বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, লেখক শওকত আলী আর নেই। আজ সকাল আটটা পনের মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে…রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১।তিনি তিন ছেলেসহ আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন।বাংলাদেশ লেখক শিবিরের পক্ষ থেকে প্রকাশক রবীন আহসান বাসসকে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি, রক্তচাপে ভুগছিলেন। তিন সপ্তাহ আগে বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে সেখান থেকে তাকে পাঁচদিন আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এনে ভর্তি করা হয়েছিল।জোহর নামাজের পর টিকাটুলি জামে মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রয়াত এই কথাসাহিত্যিকের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য তার মরদেহ বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাকে গোড়ান কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শওকত আলী ১৯৩৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি শিতক্ষকতা করতেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরে যান। লেখালেখি জীবনে তিনি গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেছিলেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশত।অধ্যাপক শওকত আলী ১৯৫৯ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও কলেজে, পরবর্তীতে সরকারী সংগীত মহাবিদ্যালয় ও সর্বশেষ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যায়ে তিনি শিক্ষকতা শেষে অবসরে যান। তিনি ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। তার কথাসাহিত্যে বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের জীবনধারাকে উচ্চকিত করেছেন। শোষণহীন সমাজব্যবস্থা ছিল তার কথাসাহিত্যের মূলভাষ্য।