ফিরে দেখা—আমেনা ফাহিম

209

ফিরে দেখা—আমেনা ফাহিম

প্রায় ১৩ বছর পর ……………………………………………।
সেদিন বাসে উঠলাম, যাব চেনা ঠিকানায়।
পুরুষ শাসিত সভ্যতায়
ভীর বাসে সাধারন নন্দিনী দের, যে অবস্থা হয়
সেতো কারো অজানা নয়।
কোনমতে নিজেকে আগলানোর চেষ্টায়, যখন আমি অবিন্যস্ত
ঠিক তখনি কেউ আমার বাহু যুগল স্পর্শ করল।
মুহূর্তেই আশ্চর্য হয়ে উঠলাম,
অনামিকা তুই?
বেশি কিছু না বলতেই অনামিকা আমায় বক্ষে জড়াল
অনামিকা আমার পুতুল খেলার সই,
দুজনে একসঙ্গে পার করেছি, জীবনের অনেকটা অধ্যায়
বাস্তবতার গহীনে একটা সময়, কাছের মানুষগুলো
অনেক দূরে চলে যায়।
হয়ত এরই নাম ভবিতব্য ……………………………।
কত অষ্টপ্রহর পর দেখা
দুজনের মুখে কথার খৈ ফুটছিল
আমজনতা অবশ্য একটু আপত্তিকর দৃষ্টিতেই দেখছে আমাদের।
কথারাজীর মধ্যেখানে অনামিকা বলল
মেঘের কি খবর বল?
নামটা শুনতেই হৃদ পিঞ্জর কেমন ভারী হয়ে এল
তবু খেয়ালী মনে বললাম
মেঘের অনেক রঙ
তোকে কোন মেঘের কথা বলব
বরষার কালো মেঘ
নাকি শরৎ এর সাদা মেঘ
অনামিকা আমার কপলে চিমটি কেটে বলল
আমাকে বোকা বানানো হচ্ছে?
বল এবার, কোথায় আছে মেঘবাবু, কেমন আছে সে
ভাল আছে, কথা হয় মাঝে মাঝে
এই তো সেদিন, দেখা হল মেঘের সাথে
দুজনে আগে থেকেই দিন তারিখ ঠিক করে রেখেছিলাম
দেখা করব বলে।
সৃতির এ্যালবামে বন্দী হওয়া, প্রায় ৬ খানা ফাগুন শেষে
দেখা হল তার সাথে ।
খানিকটা নীরবতা কাটিয়ে বিশ্বয়ের কণ্ঠে বলল আমায়
কেমন আছ তুমি?
ভাল, তুমি?
তুমি যেমনটি চেয়েছিলে, তেমনি আছি, ভাল আছি।
বসেছিলাম অনেকটা সন্নিহিত
বলেছিলাম অনেক না বলা কথা
কবিতা, মনে পরে তোমার ছোটবেলার কথা?
তুমি ফুল ভালবাসতে বলে
প্রতিদিবা আমি তোমায়, বকুল ফুল কুরিয়ে দিতাম
তুমি মালা গেঁথে গলায় জরিয়ে
সাড়া পাড়া মাথায় তুলতে।
হলুদ গাঁধা ফুল তোমার বড় প্রিয় ছিল
যেখানে যেতে শুকনো ফুলের পাপড়ি নিয়ে আসতে
বীজ বুনবে বলে।
শুধু আমার হৃদয় আঙিনায় আজও……………………
তোমার সেই দুরন্তপনা, আমার আঁখি কোনে অম্লান।
এখনও মনে রেখেছ সে সব কথা?
দুজনের মাঝে ছিল মেঘ ছোঁয়া দুটি গোলাপ
আর বৃষ্টির কিছু ফোঁটা।
ছুঁয়েছিলাম দুটি হাত, ঐ কাল চুল
জানিনা মনের অজান্তে হয়েছিল কিনা ভুল
দেখতে দেখতে অনেকটা প্রহর বয়ে গেল
মন না চাইতেও, অতৃপ্ত কণ্ঠে বললাম,
এবার বোধ হয়, যেতে হবে?
জানো কবিতা………
বৃষ্টি এলেই চোখের পাতায় ভেসে উঠে
আষাঢ়ের সেই পড়ন্ত বিকেল
যেদিন তুমি আমায় শুন্য করে, চলে গেলে অনেক দূরে,
সেদিনও বৃষ্টি ছিল।
অনামিকা,
তোর মেঘবাবুর হৃদয় নিংড়ানো বানীগুলো
যুদ্ধের ময়দানে তীরবিদ্ধ পরাজিত সৈনিকের
আর্তনাদ এর মত, আমার হৃদয় চৌকাঠে বিঁধল।
এক টুকরো দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়া তাকে
দেওয়ার মত আমার কাছে কিছুই ছিলনা।
শুধু বিদায় বেলায় বলেছিলাম
শরৎ এর নীল অন্তরীক্ষে কাকে খুজে বেড়াও?
কেন কুয়াশা রাঙ্গা শীতে, বৃষ্টি ঝরাও?
তুমি কি জাননা?
আমি গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদের রিক্ত প্রান্তরে পথ হারিয়েছি।
কেন এক নদীকান্ত পিপাসা নিয়ে বর্ষার জলে ভিজে বেরাও?
কেন এক অাচল দুঃখ দিয়ে হৃদমন্দিরে বাসর সাজাও?
তুমি তো জানো;
আমি নিঃসঙ্গতা কে ভালোবেসে না ফেরার দেশে
অনন্ত প্রান বেঁধেছি।
বেলা শেষে সন্ধ্যে হল
বৈশাখী তাণ্ডবে মাতাল ধরণী।
এক টুকরো দক্ষিনা অনিল এল, মেঘকে নিয়ে চলে গেল
বৃষ্টি ঝরাবে অন্য কোন দেশে।​