটি প্রায় বিলুপ্তই হয়ে গেছে। নেহাতি শখের বসে কেউ কেউ বিয়ে ও অন্য সামাজিক অনুষ্ঠানে পালকি ব্যবহার করায় এখনও কিছু কিছু স্থানে এাট টিকে আছে। পালকির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেহরাদের প্রায় সবাই পেশা পাল্টে নতুন পেশা বেছে নিয়েছে। তবে দুই এক জায়গায় যারা এখনও এ পেশা আঁকড়ে ধরে আছেন তারা এ পেশার পাশাপাশি রিক্স চালনা, দিন মজুর খাটা সহ অন্য পেশায় নিয়োজিত। এক সময় চলনবিলের চাটমোহর,ভাঙুড়া, ফরিদপর, তারাশ,রায়গঞ্জ, গুরদাসপুর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলা সহ বিভিন্ন স্থানে শত শত বাগদী পাড়া (পালকি বাহকদের গ্রাম) ছিল। অথচ বর্তমানে চাটমোহর, শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ, শাহজাদপুর সদর, উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর ও বামন গ্রাম গুলোতে কিছু সংখ্যক পালকি এবং বেহারাদের সন্ধান পাওয়া যায়। গাড়াদহ গ্রামের অনিল রায়, সকুমার রায়, রাজেন রায় সহ কয়েকজন জানান, তাদের গ্রামের ১০/১২ টি ঘর এখনও পালকি বাহনের সাথে যুক্ত তবে শুধু এ পেশায় থেকে পেটে ভাত যায়না বলে তারা এর পাশাপাশি রিক্স চালনা, দিন মজুর খাটা সহ অন্য পেশায় যুক্ত। তারা জানান, গত প্রায় ১৫/২০ বছর ধরে পালকির চাহিদা একেবারে কমে গেছে। বর্তমানে মাসে একটা করে খেপ আসে আবার কখনও আসেনা। অনিল রায়, সকুমার রায়, রাজেন রায় সহ গ্রামের অন্য সবাই এক বাক্যে জানান, তাদের ধারনা আগামী ২/৪ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ঐতিহ্য “পালকি“ দেশ থেকে একেবারেই উঠে যাবে।

এস এম মাসুদ রানা/ চাটমোহর, (পাবনা)