ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়ার অনুমোদন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই আইনে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে কোনো অপরাধ করলে তার জন্য শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নতুন আইন অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতার অবমাননা, সাধারণ মানুষের মানহানি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, সরকারের গোপন নথি ফাঁস, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি, কম্পিউটার হ্যাকিং, জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি ইত্যাদি অপরাধের জন্য আমলযোগ্য এবং জামিন অযোগ্য ধারায় বিচার হবে।

আইনে এসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা। অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭, ৬৬ ধারা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেগুলোর পরিবর্তে এই আইনে কয়েকটি ধারার অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। পরে দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হবেন কি না বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘নতুন এই আইনে সাংবাদিকদের টার্গেট করা হয়নি।’ ৫৭ ধারায় করা মামলাগুলো যথানিয়মে চলবে বলেও জানান সচিব। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনের ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহার করে ক্ষতিসাধন করলে ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

কারো কম্পিউটার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত করলে এক বছরের কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধার রয়েছে। ২১ ধারায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতার অবমাননা করা হলে অথবা অবমাননায় মদদ দেওয়া হলে ১৪ বছরের কারাদণ্ড অথবা এক কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

এ ছাড়া আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ড দেওয়া যাবে। কারো মানহানি করলে তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, ৩২ ধারা অনুযায়ী সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অতি গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ, প্রকাশ বা গুপ্তচরবৃত্তি করলে ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে বলেও জানান সচিব।