পরাজয়ের শঙ্কায় টাইগাররা

প্রথম ইনিংসে ৫১৩ রান তুলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা বাংলাদেশ এখন পরাজয়ের শঙ্কায় শঙ্কিত। নিজেদের লাকি ভেন্যু হিসেবে পরিচিত সেই জহুর আহমেদেই পরাজয়ের দুশ্চিন্তায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বাধীন দলটি।বাংলাদেশের জবাবে ৯ উইকেটে ৭১৩ রান নিয়ে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলংকা। ২০০ রানে পিছিয়ে থেকে শনিবার চতুর্থ দিনের শেষ বিকালে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮১ রানে টপঅর্ডার তিন ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের প্রহর গুনছে বাংলাদেশ।চতুর্থ দিনের খেলা শেষে এখনও ১১৯ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা। বাকি সাতজন ব্যাটসম্যানের পক্ষে রানের বোঝা এড়িয়ে চ্যালেঞ্জিং লিড নিয়ে প্রতিপক্ষকে ফের ব্যাটিংয়ে নামানোটা ততটাই কঠিন যতটা কঠিন পাহাড় ঠেলে স্থান পরিবর্তন করা।সাকিব আল হাসানের ইনজুরির কারণে অধিনায়কের ভাগ্য খুলে যাওয়া রিয়াদের নেতৃত্বের শুরুটা বাজে পরিস্থিতির দিকেই যাচ্ছে। শুধু অধিনায়কই নন! বাজে পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে ‘টেকনিক্যাল ডিরেক্টর’ হিসেবে আপদকালীন কোচের দায়িত্বপালন করা খালেদ মাহমুদ সুজনকেও। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকেই বলাবলি করছেন, মানের কোচ না হলে মানসম্মত খেলাসম্ভব নয়।

যদিও খালেদ মাহমুদ সুজন বাংলাদেশদলের প্রধান কোচ নন! প্রধান কোচ না থাকায় তার দায়িত্বটা চালিয়ে যাচ্ছেনসাবেক এ অধিনায়ক।বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৫১৩ রানেরবিশাল সংগ্রহের পর জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল টাইগাররা। কম রানে বেঁধে ফেলাই ছিল বোলারদের দায়িত্ব। কিন্তু তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।একটা সময়ে টেস্টে চার দিন, পরবর্তীতে পাঁচ দিন লড়াই করার মানসিকতা নিয়ে খেলতে নামা দলটি পাঁচ শতাধিক রান তুলেছে। সেটা নিয়ে তৃপ্তিতে থাকাটা তো স্বাভাবিকই।

তাছাড়া যাদের টেস্টে সর্বোচ্চ স্কোর ৬৩৮। তাদের জন্য পাঁচ শতাধিক রান করাটা সম্মানেরও তো বটেই! তবে প্রতিপক্ষ বিবেচনায় এই ৫০০ রানের স্কোর যে মামুলি বিষয় তা এই ‘ভাঙাচোরা’ শ্রীলংকা দলই বলে দিচ্ছে।মাহেলা-সাঙ্গাকারা-দিলশানের বিদায়ের পর অনভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপরনির্ভর হয়ে যাওয়া শ্রীলংকা দলও টাইগারদের চোখে হাত দিয়ে দেখিয়ে দিল ৫০০ রান করে আয়েশে-আমেজে থাকার কিছু নেই।টেস্টে রীতিমতো পরাজয়ের বৃত্তে আটকে থাকা বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালীদলকে ঘরের মাঠে হারিয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। সেই ভালো খেলার পরও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারাটা সত্যিই হতাশার। পাকিস্তানকে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা ‘আনপ্রেডিক্টেবল’র যে খেতাব দিয়েছেন। সেই বাজে তকমাটা এখন বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও হরহামেশাই ব্যবহার করছেন।যেটার মূলেই রয়েছেন সাকিব-তামিম-মুশফিকরা।তারাই পারেনধারাবাহিক পারফর্ম করে দলকে এই অপবাদ থেকে মুক্তি দিতে।সদ্য শেষ হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা তিন ম্যাচে অসাধারণ খেলার পরও দুই ম্যাচে হেরে ট্রফি হাতছাড়া। এমন দলকে আনপ্রেডিক্টেবল দল ছাড়া আর কিই বা বলা চলে!সম্প্রতি টেস্টে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডকে পরাজিত করা দলটি শ্রীলংকায় পর্যুদস্ত হলে আনপ্রেডিক্টেবল বলা ছাড়া উপায় কি আছে!