পাবনার রূপপুরে উৎসবমূখর পরিবেশে যোগদান করেছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানী লিঃ এর নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ১শ’ তরুণ প্রজন্মে মেধাবী বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা। এরমধ্য দিয়েই দেশে প্রথম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড কোম্পানীর কর্মযাত্রা শুরু হলো। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনা কাজের জন্য বাংলাদেশী দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীর লক্ষ্যে কোম্পানী প্রথম পর্যায়ে ১০০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদনের পর রোববার নির্বাচিতদের রূপপুর প্রকল্প এলাকায় যোগদানের জন্য বলা হয়। এরই প্রেক্ষিতে নির্বাচিত কর্মকর্তারা রোববার আনন্দঘন ও উৎসবমূখর পরিবেশে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানীতে যোগদান করেছেন।
কোম্পানীর অধীনে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭০ জন প্রকৌশলী, ২৪ জন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং ৬ জন প্রশাসনে রয়েছেন। প্রকৌশল বিভাগের সিভিল শাখায় ২০ জন, মেকানিক্যাল শাখায় ২৮ জন, ইলেকট্রিক্যাল শাখায় ২০ জন এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় ২ জন। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের মধ্যে পদার্থ বিদ্যায় ১৩ জন, ফলিত পদার্থ বিদ্যায় ৪ জন, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ৫ জন এবং রসায়নে ২ জন নিয়োগপ্রাপ্ত হযেছেন। প্রশাসনে মানবসম্পদ শাখায় ২ জন, অর্থ ও হিসাব শাখায় ২ জন এবং পরিবশে শাখায় ২ জন রয়েছেন। যোগদানের সময় কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর, উপদেষ্টা রবীন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী, প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের প্রধান অলক চক্রবর্তি, মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান ড. কবির হোসেন, সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুসসহ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানান, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী তরুণদের মেধা যাচাই করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পারমাণবিক প্রকল্পের সাধারণ চুক্তির অধীনে এসব নিয়োগপ্রাপ্তদের নিরাপদে ও পরিবেশ সম্মতভাবে এই পাওয়ার প্লান্টের নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য আর্ন্তজাতিক মানের দক্ষ করে তোলার জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নের চুক্তি মোতাবেক ২০১৮ সাল হতে রাশান ফেডারেশন ও ভারত সরকার এদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। প্রশিক্ষণের জন্য চলতি মাস হতেই নিয়োগপ্রাপ্তদের রাশিয়া ও ভারতে পাঠানো হবে। প্রশিক্ষণ শেষে আমাদের ছেলেরাই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ ও পরিচালনায় সক্ষমতা অর্জন করবে বলে এমডি ড.শৌকত জানিয়েছেন।
সূত্র মতে, নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিচালনার জন্য ১৯৯৪ সালের পাবলিক কোম্পানী আইন অনুযায়ী ২০১৫ সালের ১৮ই আগষ্ট ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানী বাংলাদেশ লিঃ’ নামে জয়েন্ট ষ্টক কোম্পানীর নিবন্ধন প্রাপ্ত হয়। পরে ২০১৫ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আইন ২০১৫’ প্রণয়নের পর প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য, রাশিয়ান ফেডারেশনের সহযোগিতায় পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র । ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনের মধ্য দিয়ে সরকারের সর্ববৃহৎ এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লি বসানোর কাজের ফাষ্ট কংক্রিট ঢালাইয়ের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পরমাণু বিশ্বে প্রবেশ করে।