ইয়াসির আরফাত। মধ্যপ্রাচ্যের স্বাধীন ফিলস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা ও অগ্রনায়ক। প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ছিলেন ফিলিস্তিন জাতীয় কর্তৃপক্ষের প্রথম প্রেসিডেন্ট। ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের ক্লেমার্টের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যু স্বাভাবিক না পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক চলে আসছে। সন্দেহের তীর ছিল চিরশত্রু ইসরায়েলের দিকে। ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ইসরায়েলের একজন প্রতিথযশা সাংবাদিক রনিন বার্গম্যান তার গ্রন্থ ‘রাইজ অ্যান্ড কিল ফাস্ট: দ্য সিক্রেট হিস্টোরি অব ইসরায়েল’স টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশন্স’ এ লিখেছেন- ফিলিস্তিনের নেতা ইয়াসির আরাফাতকে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল। আর তা করেছিল ইসরায়েল।

রনিন তার বইয়ে লিখেন, ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময় আরাফাতকে হত্যার নির্দেশ দেন। ইয়াসির আরাফাতকে রেডিয়েশনের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল। রনিন লিখেছেন, ভূমধ্যসাগরে বিমান বিধ্বস্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন অ্যারিয়েল শ্যারন। তার নির্দেশে পাঁচবার আরাফাতকে হত্যায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু বিমানবাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তারা নির্দেশটি পালন করেননি।

প্রসঙ্গত, ইসরায়েলের শীর্ষ পত্রিকা ইয়েদিওথ আহরোনথ-র জাতীয় নিরাপত্তা সংবাদদাতা রনিন বার্গম্যান। এর পাশাপাশি নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায়ও কন্ট্রিবিউট করেন তিনি। রনিন তার বইয়ে লিখেছেন, ‘যুদ্ধের পরিবর্তে ইসরায়েল গুপ্তহত্যা চালায়। এ প্রক্রিয়ায় ইরানের প্রায় আধাডজন পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা করেছে তেল আবিব। বিশ্বজুড়ে ৭০ বছর ধরে এই গুপ্তহত্যা মিশন চালাচ্ছে ইসরায়েল। টুথপেস্টে বিষ মিশিয়ে, ফোন বিস্ফোরণ, ড্রোন ও গাড়ির চাকায় পেতে রাখা দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা ফাটিয়ে এসব মিশন পরিচালনা করা হয়।